শাহজাহান দৌড়ছে,দৌড়ে চলছে,আর একটু পর আড়িয়াল খা নদীটা পার হলেই কিশোরগঞ্জের সীমানা পেরিয়ে নরসিংদীতে ঢুকে পড়বে,তারপর কোন দিকে জানে না।আতাউরের মনে হচ্ছে সে আসলে দৌড়ছে না,জীবন থেকে পলায়ন করছে।
আব্বু বলতো,”জীবনের থাইকা যহন সময় চইলা যায়,তহন মনে অয় জীবন খুব ছোডো,তার আগে নাগাদ জীবন বড় মনে অয়”।এখন তাই মনে হচ্ছে, জীবন খুব ছোট।আমি তো মাত্রই আমার জীবনের খুব কাছের মানুষকে ছেড়ে এলাম।আসব না? সে আমার আশ্রয় ছিল,আমার সমস্ত সুখ তো সে ই ছিল।তাও কেন আমার জন্য অপেক্ষা করতে পারল না।মানুষ তো বাড়িতে আশ্রয় পায় কারণ বাড়িতে তার জন্য কেউ একজন অপেক্ষা করে।সে অপেক্ষা যে অনেক মধুর, আর যার জন্য অপেক্ষা করে তার জীবন ও তখন মধুময় হয়।সে এই বিপদের দিনে কিছু দিন অপেক্ষা করতে পারল না? মানুষ বছর ধরে অপেক্ষা করে প্রিয় জনের জন্য।আর তার সইল না! তাই যা,আমাকে ছেড়ে যার কাছে সুখ খুজছিলি,তার কাছে এবার কাটা হাত পা নিয়ে সুখ খোঁজ। আমারও খুব কষ্ট হইছে রে তোরে মারতে,হবে না? কত আদরের ছিলি আমার কাছে!
বাড়ি বন্ধক রেখে বিদেশে গেলাম, আর তো কিছু ছিলই না।আমার মত লোকের তুই ছাড়া আর কি আছে,সে তুই ই আমার সাথে থাকলি না! তাই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না।মেরে দিলাম তোকে, কিন্তু তোর সাথে আমার গ্রামটিও হারালাম রে।
আমার এখন নিজের নাম নিতেও ঘেন্না লাগছে।কেউ আমাকে ‘সালমা ‘বলে ডাকলেও জিদ উঠতেছে।হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও যে জ্বালা কমছে না। আমাকে কত ভাল বাসতে আর আমি এই প্রতিদান দিলাম! আর কিই বা করতে পারতাম? তুমি বিদেশে চলে যাবার পর টানা ৩ মাস খোজ নাওনি,দাওনি।আমি একা কতদিন চলতে পারি? এত সাহস পাইনি তো,একা মানুষ! অনেকে তখন বলাবলি শুরু করে যে তুমি নাকি অবৈধভাবে যাওয়ার সময় সাগরডুবিতে মারা গেছো। টানা ২ মাস অপেক্ষার পর এক সময় মনে হল হয়তো সত্যিই!!
বেলাল আমাকে আগে থেকেই পছন্দ করতো,যখন সবাই মেনে নিল তুমি আর নাই।তখন সে আবার আমাকে চাওয়া শুরু করে।ভাবলাম, এখন তারই ঘর করতে হবে।সেও আমার কাছে আসা যাওয়া শুরু করে আমাকে তার খুব কাছে নিয়ে নেয়।আমিও তার কাছে হেরে গেলাম।সবাই আবার বলা শুরু করল আমি তাকেই অনেক কিছু করে ফেলছি।আমি কিন্তু একবারই করেছিলাম।বিয়েই তো করবো।
তখনই তুমি এলে।আমি কেন! সবাই ই তো অবাক। তখন তুমি আমার সাথে বেশি ন্যাকামি করে কথা বলা শুরু করলে।তারপর আমাকে আমাদের ছোটো উঠানে চোখ বেধে দাড় করিয়ে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে গেলে।
এখন আমার বেচে থাকাই দায়।এই বেচে থেকেই কি হবে এখন?
সোনেলায় স্বাগতম আপনাকে।
আপনার নাম বাংলা অক্ষরে লিখুন প্লিজ।
ধন্যবাদ
সোনেলায় স্বাগতম। কারও মৃত্যু সংবাদ কখনওই শুভ হতে পারেনা। শাহজাহানের মৃত্যুর খবর শুনেই সালমা হয়তো নিজের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বেলালের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল।
তবে এ কেমন ভালোবাসা?
গল্প ভালো হয়েছে। টুকটাক বানান, লেখার স্পেস এসবের দিকে খানিক লক্ষ্য রাখুন। নিয়মিত লিখুন।
ভালোবাসা কখন কোনদিকে যায় কে জানে! আমিও জানিনা।ধন্যবাদভাই।
সোনেলায় স্বাগতম। হৃদয়বিদারক গল্প। ভাগ্যের পরিহাসে জীবিত ব্যক্তি মৃত হয় কিন্তু সেতো মরেনি। শেষটুকু খুব নির্মম । ধন্যবাদ ভাইয়া। শুভ কামনা রইলো
ধন্যবাদ আপু
সোনেলায় স্বাগতম। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এমনি হয়।
ধন্যবাদ ভাই
সোনেলায় একটি গ্রুপ পেইজ আছে জয়েন না করে থাকলে করে নিন।আপনাদের সব লেখাগুলো সেই পেইজে সেয়ার হয় এবং সেয়ার করবেন।ধন্যবাদ।
https://www.facebook.com/groups/122120001277744/?ref=bookmarks
সোনেলা পরিবারে স্বাগতম আপনাকে
মর্মান্তিক গল্প। নিয়তির নির্মম পরিহাসে কতো সহস্র প্রাণ এভাবেই বলি হয়। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে
কিছু লোক আবার পাঞ্জা লড়ার আগেই পটল তুলে।কার জীবন কিভাবে যাবে কে জানে!
ধন্যবাদ
ভাই এমন হৃদয় ছোঁয়া বিয়োগান্তক গল্প নিয়েই শুরু করলেন? কেমন যেন কান্না এসে গেলো। সত্যিই আমাদের সমাজে এমন ঘটনা অহরহই ঘটে। অথচ আমরা তার ক’টাই বা জানি ?
হ্যা ভাই, মাথায় যেটা ঘুরপাক খাচ্ছিল,তাই দিয়েই শুরু করেছি। এমন অনেক ঘটনা আমাদের অগোচরে ঘটে চলছে।আমাদের সময়ই তো মিলে না কারো খোজ রাখার।ব্যস্ততম মানুষ আমরা।ধন্যবাদ।
সোনেলায় স্বাগতম
মর্মান্তিক এক গল্প নিয়ে আসছোস, ভালো লাগছে খুব, নিয়মিত লেখার চেষ্টা করিস
জ্বী ভাই,দোয়া কইরেন।
ধন্যবাদ
স্বাগতম সোনেলার উঠোনে,
নিজে লিখুন, অন্যের লেখাও পড়ুন।
* এই পোস্ট প্রকাশের কমপক্ষে চব্বিশ ঘন্টা পরে পরবর্তি পোস্ট দিন। আপনি নতুন, তাই এই নিয়মটা জানালাম।
শুভ কামনা,
শুভ ব্লগিং
ধন্যবাদ
জীবনের টানা পোড়েনের গল্প। সোনালায় আপনাকে সু-স্বাগতম।
আমি নরসিংদীর পাবলিক আপনি কি কিশোরগঞ্জের নাকি নরসিংদীর?
আমি কিশোরগঞ্জের,ধন্যবাদ
ধন্যবাদ ভাই, ভালো থাকুন সব সময়।
অভিনন্দন সোনেলায়।
দারুন উপভোগ্য গল্প। টানাপোড়ন নিয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতা ভালো লেগেছে ভাই।
ধন্যবাদ ভাই।
অভিনন্দন সোনেলায়।
দারুন। জীবনের কঠিন বাস্তবতা, ভালো লেগেছে ভাই।
ধন্যবাদ