এক্স ফাইলসঃ আবোল তাবোল ভাবনা-২

জানালার পাশে বসে কত কিছুই না দেখা যায়। মাঝে মাঝে দেখি কিছু টিনএজার কাপল হেটে যাচ্ছে। অট্টহাসি আর একজনের হাতের কিছু অন্য জন নেবার জন্য মাঝে মাঝেই টানাটানি বা কথায় কথায় মারামারি করছে,দেখলেই বোঝা যায় এদের বয়স অল্প। এদের দেখতে খুব ভালো লাগে। আবার চোর চোর ভাবে ভরা মায়া মাখা মুখগুলো দেখলে মজা লাগে সেই সাথে মায়াও।

রক্ষনশীল মা বাবা আর পরিবারের মেয়ে বলে ঐ বয়স টা কি পানসেই না গেছে আমার । চুরি করে প্রেম করার মত একটা রোমাঞ্চকর কাজ থেকে বিরত থেকেছি।

আবার আমার জানালা দিয়ে মাঝে মাঝেই দেখি কোন নেতা গোছের ছেলেকে, যে রাস্তার মাঝে বাইকে বসে মাটিতে পা রেখে সিগারেট ধরায়। থার্মোমিটারে জ্বর মাপার সময় পারদ স্কেলটা যেমন হুট করে উপরে উঠে যায়, এদের দেখলে মেজাজ টাও ঠিক তেমন হুট করেই খারাপ হয়ে যায়।

মেজাজ যেমন করে উঠে যায় তারচেয়ে ও অনেক দ্রুত আজ মন ভালো হয়ে গেলো। আজকের এই মাস্তান টাইপ ছেলেটার মোবাইলে বলা কথা শুনতে শুনতে। তার আজকের কথা গুলো হলো” কে রে? সারাদিন মিসকাল দেছ ক্যা? ” একটু থেমে… ” রক্ত লাগবে? কি গ্রুপ? O – ? থাকেন আসি! ” বলেই সিগারেটে একটা লম্বা করে টান দিয়ে সেটা ফেলে দিয়ে বাইকের গিয়ার বদল।

ইচ্ছে করলো ছেলেটাকে ডেকে একটা ধন্যবাদ দেই। ভাবতে ভাবতেই মন খারাপ হয়ে গেলো। কারন ছেলেটাকে হয় তো আমার মত অনেকেই মাস্তান ভাবে। আর সে একটা রেয়ার গ্রুপের রক্তের বাহক। যে দিন সে কোন ভাবে এক্সিডেন্ট করে বা মার খেয়ে রাস্তায় পরে থাকবে, তখন ওকে রক্ত দেওয়ার জন্য ওর মত করে কি কেউ ছুটে আসবে?

রাস্তার পাশে সামান্য একটু ফাঁকা জায়গা পরে আছে। বিকেল হলেই সেখানে মোবাইলে কথা বলা ছেলেদের ভিড় বেড়ে যায়। ছেলেগুলো অন্য কিছু না করলেও মোবাইল কানে ধরে আসে পাশের বিল্ডিং গুলোর জানালার দিকে তাকাতে মোটেই ভুল করে না। আমার জানালাটা গাছে ঢাকা।

আজ একটু ব্যতিক্রম। একটা মাত্র ছেলে দাড়িয়ে আছে। বেশ লম্বা দেখে তাকিয়েই থাকলাম। যেহেতু সে আমায় দেখতে পাচ্ছে না তাই কিছু টা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। মোবাইলে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে রুমাল কি টিসু দিয়ে চোখ মুছছে। কারন হাতে সাদা একটা কিছু। আমার চোখে চশমা নাই। একটু হাত বাড়িয়ে চশমা টা নিয়ে চোখে দিলেই স্পষ্ট দেখতে পাবো। হয়তো ঠোঁট কামড়ে কান্না থামানোর অনেক চেষ্টা করছে বা থেমে থেমে কান্না গিলছে সেটাও। কিন্তু ইচ্ছে করছে না। সম্ভবত ছেলেটা খুব কষ্ট পেয়েছে। কারন আমি শুনেছিলাম ছেলেরা সহজে কাঁদে না। কিন্তু এই ছেলেটা কাঁদছে। অন্য একজনের জন্য। এই ছেলের কান্না ভেজা চোখ আর কষ্টে ভরা মুখ দেখে একে আমি মনে রাখতে চাই না। একে আমি মনে রাখবো অন্য ভাবে। এর টল, ডার্ক আর ঝাপসা অবয়বের মালিক হিসেবে।

পুরানো লেখা থেকেঃ ২ এপ্রিল ২০১৫

মোট পড়েছেনঃ ৯৬১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩০টি মন্তব্য

  1. “”নেতা গোছের ছেলেকে, যে রাস্তার মাঝে বাইকে বসে মাটিতে পা রেখে সিগারেট ধরায়। থার্মোমিটারে জ্বর মাপার সময় পারদ স্কেলটা যেমন হুট করে উপরে উঠে যায়, এদের দেখলে মেজাজ টাও ঠিক তেমন হুট করেই খারাপ হয়ে যায়।””

    https://sonelablog.com/wp-content/plugins/smilies-themer/MDC/2.gif ভালো লিখছেন

  2. আপু, মানুষ যে কত বিচিত্র স্বভাবের হয়! ফেসবুক ব্যবহার করতাম সময়ে বলধা গার্ডেন এলাকার এক ছেলে ইনবক্সে আমাকে নোংরা কথা বলতো। ফেসবুকেই সেই ছেলেই রক্ত জোগাড় করে দেয় এমন এক গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলো।

  3. হরেক মানুষ হরেক স্বভাব। বাইরে থেকে দেখে যা মনে হয় সে ভেতরে তার বিপরীত, কিন্তু ঐ বিপরীতটাই কেউ দেখি না। দেখলেও না দেখার ভান করে এগিয়ে যাই।

  4. জানালার পাশে বসা তাজ মেয়েটির আজ মন ভালো ছিলো, তাই সে সুন্দরভাবে সব দেখতে পেয়েছে। সে পঁচা হোক কিংবা ভালো, রক্ত দেবার মতো মহান কাজের জন্য একটা ধন্যবাদ তার পাওনা রইলো। আর যে ছেলেটি কেঁদেছে তাকে তো তাজ আপু ভুলবেই না তার লম্বা, ডার্ক অবয়বের জন্য।
    অপ্রাসঙ্গিক পুনশ্চঃ কোন এক ছেলের কান্না দেখে এক মেয়ে তার জীবনের চরম ভুল করে বসলো, সে ভুল থেকে সে আর বের হতে পারেনি।

  5. শুন্য আপু কেমন করে যেন সব কিছু বুঝে ফেলেন। এটা কিন্তু ঠিক না।

    তাহলে সেই পচা কি ভালো ছেলেটার জন্য দুটা ধন্যবাদ রয়ে গেলো।

  6. নিরব অবজারভেশন। ভাল লাগলো। একটা সময় ছিল আমি মাঠের মাঝে বাস্কেট বল গ্রাউন্ডের পাসে প্রতিদিন বসে থাকতাম মন খারাপ করে। কেউ কি দূর থেকে দেখেছে এমন করে?

  7. ওস্তাদ আপনার অন্য যেন কোন লেখার তুলনায় এটিকে আমি সেরা বলবো।আপনি সুস্থ্য আছেন তো? অসুস্থ্য হলে অনেকে বারান্দায় বসে অনেক কিছু ভাবে জীবন সম্পর্কে।ভালো থাকুন ওস্তাদ।

  8. নীচের প্যারাটা কি করে লিখলেন, এযে অসাধারণ, আমি পড়লাম আর মনে মনে আপনাকে ধন্যবাদ দিলাম, কান্নাও যে গেলা যায়- এই লেখা না পড়লে বুঝতেই পারতাম না
    শুভকামনা রইল

  9. চমৎকার হয়েছে লেখাটি।সত্যিই দূর থেকে অনেকে অনেক কিছু ভাবেন তার অন্তরালে যে ভাল দিকটি আছে তা কাছাকাছি না থাকলে বুঝা যায় না।আর বকাটে ছেলেদের মাঝে যে ভাল মনও আছে তা অনেকেই চিন্তা করেন না।

  10. অনেক ভাল লিখেছেন।এভাবে বসে বসে চুপচাপ মানুষ পর্যবেক্ষন করা কিন্তু বড় লেখকের বৈশিষ্ট্য।আর লেখাটা মন ছুঁয়ে দিয়েছে।অজানা অচেনা লম্বা অবয়বের ছেলেটার কষ্ট,বাইকে বসা মাস্তান ছেলেটার রক্ত দিতে ছুটে যাওয়া-সব খুব সাধরন ঘটনা।তবু কেন যেন পড়তে পড়তে মনটা ভার হয়ে গেল।

মন্তব্য করুন