নীলার ডায়েরী ১

প্রতিদিনের মতো আজও বেশ ভোরে ঘুম ভেঙে গেল নীলার , খুব সকালের সিগ্ধতা বরাবরই তাকে আকর্ষণ করে।

সে প্রকৃতির এই একান্ত নিরিবিলি সময়টাকে উপভোগ করার জন্য প্রতি ভোরে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়ে।পুব আকাশের লালচে আভা ,পাখীদের নীড় ছেড়ে ঝাঁক বেধে দুরে ছুটে চলা।অদ্ভুত শুনশান নিরব চারপাশে হঠাৎ দু এক পশলা পাখিদের মিষ্টি মধুর ডাক।
তবে বেরসিক কাকেদের কর্কশ আওয়াজ বেমানান হলেও সেই সময় অন্য রকম মাত্রা পায় বৈকি ।

সারারাত ধরে বিন্দু বিন্দু জমে শিশির।সকালে ঘাসের ডগায় কুমারী শিশিরে হাত পড়তেই টুপটাপ ঝরে পড়ার আলাদা একটা ছন্দ খেলে যায়।শামুকেরা সেই ঘাসের ডগায় ছন্দ তুলে হেটে চলে ধীরে ধীরে।শিশির ভেঙে বেশ এগিয়ে যায় অনেকটা আপন মনে নিরবিচ্ছিন্ন, নির্ভয়ে।

স্বস্তিদায়ক ফুরফুরে বাতাসে নীলা দুহাত মেলে ধরে ,কিছু অজানা অচেনা ফুলের সুগন্ধে শ্বাস নেয় বুক ভরে ,হঠাৎ যেন হৃদয়ের অলিন্দে সুর খেলে যায় । আনমনে গেয়ে ওঠে গান ….
আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে
শাখে শাখে পাখি ডাকে
কত শোভা চারিপাশে
শাখে শাখে পাখি ডাকে
কত শোভা চারিপাশে
আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।

এর ফাকে আলোরা গাড়ো হয়ে আসে ।মসজিদ থেকে গোটা কয়েক মুসুল্লী নিয়মিত অভ্যাসে শান্ত হয়ে হেটে চলে গন্তব্যে।বোবা প্রকৃতিতে ধীরেধীরে শব্দের কথামালা বিস্তার লাভ করতে থাকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ।নীলা ও ঘরে ফিরে আসে দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যস্ততায় যোগ দিতে।

 

মোট পড়েছেনঃ ৭৭০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৪টি মন্তব্য

  1. সারারাত ধরে বিন্দু বিন্দু জমে শিশির।সকালে ঘাসের ডগায় কুমারী শিশিরে হাত পড়তেই টুপটাপ ঝরে পড়ার আলাদা একটা ছন্দ খেলে যায়।শামুকেরা সেই ঘাসের ডগায় ছন্দ তুলে হেটে চলে ধীরে ধীরে।শিশির ভেঙে বেশ এগিয়ে যায় অনেকটা আপন মনে নিরবিচ্ছিন্ন, নির্ভয়ে। কাকেদের কর্কশ কন্ঠ শুনলে আমার মাথা ধরে যায়। আপনার লেখায় সুন্দর একটা প্রকৃতি খুঁজে পেলাম। ধন্যবাদ ভাইয়া শুভ কামনা রইলো

    1. এতো সুন্দর মন্তব্যে কার না প্রাণ ভরে। পরের পর্ব লেখা হয়ে গেছে ,মনে হচ্ছে এখনই পোষ্ট দেই্।
      শুভকামনা রইলো্ ভাইয়া। ভালো থাকুন সবসময়।

  2. নীলার তাহলে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যেস, আমারও তাই। দেখা হয়ে যেতে পারে যে কোন সময় দু’জনার…..চালিয়ে যান আছি সাথে।

মন্তব্য করুন