টেলিকম, গ্রামীণফোন এবং প্রতাড়না !

গ্রামিনফোনের নতুন বিজ্ঞাপন টা দেখতেছি কিছুদিন ধরেই। বাহারি এক বিজ্ঞাপন, নাম দিয়েছে ‘দেয়ার খুশি’
তো বিজ্ঞাপনের মুলকথা হইল আপনি আপনার ফেলে রাখা স্মার্টফোন টি আমাদের দিন। আমরা আরো ৫০০ টি (সংখ্যাটা মনে রাখুন, পরে হিসাবে লাগবে) সহ সেগুলো সুবিধাবঞ্চিত সম্ভাবনাময় এন্টারপ্রেনারদের কাছে পৌছে দেব।
অতি উত্তম প্রস্তাব। কিন্তু এইখানে আমার দুইখান প্রশ্ন আছে,
১. বাংলাদেশের কয়জন লোকের কাছে দিয়ে দেয়ার মত সম্পূর্ণ সচল ভাল অবস্থায় অতিরিক্ত স্মার্টফোন আছে?
২. যাদের আছে, (ইয়ে মানে, আমাদের মত আমজনতা না আরকি) তাদের কয়জন আসলে বাংলা চ্যানেল দেখে? আই মিন কয়জনের কাছে মেসেজটা পৌছাচ্ছে?

এইবার আসি শুভংকরের আসল ফাকিতে,
টিভিসি টার সময় হইল ১মিনিট ৩সেকেন্ড, কেটেকুটে ধরলাম ৫০ সেকেন্ড কমসেকম দেখায়।
বাংলাদেশেরর সব টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের হার মোটামুটি এক ই। (বিটিভি নামক উচুতলার চ্যানেলের রেট বেশি, তাই হিসাব থেইকা সে কাটা)।

অফ পিক সময়ে ১০ সেকেন্ড ৪ হাজার।
তো অফ পিক সময়ে প্রতিবার বিজ্ঞাপন দেখাতে গ্রামিনফোন গুনছে ২০,০০০ টাকা। (পিক আওয়ার আর নিউজ টাইম বাদই দিলাম, সেই হিসাব শুনলে মাথা ঘুরে যেতে পারে)

সারাদিন এই বিজ্ঞাপন কোন চ্যানেলে ১০০ বারের কম দেখায় না। (এক্টু আগে খেতে বসেই চ্যানেল আই তে ৩বার দেইখা ফেলছি, তাও নিউজ এর মধ্যে)
তো চ্যানেলপ্রতি এই বিজ্ঞাপন দেখাতে প্রতিদিন গ্রামিনফোনের খরচ দাড়ায়,
২০০০০X১০০= ২০,০০,০০০ (বিশ লক্ষ টাকা)
আর ১০ চ্যানেলে দেখালে আরেকটা শুন্য বাড়িয়ে নিন। জী, ২,০০,০০,০০০/-, মাত্র দুই কোটি টাকা (এইটাই সবচে কম, পিক আর নিউজটাইম ধরলে ৩কোটির কম হবে না)
খুব ভাল কথা।

তো আমার কথা হইলঃ-
১. দুই মাসে এই বিজ্ঞাপনের পেছনে গ্রামিনফোনের যে ১২০ কোটি টাকা খরচ হইল(মেকিং বাদে, শুধু প্রচারে) তাহা কাহাদের টাকা মহাশয়?

২. আমজনতার ১২০ কোটি টাকা খরচ করিয়া কয়খানা পুরাতন স্মার্টফোন পাওয়া গেল তাহা কিভাবে জানা যাইবে?

৩. প্রতিটি মোটামুটি মানের যাহা দিয়া আমার মত গরিবের ইন্টারনেট সহ অন্যান্য কাজ, অকাজ ভালভাবেই চলিয়া যায় তাহার গড় দাম যদি ১৫০০০ ধরি (গ্যাজেট ফ্রিকরা দুরে যান, তানিয়াগো কেউ আইফোন সিক্স দিব না দেওনের খুশির লইগা) তাইলে ১২০ কুটি টেকায় কয়টা স্মার্টফোন কেনা সম্ভব?

১২০,০০,০০,০০০/১৫,০০০= ৮০,০০০(আ আ শি হাজার)
জী, আপনি ভুল শোনেননি, আশি হাজার জনকে স্মার্টফোন দেয়া যায় খালি দুই মাস এই বিজ্ঞাপনের টাকায়। আর শালারা দিবে ৫০০।
আর তাই এমুন মাইকিং করতাছে ভাবখানা মনে হয় কি না জানি কি!
আসলে কর্পোরেট দুনিয়াডাই এইরকম
“কাজের কাজে নাই
আসেন চাপা পিটাই”
হাজার বছর সোজা নল এর মধ্যে রাখলেও কর্পোরেট দুনিয়ার লেজ কোন দিন সোজা হবেনা
(মিডিয়া ডেকে দান করা) 🙂

মোট পড়েছেনঃ ৬৮০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২২টি মন্তব্য

    1. আশির দশক থেকে পুরা পুরি ভাবে , ইমোশনাল ব্লেক্মেইলিং হয়ে গেছে ব্যাবসার মূল পাথেয়। ভাবতেই অবাক লাগে এদের সামাজিক দায়িত্ব পালনের ধরন দেখে।
      আর ভাবতেই কেমন লজ্জা লাগে, গ্রামীণ ফোনের প্রতি পাই পয়সা থেকে ইউনূস সাহেব এখনো কমিশন পান 🙂

      1. আসেন ভাই :T খাই। এইসব কর্পোরেট হিসেব নিকেশ করতেও যে মেগাবাইট যায় তাও কর্পোরেট দুনিয়ার পেটেই যায়…

        আমার এইদিকে ফ্রি থাকলে বলেন :T পানে কর্পোরেট দুনিয়ার (-3 পান করি :p

  1. জানলাম।
    আর এক কর্পোরেটের কথা এখানেই পড়েছিলাম।
    ম্যাগি নুডুলস আমরা কিন্তু খাচ্ছি, টেস্টের রেজাল্ট কিন্তু আমরা জানতে পারিনি।

  2. ভালো গবেষনা এবং ভালো একটা পোস্ট দিয়েছেন ভাইয়া। এই শুভংকরের ফাঁকিমার্কা তথ্যের বেশি বেশি প্রচার প্রয়োজন।
    চাপার এখন উলটা ব্যবহারের সময় এসেছে। থ্যাংকস ইমন ভাই। 🙂

  3. ভাই এটাই হচ্ছে বিজনেজ। নিঃস্বার্থ ভাবে ৫০০ কেন ৫০ টা মোবাইল দিলেইতো তার ব্যাবসার লস… তারা বিজনেজ করতে আসছে… প্রতারনা না করলে মোটা অংকের প্রফিট আসবে কোত্থেকে????

মন্তব্য করুন