ফেরা (অণুগল্প ১)

450a57b8c007e350b0a9966522cbd057

জীবনে কিছুই যেন পাওয়া হলো না সুবর্ণার। পড়াশোনা শেষ না হতেই অল্প বয়সে বিয়ে। গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেই সংসার নামক যন্ত্রের নিকট হার মেনে নিলো। না পারলো ভালো বউ হতে, শাশুড়ি, স্বামীকে সন্তুষ্ট করতে। না পারলো সন্তানের মা হতে। এ নিয়ে চারিদিকে কত কথা! সারাদিন একা থাকে বলে কিছুদিন একটা চাকরীর চেষ্টাও করলো। কিন্ত কোনটিই আর ব্যাটে-বলে হলো না। নিজেকে মাঝে মাঝে এ সংসারে, পৃথিবীতে অপ্রয়োজনীয় এক যন্ত্রের মত মনে হয়। নিজের সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ, অসুখ-বিসুখের কথা শোনবার মত কেউ নেই। মাঝে মাঝে মনে হয় মরে গেলেই শান্তি। কাল সারারাত ভেবেছে সে। সিদ্ধান্ত যা নেবার নেয়া হয়ে গেছে। খুব ভোরে উঠে নাস্তা বানিয়ে, খাইয়ে স্বামীকে অন্যান্য দিনের মতই বিদায় দিলো সুবর্ণা। দুপুরের রান্নাও আজ সকাল সকাল সেরে ফেললো সে। সারা বাসার প্রতিটি অংশে চুপচাপ কিছুক্ষণ কাটালো সুবর্ণা। ঘুরে ঘুরে দেখলো সেই ঘর, যার প্রতিটি অংশে রয়েছে তার হাতের ছোঁয়া। তারপর একসময় বাসা থেকে বের হয়ে এলো সে। মেইন রোড ধরে হাটছে। নির্দিষ্ট কোন গন্তব্য নেই তার। ভাবছে কিভাবে কি করা যায়। বুকটা ঢিব ঢিব করছে। ঘামছে অল্প অল্প। হঠাৎ প্রচন্ড এক আওয়াজে হুঁশ ফেরে সুবর্ণার। দেখে সামনে একটি ট্রাক আর সি এন জির ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। আহতদের চিৎকারে আকাশ কেঁপে উঠছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে কালো পিচের রাস্তা। দেখে কেমন গা গুলিয়ে উঠলো ওর। বমি পেলো। হাতের উল্টো পিঠে মুখের ঘাম মুছে দ্রুত বাসার দিকে হাটতে লাগলো সুবর্ণা।

ভাবছে পৃথিবীতে বেঁচে থাকাও আল্লাহর একটি রহমত।

মোট পড়েছেনঃ ১,০২৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৪১টি মন্তব্য

  1. তার সাথে সহমত পৃথিবীতে বাচাও তার রহমত
    হাতের উল্টো পিঠে মুখের ঘাম মুছে দ্রুত বাসার দিকে হাটতে লাগলো সুবর্ণা।চরিত্রের কতটা গভীরে চলে গেছেন…হাতের উল্টো পিঠ।

  2. সংসার বড্ড মায়ার খেলা………. অভ্যস্ততায় অনেকটা নেশা ধরে যায়!
    যাক শেষ পর্যন্ত আপনার পোষ্টে মন্তব্য দেওয়ার সৌভাগ্য হলো! 🙂

  3. সত্যিই বেঁচে থাকাটাও আনন্দের।
    বেঁচে থেকে বিভিন্ন সমস্যার উত্তরণের চেষ্টার নামই জীবন। নইলে জীবন পানসে একঘেয়ে লাগতো।

    অনলাইনে এই সাইজের গল্প পড়তেই ভাল লাগে। এর বেশি বড় হলে মজা পাই না। বড় গল্প পড়তে হয় হেলান দিয়ে কাগজের পৃষ্ঠা উলটে উলটে!!!

    গল্পে+++++++

    1. সত্যি কথা বলতে আমারও অনলাইনে বড় কোন লেখা পড়তে ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। তাইতো আপনার অণু-পরমাণু গল্পের ভক্ত আমি। এবং বলতে গেলে আপনার লেখা দেখেই অনুপ্রাণিত হয়েছি। এটিই আমার প্রথম কোন গল্প লেখা। মান নিয়ে নিজেরই যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

      যাই হোক, সাহস করে লিখলাম আর সাহস দেবার জন্য আনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

  4. এই সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে সুন্দর,
    পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া মানেই অসুন্দরের মাঝে চলে যাওয়া।

    ফিরে আসতেই হয় আমাদের অভ্যস্থ যাপিত জীবনে।
    শুভ কামনা।

  5. বেঁচে থাকাটা অবশ্যই রহমত আপু। তবু আমরা চাই সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকতে এবং দ্বিতীয়ত আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে। তাই বারবার হয়তো মৃত্যুর কথা ভাবি। বেশ হয়েছে গল্পটা আপু।

    1. অবশ্যই সুস্থ শরীর ও আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে চায় প্রতিটি মানুষ। কিন্ত সবার ভাগ্যে তো এসব থাকে না। এবং তার জন্য জীবনকে শেষ করে দেয়ারও মানে হয় না।

      জীবনের প্রথম গল্প লেখা। কি যে হলো আল্লাহই জানেন।
      অনেক ধন্যবাদ তোমায়।

  6. বেচেঁ থাকাটাই আমার কাছে জীবনের স্বার্থকতা বলে মনে হয়, মরে গেলাম তো সব শেষ, জীবনকে যদি যুদ্ধের মাঠ ভাবি তাহলে সেখানে লড়াই করাটাই জীবন।

    অনেক ভালো লাগল আপু।

    1. যুদ্ধ করতে করতে হাঁপিয়ে গেলেই তখন পালানোর মনোভাব জাগে। মানসিক শক্তি কি সবার একরকম থাকে?

      মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  7. সম্মানিত নীহারিকা জান্নাত দিদি।

    দিদি আপনি ঠিক আমার পরিচিত একটা মেয়ের কথাটাই তুলে ধরেছেন দিদি। আমার সেই পরিচিত মেয়েটারও একই অবস্থা দিদি।

    ভালো লেগেছে, আবার কষ্টও হচ্ছে।

    1. কিজানি, হয়তো আমাদের আশে-পাশেই এমন অনেক চরিত্র আছে যাদের জীবন এমন।
      তাদের জীবনযাপর সহজ হোক, আনন্দময় হোক এই কামনা করি।

      দাদা ধন্যবাদ আপনাকে।

  8. যে কোনো পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার মতো মন-মানসিকতা যাদের, তাদেরকে আমি খুবই পছন্দ করি।
    জীবন যেমন না-পাওয়ার আবার অনেক পাওয়ারও। ভালো লেগেছে গল্প। দারুণ উপস্থাপনা।

    ওহ ছোট্ট একটা কথা বলে নেই, পৃথিবীতে ভালো স্ত্রী আর ভালো স্বামীর সংজ্ঞা নেই কিন্তু। 😀
    ভালো থাকুন আপা।

    1. আপা সহ্য করতে করতে হয়তো একসময় মানসিক শক্তি ভেংগে পড়ে। তখনই হয়তো কেউ চলে যাবার/সরে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়।

      আর হ্যা, আমার জানা মতে যে বউ যত ভালো রান্নাবাড়া, ঘরের কাজ জানে সেই ভালো বউ। যদিও ভালো বউয়ের সার্টিফিকেট পাওয়া মানুষের দেখা পাওয়া যায় না 🙂

      যাই হোক, আপা ধন্যবাদ আপনাকে।

  9. কখন যে কার কি পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় কেউউ জানে না। জীবন যেন বেলুনের ভেতর বাতাস। ফিরে আসাটাই বরং ভাল ছিল। চর্চা চালু থাকুক। ভালো কিছু পাব আমরা।

    1. জি ভাই/বোন (আপনি ভাই নাকি বোন জানিনা) ভবিষ্যতের কথা কেউ বলতে পারি না। তবে যে কোন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে শক্ত থাকা খুব জরুরী।
      গল্প লেখা জাস্ট শুরু করেছি। দেখা যাক পারি কি না।
      অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

  10. সাবাস!
    সুবর্না ফিরেছে। জীবনের একটা অর্থ বা ভালোলাগা খুঁজে পেয়েছে। এমন হাজারো সুবর্না-সুবর্নেরা তাদের পানসে একঘেয়ে জীবনে নুন-ঝাল-মিষ্টি-টকের ছোঁয়ায় ফিরে আসুক এবং জীবনকে পাক সেই আশাবাদই ব্যক্ত করছি।
    ভাল লেগেছে লেখাটি।

  11. সংসারের মায়া বড মায়া আপু। ফিরে আসতেই হয়।
    হাজারটা না পাওয়ার মাঝে একটা পাওয়াই পুরো জিবনটাকে চালিয়ে নিয়ে যায়।
    আর সুস্হ ভাবে বেচে থাকাটাই আসল।
    ছোট কিন্তু অনেক ভাল লেখা।

    1. সংসারের মায়ার টানে আর জীবন যুদ্ধে পরাজিত না হবার আকাঙ্ক্ষাই সাহসী করে তুলেছে সুবর্ণাকে।

      আপনাকে ধন্যবাদ আপা।

  12. দয়ালের দয়া ছাড়া, বেঁচে থাকা দায়! তার দয়ায়-ই আমার জীবন চলা।

    ভালো লিখেছেন দিদি, লিখা পড়া খুব ভালো লেগেছে।

    ধন্যবাদ আপনাকে, ভালো থাকবেন দিদি ।

মন্তব্য করুন