একরাশ শীর্ণ হাহাকার

রিমি রুম্মান ২৭ জানুয়ারি ২০১৬, বুধবার, ১২:২১:০৪অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৪ মন্তব্য

বাসার সামনের লনে যখন বুক পরিমান তুষার, ছেলে দু’টিকে নিয়ে খেলছিলাম, ছবি তুলছিলাম।ছেলেদের সাথে খেলার সময়টাতে বরাবরই আমি ওদের মতোই ছোট হয়ে যাই। জাম্প করে তুষারের উপর শুয়ে পড়া, একে অন্যকে হাত ভর্তি সাদা তুলার মত তুষার ছুঁড়ে মারা__ যেন তিন বন্ধুর খেলা !

খেলা শেষে ওদের বাসায় পাঠিয়ে শাবল হাতে পার্কিং স্পেসের দিকে যাই। তুষারে ডুবে থাকা গাড়িগুলো বের করতে হবে একে একে।প্রতিবেশী কিং আর আমি, আমরা যার যার পার্কিং স্পেসের সামনের তুষার পরিস্কার করছি। একটু জিরিয়ে নিচ্ছি। গল্প করছি। আবারো শাবল দিয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে একপাশে তুষার স্তূপ করছি।

কিং বলে, তোমরা খেলছিলে, আমি জানালায় দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলাম।চমৎকার দৃশ্য, চমৎকার সময়।আমার এমন স্নেহ ভালোবাসায় মাখামাখি অসাধারন কোন স্মৃতি নেই ছেলেমেয়ে দু’টির সাথে।আমি বিস্ময়ের সাথে প্রশ্ন করি, “কেন” ? মিস্টার কিং শাবলে তুষার তুলে লং আইল্যান্ড রেললাইনের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে বলে, সময় খুব দ্রুত উড়ে যায়।জানলাম__ ছেলেমেয়েরা ছোট থাকতে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী দু’জন চাকুরী, ব্যস্ততা, বাড়িফেরা ক্লান্তি আর দিনশেষে ঘুম … এমন করেই সময় গড়িয়েছে কখন টের পায়নি। টের পায়নি ছেলেমেয়ে দু’জনের বড় হয়ে উঠা।নিজেদের জগত নিয়ে তাঁদেরও ব্যস্ত হয়ে উঠা। জীবনের এ বেলায় এসে একরাশ শীর্ণ হাহাকারে সময়গুলো খুঁজে ফিরে কিং।

গহীন কূপের অন্ধকারে যে সময় একবার হারায়, তা কি আর ফিরে আসে ?

সন্তান আর বাবা-মা’য়ের মাঝখানে যে শূন্যতা একটু একটু করে গড়ে উঠে, তা কি আর পূরণ হবার ?

জীবন থেকে এক একটি দিন চলে যাওয়া মানে হিসেবের খাতা একটু একটু করে ছোট হয়ে আসা।সন্তানের সাথে গা’য়ে গা ঘেঁষে আগ্‌লে থাকা বাঁধন একটু একটু করে আল্‌গা হয়ে আসা।অনেকটা বিশাল আকাশের বুকে ভেসে থাকা মেঘ খণ্ডের দ্রুত মিলিয়ে যাওয়ার মতন।

সন্তানদের সাথে আমাদের সময়গুলো হোক উপভোগ্য প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে …

৫৪২জন ৫৪২জন
0 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ