শুভম ২০১৬ ইং

নীলাঞ্জনা নীলা ১ জানুয়ারি ২০১৬, শুক্রবার, ১১:৫৮:৩২পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৬ মন্তব্য
২০১৫ ইং সালের সমাপ্তিকার কোলে...
২০১৫ ইং সালের সমাপ্তিকার কোলে…

প্রতি বছরের শেষ দিনে কিছু না কিছু লিখি। আমার একাকীত্ত্বে সঙ্গ দেয় এই লেখা। লিখতে গিয়ে স্মৃতিগুলো কাৎড়ায় অসহায়ভাবে। মনে পড়ে যায় সেই স্কুল জীবন। প্রতি ৩১ ডিসেম্বর রাতে আর্ট পেপারে লিখে রাখা HAPPY NEW YEAR. তখন একমাত্র চ্যানেল বিটিভি। সেখানে কিছুই হতো না থার্টি ফার্ষ্ট নিয়ে। আরেকটি চ্যানেল ছিলো দূরদর্শন। এন্টেনা ঘোরাতে ঘোরাতে কতো কষ্টে যে দেখতাম থার্টি ফার্ষ্ট অনুষ্ঠান। ঠিক বারোটার সময় বাপি বিছানা থেকে উঠে এসে একটা আদর দিয়ে বলতো “হ্যাপি নিউ ইয়ার নীলমন।” তখন এই থার্টি ফার্ষ্ট নিয়ে মাতামাতি ছিলো না দেশে। ১৯৮৮ সালে ঢাকা গেলাম, দাদা(বড়ো মাসীর বড়ো ছেলে বাবুনদা, আজ নেই আর) মামনিকে এসে বললো, এখনও মনে আছে, “আন্টি পিচ্চিকে নিয়ে যাই?” মামনি-বড়ো আন্টি সকলে না করলো। ওই তখন শুনলাম গুলশান-বনানীতে বিশাল অনুষ্ঠান হয়। সেই রাতে দাদা অনেক রাতে ফিরলো হাতে একটা পারফিউম। মনে পড়ে শোভনদা-নিপুদা-মুন্না-বাণী আমরা সবাই মিলে সেই রাতে বেশ মজা করেছিলাম। বাণী অবশ্য একটু দূরে দূরেই রাখতো নিজেকে। সেই প্রথম অনেকে মিলে থার্টি ফার্ষ্ট পালন।

আরেকটু বড়ো হলাম। কলেজ জীবনে একা একা থার্টি ফার্ষ্ট মানেই গান ছেড়ে নাচা। বিশেষ করে বছরের প্রথম দিন কুমকুম আপু আসতো। আপু তো নাচতো না, কিন্তু জ্বালাতাম। কি যে আহ্লাদী বকা। আর আমি হেসে হেসে নেচেই যাচ্ছি। কুমু আপু বলতো, “এই শয়তান্নী বাংলা গান দে শাইন(বাংলা গান দে তো)।” কিসের কি হয় ইংরেজী নয়তো হিন্দী ডেন্স গান। দেশে ছুটি নেই। কলেজে যেতাম, আর পৃথিবীর সেরা আনন্দ করে নিতাম। স্যারদের অতিরিক্ত প্রশ্রয়ে বেশ দাপট ছিলো। তাই আমায় আর কে পায়! এই ছিলো নতূন বছর পালন।

জাপান এলাম। ওখানে গান আর আড্ডা। নাই মামার থেকে কানা মামা আর কি! তবে মন্দ লাগতো না। শুধু ড্রিঙ্কস থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা। যদিও ড্রিঙ্কস নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। নেশার কাছে নেশা না হলেই হয়। যাক সারারাত কেটে যেতো দুষ্টুমী-মজা-হাসি-আনন্দে। তনুশ্রী বৌদির বাসায় থেকে যেতাম। অসম্ভব মজা হতো। বৌদির একান্ত আন্তরিকতা এমনই যে কখনো অন্য লাগেনি। পূর্ণ অধিকারে বলতাম বৌদি এটা রান্না করবেন কিন্তু।

তারপর এলাম বেলজিয়াম। ওখানে দারুণ আনন্দ হতো। বিধানদার বাসায় আয়োজন হতো। বন্ধু জয়তীর ভালোবাসার কথা কি বলবো! আনন্দ উছলে পড়তো ওখানে। সেখান থেকে এলাম কানাডায়। নোভাষ্কোশিয়া প্রদেশের ছোট্ট শহর এন্টিগোনিশে। দেশের কয়েকজন ছাত্র ছিলো। ওদের সাথেই আয়োজন। আজাদ, রাব্বী-আবেদা, আলতাফ, ফাহিম, রোকন এই ক’জন মিলে নিউ ইয়ার পালন। মন্দ লাগতো না। ওইদিনই আজাদ বললো, “দিদি আপনার এ যুগে জন্ম হলে ভালো হতো।” কি জানি! ২০১২ সালের জুন মাসে চলে এলাম হ্যামিল্টন। আহা এতো আনন্দ! এভাবেই বুঝি কেটে যাবে আনন্দে। ভাবনার সাথে কি সব মেলে? নাহ! তবে আমি সবসময়কার আনন্দবতী, যার জন্যে অনেক কথা শুনতে হয়। তাতে কি! এই যে আজ একা একা পালন করছি থার্টি ফার্ষ্ট, অসম্ভব ভালো লাগছে। সেজেছি, ছবি তুলেছি, নাচছি-গাইছি। ছেলেটাকে বললাম ওরে বাপ রে একটু রেডি হ, আয় নাচি। আমার ছবি তুলে দিলো। নিজে ওসবে নেই। লিখতে লিখতে আবারও বললাম ওরে তীর্থ রেডি হ। তোর একটা ছবি তুলি। আয় দুজনে। জানিনা কি করে!

আজ বহু জায়গায় ফোন দিলাম। আসলে অনেকেই ফোন দিয়েছিলো। মনে মনে বলছিলাম, আজ যারা আমার খবর নেবে, সত্যি আমাকে ফিল করে। “না চাহিলে যারে পাওয়া যায়!” ওল্ড ইজ গোল্ড। বন্ধুরা এখনও জানে কিসের অপেক্ষায় থাকি। বেলাল বললো, “নীলা চল মার্চে দেশে।” গীতার মেয়ে আমার মামনিটা বললো, “মাসী তুমি তাড়াতাড়ি আসো। বলো কবে আসবে?” বললাম গুণতে থাক চলে আসবো দেখিস। “উফ মাসী কেন যে তুমি ওই কানাডায় পড়ে আছো। আজ এখানে থাকলে কতো জায়গায় তোমায় নিয়ে যেতাম।” সবশেষে ফোন দিলাম বাপি-মামনিকে। ফোনটা মনে হয় হাতে নিয়েই ছিলো। ফোন দিতেই বললো, “তোর কথা বলছিলাম। তুই কি কি করতি এই দিনে!” বললাম আগে যা করতাম সেটাই করি। এখনও নাচি। বলে “হুম নাচিস। তাহলে মোটু হবিনা।” “হ্যাপি নিউ ইয়ার” অনেক জোরে বললো বাপি। প্রথম উইশ রায়হান স্যারের। এইতো পাওয়া আমার। কতো কিছু পেয়ে গেলাম।

জীবন একটাই। আনন্দ করতে না পারলে, আনন্দ বিলিয়ে দেয়া যায়না। এ জীবনে সেই আনন্দ জড়িয়ে নিয়ে শ্বাস নিচ্ছি। আজীবন নেবো। নীলাঞ্জনারা আনন্দ নিতে পারে। দিতেও পারে, তবে সবাই সেটা নিতে পারেনা।

HAPPY 2016
HAPPY NEW YEAR all of my Friend.

 **লেখাটি পনেরো মিনিটে লিখেছি। ভুল-ত্রুটির জন্যে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। অনেক ব্যস্ত আবার। তাই ব্লগে আসা হচ্ছে না। অবশ্য সবার লেখা পড়া হচ্ছে। কমেন্ট করতে পারছিনা সেলফোন থেকে, জানিনা কেন! অফুরান ভালোবাসা সকলের জন্যে। ভালো থেকে ভালো রাখতে যেনো পারে সকলে, এটাই প্রার্থনা বছরের প্রথম দিনে। নভোনীল-নীলাঞ্জনার ছবিটি মাত্র তোলা হলো। ১-লা জানুয়ারী আসার পাঁচ মিনিট আগে। এই লেখাটি না রাখলে অসম্পূর্ণ থেকে যেতো পুরোনো বছরটি।

আমি নির্ভরতা চাইনি কোনোদিন
চেয়েছিলাম স্বপ্নগুলো আরোও পরিপক্ক হোক
একাল-সেকাল ঘুরে বৃত্তের বাইরে
একটি খোলা আকাশ আমাকে শেখাবে উদারতা
কেউ কখনো মুখ ফিরিয়ে নিলে
আমি যেনো সেই চোখের গভীরে গিয়ে
মনের অন্দরে নাড়া দিতে পারি
কিছু যন্ত্রণায় নুয়ে পড়া কেবল নিজের মাঝেই
কেউ জানবে না , দেখবে না
এখানে যে পরিত্যক্ত কিছু ইতিহাস রয়েছে
আমার জন্মকালের সাক্ষ্মী হয়ে…

বছরের শেষ দিনের প্রথম প্রহরের লেখা নয় এটি, এই একই দিনের একই সময়ে শুধু বদল হলো বছর। লেখাটির জন্ম ২০১১ সালে। পুরোনোকে পেছনে রেখে নতূনের পথে যতোই ছুটি না কেন, পুরোনো ফেলা যায়না। নিয়ে চলতেই হয় সে ক্ষতের সাথে ক্ষতি হোক কিংবা সুখের সাথে যন্ত্রণাই।

হ্যামিল্টন, কানাডা
১-লা জানুয়ারী, ২০১৬ ইং।

৪৩০জন ৪৩১জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ