এপারেই থেকে গেলাম

হাঁটা দূরত্বে কতটা পথ হেঁটে গেলে
শেষ পৌঁছানোতে যাওয়া যায়,
বিনীত বিনয়ে একাল-সেকালের কুপি জ্বেলে;
নগ্ন পায়ে হেঁটে যাই নিজের মৃত দেহটি কাঁধে নিয়ে
ক্লান্ত-নিস্তেজ-পা, দাঁড়াতে গেলেই মৃত দেহটি ককানি দেয়;

হঠাৎ বোঝাটি ফেলে দিয়ে দিলাম ভোঁ দৌড়,
আহা, খালি পায়ে তো বেশিদূর যাওয়া যায় না,
যেতেও পারিও-নি;
ফিরে এসে ঘাড় গোঁজ করে আবার তুলেই নেই
সেই ফেলে যাওয়া লাশ, বিপুল বিমূঢ়তায় হেসে ওঠে লাশটি;

মন্ত্রমুগ্ধ পা দু’টি আবার চালু হয়,
অভ্যস্ততায় হাঁটি আবার হাঁটি,
ভারী থেকে আরও ভারী বোঝায় ক্রমাগত,
ওপারে নাকি সব সুখ, দুধ-নহর,সবুজ-গালিচা
আরও কত কত্ত-কী! কত্ত কিছু!

পচা লাশটি ফেলে দিলাম সদর্পে, ওপারে নয়,
উল্টো পায়ে হেঁটে এখানেই থেকে গেলাম;
এই সাধের পথে-পথে, উদ্দীপ্ত জীবন-রসে,
ঋতুমতী সাতার-ভরা-সমুদ্দুরের কোলে;

মোট পড়েছেনঃ ৬৭৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৮টি মন্তব্য

  1. বাহ কি চমৎকার করে লিখে ফেলেছেন ” নগ্ন পায়ে হেটে যাই নিজের মৃত দেহটিকে কাঁধে নিয়ে ” । কিভাবে লিখেন এই সব লাইন ! বিস্ময় নিয়ে পড়তে থাকি আপনার কবিতার লাইন গুলো । শুভ কামনা রইল ।

  2. প্লিজ মইরেন না, আমি আসতেছি। কাঁধে করে কি মৃত্যু চিন্তা নিয়ে রওনা দিছিলেন?
    আহারে, মানুষটার এই দুনিয়ায় কেউই নাই।

    1. ভাই, মজা লওন ঠিক না!!
      যাইতে আর পারলাম কৈ!! শ্যাষ-ম্যাশ থাইক্কাই গেলাম।
      সোনেলার কী হবে, সোনাদেরও!!
      আহেন আহেন অপেক্ষাইতেছি!

  3. মরতে চাইলেই কি আর মরা যায়?
    আপনার মরণ অতো সহজে হইতো না। বহুৎ দেরী আছে কইলাম! আর শোনেন যাওয়ার আগে আপনার বইয়ের লাইব্রেরীটা আমারে দান কইরা যাইয়েন, কেমন? 😀

    1. নাহ্‌, এবারে আর মরার চিন্তা নেই, বর পেয়ে গেছি।
      বহুৎ দেরি মানে!! অনন্তকালের ব্যবস্থা হইছে অমৃত ভক্ষণে!!
      শুধু লাইব্রেরী!! আরো অনেক কিছু আছে আপনার জন্য!!!!!!!!!!

  4. ধুর! এইসব দুঃস্বপ্নগুলো বড্ড বজ্জাত। চোখ খুলে তাকানোর পরেও মনে হয়, আমি আর নাই। ঘেমে নেয়ে একাকার।
    তয়, আমি কিন্তু খালি পায়ে দৌড়ানিটা ভালোই দিতে পারি। এখনি যেতে চাইনা কোনো পারে। এপারে আমার এখনো কতো কাজ বাকি!
    এবার থেকে চোখ খোলা রাইখা ঘুমাইতে যাইয়ে।

মন্তব্য করুন