প্রিয়তমা সুন্দরী রাত্রি আমার...**ছবিটি গুগল বাবুর থেকে প্রাপ্ত**
প্রিয়তমা সুন্দরী রাত্রি আমার…**ছবিটি গুগল বাবুর থেকে প্রাপ্ত**

মধ্যরাতের নিঃস্তব্ধতাকে ভেঙ্গেচুড়ে দিয়ে অনেক দূরের ব্রিজটা ঢং ঢং শব্দ করে ওঠে। দূর থেকে ড্রাইভারের অযথা হর্ণ কি জানি কোন শ্রমিকের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয় পুরোনো লক্কড়-ঝক্কড় ট্রাক অথবা ল্যান্ড রোভার। আর আমার চলছে ঘুমের সাথে প্রতিরাতের যুদ্ধ। ভুল বলে ফেললাম, যুদ্ধ নয়, রাতের সাথে বন্ধুত্ত্ব। মায়াময়ী বন্ধুত্ত্ব। সঙ্গী পাশে রসায়ন আর গান, নয়তো বীজগণিতের সূত্র আর গান। পুরো খোলা উঠোন জুড়ে আকাশের সামিয়ানা টানানো আর তারাদের আলো-আঁধারি আমাকে বলে দেয়, চাইনা এ জীবনে মোমের আলোয় কেউ আমাকে দেখুক। এমন সুন্দরী রাত্রি কি মোমের আলো সাজিয়ে দিতে পারে?

টুপটুপ করে ঝরে পড়ে শিশির টিনের চালে। চৌকিদারের গোপন ঘুমের বারোটা বাজিয়ে আমি নিশ্চিন্তে পায়চারী করি, আহারে বেচারা! ওদিকে আমার বিছানার চাদর টানটান, গুছিয়ে রাখা লেপের ওম, একজন রবীন্দ্রনাথ দেয়ালে ঝুলে দেখছে ঘরের সাজ। আমি দেখছি আকাশ, রাত্রি, নীরবতা মাখছি। এ নীরবতা আমি জানি হাহাকার করবে জমানো আনন্দের মধ্যে দিয়ে। নাহ, এক মুঠো হাসি রেখে দেবো আজীবন। সে যদি না-পাওয়া হয় তাও, যদি যন্ত্রণায় পুড়ে যায় ভেতরের অলি-গলি, তাও। কারণ নিঃশ্বাসে যে জমে থাকবে চায়ের ফ্যাক্টরী থেকে ভেসে আসা চায়ের ঘ্রাণে, সাথে বুক ফাঁটানো আর্তনাদ মেশিনের। সে নিঃস্তব্ধতাকে ঘিরে তো থাকবেই।

যেমন আমার থাকবে রবীন্দ্রনাথ এবং হাসি।

শমশেরনগর চা’ বাগান, মৌলভীবাজার
১৯ নভেম্বর , ১৯৮৯ ইং।

১০৭১জন ১০৭১জন
0 Shares

৩৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ