মূল লেখায় যান

ধানসিঁড়ির বুক জুড়ে (৩)

ছাইরাছ হেলালএকান্ত অনুভূতি৩২টি মন্তব্য

 

অপূর্ণ ভোরে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছি
ধানসিঁড়ির গা-ঘেঁষে,
প্রকাণ্ড শিরীষের পাখা বেয়ে
বিরতীতে বিরতীতে ধীরে ধীরে,
শিশির চুইয়ে পড়ছে নরম নরম ভাবে
ক্ষীণতম শব্দ-তান তুলে টুপ টুপ করে,
খিন্ন গোল গোল ঢেউ তুলছে জড়িয়ে গড়িয়ে;
ঐ যে দিগন্ত-সূর্য উঁকি দেয়ার তাল খুঁজছে
উঠি উঠি করে, অপেক্ষার আগল ভেঙে।

অপেক্ষার এমন মোহন সৌন্দর্য-শব্দদের কালে
হঠাৎ এক-ধাড়ি-অসভ্য শব্দ তুলে,
একটু খানি পাড় ভাঙছে ব্যর্থ প্রচেষ্টায়, ভাঙনের সিঁড়ি
জেগে উঠার বিফল চেষ্টা, এক হীন-মজুরের কাঁধে চড়ে;

জোড়া টুনটুনি আর বাবুইয়ের বাসা
বাতাসে নিগুঢ় হয়ে ঐ যে দোল খাচ্ছে;

শুয়ে আছি ধানসিঁড়ির বুক জুড়ে
তীর ঘেঁসে বৃষ্টি-হীনতার খরতাপে
অপেক্ষার হাত ধরে।

——————————————————————-

মন্তব্য দেব, নেবো-ও,
খিন্ন-বিরতীটুকু মার্জনায় আগলে রাখুন।
নগদে দোয়া করুন, দোয়ায় রাখুন।

মোট পড়েছেনঃ ৮২৭জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৩২টি মন্তব্য

  1. লেখকের একান্ত অনুভূতি পাঠকে বুঝতে হলে কয়েকবার পড়তে হবে তারপর মতামত।
    আমি পাঁচবার পড়েছি প্রায়য় মুখস্থ করে ফেলছি।

    শুয়ে আছি ধানসিঁড়ির বুক জুড়ে
    তীর ঘেঁসে বৃষ্টি-হীনতার খরতাপে
    অপেক্ষার হাত ধরে।
    .
    ধানসিঁড়ির বুকে বৃষ্টি আসুক,
    কবি আজ অপেক্ষারত।
    খরতাপের গায়ে লাগুক শান্তি সুধাবারি।
    ..
    ভালো লাগলো দাদা।

    1. বাহ্‌, আমার লেখায় এই প্রথম অনেক কষ্ট করে পড়ে সুন্দর মন্তব্য প্রথমেই দিলেন।
      অনেক অনেক ধন্য বাদ।
      বৃষ্টির জন্য অপেক্ষার আনন্দ নিয়েই লেখক অপেক্ষা করতে পছন্দ করে।

  2. সু স্বাগতম…… কোথায় যে হারিয়ে গিয়েছিলে!! আমি কত্ত জায়গাতে খুজলাম!!!
    ফেসবুক, ব্লগ, ইন্সটাগ্রাম আরো কত পাইজে!!!!

    এখন বলেন মনে মনে ও মানুষ কবিতায় কথা বলে!

    1. হারানোর কাছে থেকে একটু ঘুরে আসলাম, হারালে কি আর কেউ খুঁজে পায়!!
      আর আপনারা খুঁজছেন বলেই তো ফিরতে পারলাম।
      আসলে মানুষের মন তো কবিতার মতই, তাই সে কবিতায়-ই কথা বলে, হয়ত সে ভাষা আমরা বুঝতে পারি না।
      ভাল থাকবেন আপনারা।

      নূতন যা হোক কিছু একটা লিখে ফেলুন। পড়ি একটু। কতদিন পড়ি না।

      1. জীবনে রক্তের সম্পর্ক ছাড়া ৪/৫ জনকে জানার সাধ্য হয়েছে। এদের মধ্যে ২/১ জন বাদ পরে গেছে। বাকি গুলোকে হারাতে চাই না তাইতো খুজি। এদের সারাজীবনই ধরে রাখার পণ করেছি 🙂

  3. আগলে রাখা শিশির কণা
    বাস্পে পরিণত হতে কত দেরি ?
    বৃত্তে জন্ম ,বৃত্তেই ফেরা
    বৃত্তবন্দী জনমের শেকলে
    আটকে থাকা ধানসিঁড়ির,
    অপলক অপেক্ষায় উপহাসের সূর বাজে
    বড্ডো বেসূরো তালে।
    ভাঙনের সিঁড়ি পথহারা পথিকের দখলে….

  4. ভালো লাগছে।
    শুয়ে আছি ধানসিঁড়ির বুক জুড়ে
    তীর ঘেঁসে বৃষ্টি-হীনতার খরতাপে
    অপেক্ষার হাত ধরে।
    —
    যদি আমি পারতাম এমন একটা লাইন লিখতে!

    শুভ কামনা

  5. কেমন আছেন ভাইজান?অপেক্ষার শেষ আছেই তাইতো আবারো এলেন রোগশোক কাধে নিয়ে।দোয়া রাখি দোয়া করি পুরো ভোরটির যেন দেখা পাই অবিরত অনন্তকাল।
    চমৎকার কবিতা।

  6. অপেক্ষার এমন মোহন সৌন্দর্য-শব্দদের কালে
    হঠাৎ এক-ধাড়ি-অসভ্য শব্দ তুলে,
    একটু খানি পাড় ভাঙছে ব্যর্থ প্রচেষ্টায়, ভাঙনের সিঁড়ি
    জেগে উঠার বিফল চেষ্টা, এক হীন-মজুরের কাঁধে চড়ে।

    বিমোহিত হলাম ভাইজান।
    এখন কেমন আছেন, সবার মনে রাখতে হবে, আগে নিজেকে ঠিক রাখতে হবে, এরপর সব করা যাবে, ভালো থাকবেন ভাইজান।

  7. দিগন্তে সূর্য আসবেই বরাবরের মত সুন্দরদের সাথে নিয়ে।
    মজুর হয়েছে রাজা, তার প্রজারা এতেই খুশি।
    বাবুইয়ের বাসা শত ঝড়েও টিকে থাকে।

    শুভ প্রত্যাবর্তন,
    দোয়ায় ছিলেন সারাক্ষণই, থাকবেনও……

  8. প্রানের ধানসিঁড়ি। এখনও মনে হয় ট্রলার নিয়ে সেদিন ঘুরে এলাম মোল্লা বাড়ির ঘাটে। এখন সেখানে ধান চাষ হয়। নদী নাই। এখন ধানসিঁড়ি বেঁচে আছে কবিতায়। ভালো লিখেছেন ভাই। অসাধারন।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।