গণ্ডমূর্খদের মাস্ক বা সাবধানতা নিয়ে ধারণা

সেদিন অফিস থেকে বের হয়ে স্টেশনের উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে আসছি। হঠাৎ কানে পড়লো যারা মুখে গোমাই(মাস্ক) পরে বের হয়েছে তারা আল্লাহকে ভয় নয় করোনাকে ভয় পাচ্ছে। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস নেই।

প্লাটফর্মের গা ঘেঁষে দেওয়া একটি দোকানে কয়েকজন বসে আছে। কথা গুলো তারাই বলছে। বুঝতে পারলাম আমাকে দেখেই বলছে। কারণ ঐ সময় আর কেউ ছিলো না ওখানে যে মাস্ক পরে ছিলো। থমকে দাঁড়ালাম। পিছনে ফিরে তাকালাম। মনে হলো সামনে গিয়ে কথা বলি। ওদের বলা প্রত্যেকটা কথার যথার্থ উত্তর দিই। কিন্তু সেদিন কথা বলতে ইচ্ছে করছিলো না। প্রচণ্ড ক্লান্তিতে কথা বলার ইচ্ছেশক্তি হারিয়েছি। অসুস্থ শরীরে রোজা রেখেছিলাম তাই বোধহয় অতো ক্লান্ত লাগছিল।

যা হোক আবার হাঁটা শুরু করলাম। খানিকটা পথ এগিয়ে দেখলাম একটা ছেঁড়া নোংরা জরাজীর্ণ পোশাক পরিহিত এক মহিলা মুখে মাস্ক পরে স্টেশনে বসে আছে।
মহিলাটিকে দেখে পাগল ই মনে হলো। করোনা সম্পর্কে হয়তো তার তেমন ধারণা নেই। হয়তো কেউ মাস্ক পরতে বলেছে বলেই পরছে অথবা কাউকে পরতে দেখেই পড়ছে। তখন মনে হলো দেশের সব শিক্ষিত মূর্খ ব্যক্তিগুলো যদি এই মানুষটার মতো হতো তবে সত্যিই দেশের অবস্থা পাল্টে যেতো। কেউ কিছু বললে শুনতো‌।অথবা কাউকে দেখেই সচেতন হতো।

যারা সচেতনতা অবলম্বন করছে তারা আল্লাহকে ভয় বা বিশ্বাস করছে না এটা ঐ গণ্ডমূর্খদের কে বললো?
করোনা ভাইরাস কী কোনো মানুষের তৈরি মহামারী?
এটা কী মানুষের সৃষ্টি কোনো রোগ?
এই রোগ সৃষ্টি করে কোনো মানুষ কী মানুষের শরীরে ছেড়ে দিয়েছে?
এখনো পর্যন্ত কোনো মানুষ কী পেরেছে এই রোগের প্রতিষেধক তৈরী করতে?

এই ভয়াবহ মরণঘাতী মহামারী আল্লাহর সৃষ্টি। আমরা জানি তিনি চাইলে চোখের পলকেই ধ্বংস করে দিতে পারে পুরো বিশ্ব। তিনি চাইলে এই রোগের অছিলায় আমার আপনার মৃত্যুও হতে পারে।

তা বলে কী সর্তক হওয়া যাবে না? রোগটা যখন হাঁচি কাশি থেকে ছড়িয়ে পড়ছে তখন কী আমাদের উচিত নয় সবোর্চ্চ সাবধানতা অবলম্বন করা? যাতে অন্যের হাঁচি কাশি থেকে ছড়ানো এই ভাইরাস আমাদের নাকে মুখে চোখে না লাগে।

আল্লাহর সৃষ্টি এই মহামারীর ভয়ে ভীতু হয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা মানে কী তাঁকে ভয় পাওয়া নয়, বিশ্বাস করা নয়?

বরং আমার তো মনে হচ্ছে যারা এ সব বলেছে তারাই আল্লাহকে এবং তাঁর সৃষ্টি এই মহামারীকে ভয় পায় না।
বিশ্বাস করে না।

আল্লাহ তুমি সবাইকে নেক হায়াত দান করো। রক্ষা করো তোমার সমস্ত সৃষ্টিকে। আমীন

মোট পড়েছেনঃ ১,০১৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৪টি মন্তব্য

  1. ওরা যারা বলে তারাই মাস্ক পড়ে যারা আল্লাহকে ভয় করে না তারা কী খবর রাখে মক্কা মদিনা সহ ইসলামী দেখগুলোতে মসজিদে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ!!
    অতি ধার্মিক সমাজ ও দেশের শত্রু।আল্লাহ এদের হেদায়েত দিন।

  2. এরা ধার্মিকতা দেখায় অথচ নিজেরা নামাজ , রোজা করে কিনা সন্দেহ আছে। অন্যের সমালোচনা করাই এদের কাজ। এদের গন্ডমূর্খতা দেখলে শরীর জ্বলে যায়, বলতে গেলে উল্টো অপমানিত হতে হয় নিজেকে। ভালো থাকুন সাবধানে থাকুন শুভ কামনা রইলো

  3. চারিদিকে ময়লা আবর্জনা আর মুখে মাস্ক। নিজের পরিধানের বস্ত্রে জীবানু মুখে মাস্ক। মাস্ক নিয়ে যেসব যায়গায় যাচ্ছি দেখা গেলো সেসব জায়গায় যাওয়াই উচিত না।

    মূর্খের মত আচরণ বন্ধের একটাই উপায় প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেয়া। সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন দেখে ভালো লাগলো। ভালো থাকবেন আপু।

  4. সবচেয়ে কস্টের কথা হচ্ছে এমন মুর্খের সংখাই বেশি দেশে।
    মসজিদে নামাজিদের সংখ্যা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ পবিত্র কাবা শরিফে কোনো নামিজি যায় না এই সংকটকালিন সময়ে।

  5. এরা নিজেই নিজের / নিজেদের শত্রু-
    এরা আক্কেল / বিবেকের শত্রু।

    এরা তারা-
    যারা পরের মেয়ে কেমন পোষাক পড়ে
    সে তরজমা করে-
    অন্যের মাতাব্বরি করে
    জায়গা পায়না নিজের ঘরে

    এদের আওয়াজ কানে না তোলা ই ভালো আপু-

মন্তব্য করুন