আপনালয়

সাবিনা ইয়াসমিন ১২ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ০২:৪৪:০৩পূর্বাহ্ন ছোটগল্প ১৪ মন্তব্য

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত্রি যখন ছুঁইছুঁই, তখনই নতুন আত্মীয়রা কাজলকে এই ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলো। এতোদিনে নিজের একটা ঘর হওয়াতে তার বেশ ভালোই লাগছে। নিজের ঘর! নিজের মতো সাজিয়ে-গুজিয়ে রাখা, নিজের মতো করে থাকা! কার না ভালো লাগবে! ওর ইচ্ছে করে এখনই ঘরটা সুন্দর করে সাজিয়ে নিতে। খাটের রেলিংয়ে ঝুলে থাকা নানারঙের প্লাস্টিকের ফুল আর ঝুল, ঘরভর্তি রঙ্গিন কাগজের নকশায় তৈরি শোপিস গুলো তার ভালো লাগছে না। এরা ঘর সাজাতে-সাজাতে সিলিং ফ্যানটাকেও সাজিয়ে ফেলেছে। ফ্যানের ঠিক মধ্যখানে বেশ বড়সড় একটা ফুলের থোঁকা আঠা দিয়ে লাগানো। ওদিকে তাকালেই ওর গরমে অতিষ্ঠ দেহটা আরও ঘেমে উঠছে।

– আসসালামু আলাইকুম

চমকে উঠে কাজল, চোখ না তুলেই সালামের জবাব দেয়। তাকে বলা হয়েছে প্রথমেই সে যেন চোখে-চোখ না রাখে। কিন্তু তাই বলে সে কিছুই দেখবে না নাকি! আড়চোখে দেখে নেয়, তিনি তার প্রতিকী পোশাক পাল্টে বাসায় পরার লুঙ্গিটাকে কোমড়ে গিঁট দিয়ে নিলো। “ গরমে পাগল হয়ে গেছি, এই গরমে পাগল ছাড়া কেউ বিয়ে করে! ”

খাটের পাশে বসে একদৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে আছেন তিনি। কাজল একটু একটু কাঁপছে। এখন গরম-শীত কিছুই অনুভব করছে না ও। চোখ তুলে অর্ধনগ্ন ব্যক্তিটাকে সে এখন আর দেখতেও চাইছে না।

ঘরের ভেতর ঘুটঘুটে অন্ধকার। সবই দেখতে পাচ্ছে চোখ খুলে-না খুলেও! বজ্রপাত নেই, বৃষ্টির শীতল-স্নিগ্ধতা নেই। দেহের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড়-ঝঞ্ঝা, রুদ্ধশ্বাসে মনের উপরেও বয়েছে, যা কোনদিন ভুলতে পারবে না, ভোলা যাবে না।

এই ঘর কাজলের নয়,

এই পুকুর?

ক্লান্ত বিধ্বস্ত শরীরে শীতল পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে কেউ! পুকুরের পানি হঠাৎ করেই খুব আপন মনে হয়..খুউউব।

 

* ছবি- নেট থেকে নেয়া।

১৪১৮জন ১২৪৮জন

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ