ছোট্ট বেলায় মস্তিষ্কে গেঁথে যাওয়া শব্দ(অনির বউ)_১

ঘোর সন্ধ্যা। চারিদিকে নিয়নবাতির আলোর ঝলকানিতে ঝলমল করলেও ঘুটঘুটে অন্ধকারই মনে হলো রূপার। ঘোর সন্ধ্যায় কৃত্রিম আলোয় সজ্জিত স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের উপর দিয়ে পাশাপাশি হাঁটছে রূপা ও অনি। অনি কথা বলছে আর রূপা নিঃশব্দে হেঁটে চলেছে অনির সাথে সাথে। অনি কি বলছে তাতে রূপার বিন্দুমাত্র মনোযোগ নেই।

রূপা ভাবছে যেনো সম্পূর্ণ অচেনা, অজানা মানুষ। আজই প্রথম দেখছি এই মানুষটাকে। আজই প্রথম কথা। আর কখনো কোনো দিন দেখা হয়নি, কথাও হয়নি। সম্পূর্ণ অচেনা অজানা একটা মানুষের পাশে হাঁটতে রূপার কিছুটা অস্বস্তি, কিছুটা বিরক্তি আর কিছুটা রাগ হচ্ছে।

অস্বস্তি হচ্ছে সম্পূর্ণ অচেনা ভেবে।

বিরক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত কথা বলছে দেখে।সেই যে কথা বলা শুরু করেছে আর থামছেই না।

রাগ হচ্ছে পরিচিত একটা মানুষকে সম্পূর্ণ অচেনা ভাবতে হচ্ছে বলে।

হ্যাঁ আজ রূপা যাকে সম্পূর্ণ অচেনা ভাবছে সে আসলে অচেনা অজানা কেউ নয়। কিন্তু পরিস্থিতি রূপাকে বাধ্য করেছে অনিকে অচেনা ভাবতে। এটা শুধু রূপার ভাবনাতেই নয় বাস্তবেও যেনো ওরা অচেনা। অথচ এই সম্পূর্ণ অচেনা মানুষটাকে ঘিরেই শুরু হয়েছিল রূপার শৈশব থেকে কৈশোরে পা দেওয়া।

অনি রূপার কাজিন। রূপা যখন ৯/১০ বছরের অনি তখন ১৯/২০ বছরের। রূপার মা চাইতো অনির সঙ্গে রূপার বিয়ে দেবে। তার মেয়ে জামাই হবে অনি। এই কথাটা সারাপাড়ার মানুষ জানতো। এই কথা নিয়ে সবাই রূপাকে ক্ষ্যাপাতো। সবাই বলতো অনির বউ, অনির বউ।
আর এই কথা শুনে রূপা রেগে যেতো, চিৎকার চেঁচামেচি করতো, কান্নাকাটি করতো। মাকে নালিশ করলে মা হাসতো। রূপা তখন আরও জোরে কান্না করতো।

আস্তে আস্তে রূপা বড় হতে থাকলো। এবার কেমন যেনো শান্ত লজ্জাবতী লাজুক লতা হয়ে উঠলো রূপা। সবাই যখন অনির বউ বলতো তখন লজ্জায় লাল হয়ে যেতো রূপার মুখটা। রূপা তখন অনিকে দেখে লজ্জায় পালিয়ে যেতো। রূপাও অনিকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। সত্যিই সে অনির বউ হবে! অনি তার বর হবে!

মোট পড়েছেনঃ ১,১৭২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৮টি মন্তব্য

  1. ভাবছি রূপা কে চোখে চোখে রাখতে হবে__

    দেখতে চাই গল্পটা কোথায় গিয়ে থামে।

    সুন্দর ভূমিকায় চরম গতি পেলাম-

    পরের পর্বে শুভকামনা আপু

  2. এমন অনিন্দ্য-সুন্দর শুরু অবশ্যই ধরে রেখে সামনে এগতে হবে,
    ছটফটের কোন জায়গা লেখালেখিতে নেই। অল্প করে লিখুন, মন দিয়ে, সুন্দর বাক্য, সুন্দর সুন্দর শব্দে।
    পাঠক আপনার সাথে -ই থাকে।

    1. আপনার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই ভাইয়া। ভাগ্যিস আপনার সাথে দেখা হয়েছিল, কথা হয়েছিল!
      ভালো পাঠক হওয়ার চেষ্টা করছি ভাইয়া। একদিন আপনার মতো অজস্র সুন্দর সুন্দর শব্দে ভরে উঠবে আমার লেখারা। শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র
      আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন ভাইয়া

  3. সবার মুখে মুখেই অনি আর রুপার বিয়ে হয়ে গেলো! এখন কি তাদের সংসার শুরু হবে? না গল্প এখানেই শেষ? ইচ্ছে হলে বাড়াতে পারেন, পড়তে ভালো লেগেছে 🙂

    শুভ কামনা 🌹🌹

    1. রূপা শুধু একাই রেগে নেই
      আমার মিষ্টি আপুটাও দেখছি রেগে আছে আমার উপর।

      হা হা হা হা
      এবার আর মাঝপথে ছেড়ে দেবো না গো আপু
      আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন আপু
      ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময় 😍

    1. অনির প্রতি রূপার ক্ষোভের পাশাপাশি একটু দুর্বলতা থাকবে। সেটা ভালোবাসা নয়।
      আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন দাদা
      ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়

  4. শুরুটা অনেক ভালো লাগছে যতটা মনে হচ্ছে অনি আর রুপা একটা সুন্দর সম্পর্কের দিকে এগুচ্ছে লিখে যান আপু অনেক অনেক শুভ কামনা রইল।

  5. তবে জানেন কি ছোটবেলায় থেকেই যারা জেনে আসে একজনের সঙ্গে তার বিয়ে হবে বড় হয়ে তার মস্তিষ্ক উল্টো পথে হাঁটা শুরু করে? তাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমাদের পিতা মাতাই সচেতন নয়। মানসিক স্বাস্থ্য বলে একটা কথা আছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বাবা-মায়ের এমন চিন্তা চেতনা এবং পাড়া-প্রতিবেশী কথা একজন শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে বাধাগ্রস্থতা তৈরি করে। দেখা যাক গল্প কোথায় এগোয়।

    1. একদম সঠিক বলেছেন ভাইয়া। ছোট্ট বেলায় মস্তিষ্কে গেঁথে যাওয়া শব্দ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সত্যিই অনেক কষ্টের
      আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন ভাইয়া
      ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়

    1. গল্পটা শুরু করবো ভাবতেই এই নাম দুটোই মাথায় এসেছে।
      আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন ভাইয়া
      ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়।

মন্তব্য করুন