মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের সর্বশ্রেষ্ট সৃষ্টি মানুষ। মানুষের মধ্যে রয়েছে প্রেম প্রীতি, স্নেহ, মায়া, মমতা, শ্রদ্ধা ভালোবাসা। রয়েছে সুখে দুঃখে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মতো মমত্ববোধ, দায়িত্ববোধ। তাঁদের হৃদয়ে বসবাস করছে নৈতিক, মানবিক গুণাবলী এবং ধর্মীয় আবেগ ও অনুভূতি। পার্স্পরিক সৌহার্দ্য ভ্রাতৃত্বের অনন্য সুন্দর মেল-বন্ধনে গড়ে উঠেছে পরিবার সমাজ আর দেশ। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় সমাজে দেখা দিয়েছে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। মানুষের মনে ভর করেছে লোভ লালসা, হিংসা বিদ্বেষ, অশুভ, অসম এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিযোগিতা। দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন সম্পত্তির কারণে পুত্রের হাতে মাতা পিতা, ভাইয়ের হাতে ভাই বোন, চাচার হাতে ভাতিজা, ভাতিজার হাতে চাচা, ফুফু খুন হচ্ছে, জখম হচ্ছে, মামলা-মোকদ্দমা সহ কত ধরণের লড়াই হচ্ছে তার অনেক খবর পত্রিকার পাতা উল্টালেই বা ইলেট্রনিক মিডিয়ার কারণে আমাদের নজরে আসছে।কিন্তু কত নির্যাতনের ঘটনা যে আমাদের চোখের আড়ালে রয়ে যাচ্ছে তার হিসেব কে রাখে !
একান্নবর্তী বা যৌথ পরিবারের ভাঙ্গন, নিজের স্বার্থকে অন্যের ওপর প্রাধান্য দেয়ায়।দিন দিন পার্স্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব এবং প্রাণের ও আত্মার বন্ধন বা টান ক্রমশ কমে যাচ্ছে বা আলগা হয়ে পড়ছে। আমরা আমাদের মনের পশুত্বকে দমন করতে পারছি না। পারছিনা ঈর্ষা হিংসা বিদ্বেষ থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখতে। ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ী অনেকেই তাঁর ন্যায্য হিসসা পাচ্ছেনা বা দিচ্ছেনা। জায়গা জমির মূল্য বৃদ্ধি, ভূমি দস্যুদের অপতৎপরতা, সমাজে বাহুবলের কদর্য প্রদর্শন, অসৎ পথে আয়কারীদের দম্ভ, প্রভাব প্রতিপত্তির দাপট সর্বোপরি নৈতিক, মানবিক, ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব ইত্যাদি কারণেও পারিবারিক অশান্তি এবং অস্থিরতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি ফেইসবুক টুটাইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি অতি আসক্তি বা অপব্যবহার সমাজে মানুষকে এবং পরিবারকে একে অপরের থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। ইন্টারনেটের অপ-ব্যবহার, আগ্রাসী আকাশ এবং অপ-সংস্কৃতিও কম দায়ী নয়। সঙ্গে যোগ হয়েছে মাদকাসক্তির কুফল। এমতাবস্থায় আমাদেরকে অবশ্যই নাড়ীর টান বা বন্ধনকে হৃদয়ের উষন্নতা আন্তরিকতা মমত্ববোধ এবং সৌজন্যতা দিয়ে উজ্জীবিত করতে না পারলে, আত্মার সেই বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে না পারলে পারিবারিক সহিংসতা বা অস্থিরতা কমানো বা ঠেকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আসুন লোভ লালসার ঊর্ধ্বে মনুষ্যত্বকে, আত্মার বন্ধনকে স্থান দেই। এবং পারিবারিক বন্ধন আলগা নয় সুদৃঢ় করি। মানবতার জয় হোক।
*ছবি- গুগল।
পৃথিবীর অধিকাংশ সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে চাওয়া পাওয়ার হিসাব। তাই এরকমটা হওয়াটা সম্ভব। ধন্যবাদ।
হ্যাঁ ভাইয়া ঠিক বলেছেন — “পৃথিবীর অধিকাংশ সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে চাওয়া পাওয়ার হিসাব’। শুভ কামনা রইল।
দারুন বাস্তবতা। কিন্তু এর অবসান হওয়া তো দুরের কথা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। তবুও চাই প্রেম, ভালোবাসা, সহমর্মিতা বাড়ুক পরিবারে। শুভ কামনা।
আপা আমাদের সকলেরই চাওয়া — “তবুও চাই প্রেম, ভালোবাসা, সহমর্মিতা বাড়ুক পরিবারে”। ধন্যবাদ ।
আমাদের সমাজ থেকে দিনদিন এই সম্পর্কটা হারিয়ে যাচ্ছে। তবে পারিবারিক বন্ধন একটা সমাজকে তথা রাষ্ট্রকে একটি মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে।
খুব চমৎকার মন্তব্য করেছেন — “তবে পারিবারিক বন্ধন একটা সমাজকে তথা রাষ্ট্রকে একটি মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে”।
শুভ কামনা।
পারিবারিক আত্মীয়তার বন্ধন ভাল করা ছাড়া মানবতা আশা করা যায় না।সম্পর্কের গভীরতা যত বুঝতে পারব ততই মঙ্গল ।।
চমৎকার উপস্থাপনা।
আপনার সুন্দর মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া — “পারিবারিক আত্মীয়তার বন্ধন ভাল করা ছাড়া মানবতা আশা করা যায় না।সম্পর্কের গভীরতা যত বুঝতে পারব ততই মঙ্গল” ।।
সামাজিক অবক্ষয়, ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়, নৈতিকতার অবক্ষয়, মনুষ্যত্ব এর অবক্ষয় সবকিছু মিলিয়ে আজ আমরা অসভ্য থেকে অসভ্যতর জাতিতে পরিণত হয়েছি। পারিবারিক বন্ধন আজ ছিন্নভিন্ন, সম্পর্ক গুলো স্বার্থের তরে বলি হয়েছে। অফুরন্ত শুভকামনা রইলো। শুভ রাত্রি
বাস্তব কথা বলেছেন দিদি — “পারিবারিক বন্ধন আজ ছিন্নভিন্ন, সম্পর্ক গুলো স্বার্থের তরে বলি হয়েছে”।
প্রীতিময় শুভেচ্ছা রইল।
বর্তমান বাস্তবতার চিত্র সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় মানুষ মানুষকে কি করে হত্যা করে। তাও খুব কাছের প্রিয় মানুষকে। আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। শিকড়ের যেটুকু অবশিষ্ট আছে তার পচন রোধ করা না গেলে সামনের দিনগুলো ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। শুভ কামনা রইলো।
আপনার চমৎকার মতামতের জন্য অশেষ ধন্যবাদ — “আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। শিকড়ের যেটুকু অবশিষ্ট আছে তার পচন রোধ করা না গেলে সামনের দিনগুলো ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে”।
প্রীতিময় শুভেচ্ছা নেবেন।
শিকড়ের টান আসল। এই বন্ধন দৃঢ় করা ছাড়া উপায় নাই।
শুভ কামনা
সঠিক বলেছেন আপা — ঃশিকড়ের টান আসল। এই বন্ধন দৃঢ় করা ছাড়া উপায় নাই”।
ধন্যবাদ।
একান্নবর্তী পরিবারের ধারণাটি ক্রমেই উঠে যাচ্ছে।
যা ভাল কিছু বহন করছে না, যদিও আগের সেই পরিবেশ পরিস্থিতি অনুপস্থিত। চাওয়া পাওয়ার প্রাধান্য।
হ্যাঁ ভাইয়া ঠিক বলেছেন— “একান্নবর্তী পরিবারের ধারণাটি ক্রমেই উঠে যাচ্ছে”। বলতে গেলে উঠেই গেছে।আমার মনে হয় মূল বিপর্যয় এখান থেকেই শুরু। শুভ কামনা রইলো।
লেখাটি ভালো লেগেছে।
শুভ কামনা 🌹🌹
অসংখ্য ধন্যবাদ আপু লেখাটি আপনার ভালো লাগার জন্য।