রসিক

মুহাম্মদ আরিফ হোসাইন ৩ মার্চ ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ০৭:২৩:৫৭অপরাহ্ন গল্প, রম্য ৩৪ মন্তব্য

এক।।
মতিন মেয়া যাত্রাপালা দেখে অনেক রাত করে বাড়ি ফিরেছে। রাতের খাবারের আর প্রয়োজন হয় নি। যাত্রা দেখেই তার পেট ভরে গেছে। সকালে তার ঘুম ভাঙলো এক মিস্টি কন্ঠের হাসি শুনে। তড়িঘড়ি করে উঠেই নিজের লাল রংয়ের শার্টখানা পড়ে নেয়। বাইরে যেয়ে জানতে পারে এ মিস্টি হাসির উৎস তার বড় খালার মেয়ে লুবনার। গতকালই তারা এসেছে। লুবনার কলেজ বন্ধ। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ চলছে। মতিন লজ্জা সরমের মাথা খেয়ে তার মাকে একটু দূরে নিয়ে বললো ….
– মা, আমার বয়স কত হৈল?
– আহা! এই সাত সকালে নিজের বয়স কেন জিগাইতেছস?
– বলো না….
-তুই নিজে জানোস না! তোর বয়স কত? তুই না আমার বিএ পাশ করা ছেলে!
-হ্যাঁ! মা জানি, আমার বয়স গতকালই ২৭ বছর পূর্ণ হইছে।
– সেটা তো আমিও জানি। কি বলতে চাস বল না – বাবা!
– ইয়ে! মানে! মা … লুবনাকে আমার মনে ধরেছে। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই।
– তোর কি লজ্জা সরম কিছু নাই! তোর বাপ ও কথা নাই বার্তা নাই আমাদের বাড়িতে গিয়ে আমার মাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসলো!
– সেকি! তোমার মা কি এত সুন্দর ছিলো!
– ধেত! গাঁধা! আমাকে বিয়ে করতে চায়, এই প্রস্তাব দিয়েছিল।
– ও আচ্ছা! তাই বলো, আমি তো ভাবলাম তোমার মাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলো। মা তুমি কথা ঘুরালে কেন! আমি তো আর খালাকে গিয়ে বলি নি যে আমি তার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই! আমি তো তোমার কাছে বলেছি। তুমি খালাকে রাজি করাবে।
– হয়েছে। আর ন্যাকামি করিস না! দেখি তোর বাবার সাথে কথা বলে নেই আগে। ‘

মতিন মেয়া এটাকেই তার মায়ের গ্রীন সিগন্যাল হিসেবে ধরে নেয়। সে এখান থেকে সোজা তার রুমে গিয়ে দাঁত মাজার ব্রাশ নিয়ে পুকুর ঘাঁটের দিকে চলে গেল। যাওয়ার আগে লুবনার সাথে তার একবার চোখাচোখি হলো।

পুকুর ঘাটে গিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে মতিন মেয়া গান ধরলো – “বিয়ার সাজনি সাজো কন্যা লোওওও ” বলিয়াই নিজের জিব্বায় কামড় দিয়ে খিট খিট করে হাসে। এ গান তো গাইতে হয় মেয়ে পক্ষের অনুষ্ঠানে। মতিন এবার নতুন গান ধরলো – “যদি বউ সাজো গো, বড় সুন্দর লাগবে গো ” গান গায় আর হাসে! এই হাসি গভীর অনুভূতির হাসি! গভীর আবেগের হাসি। তার খুশি যেন ধরে না!

দুই!
আজ মতিন মেয়ার বিয়ে। এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে বিয়ের কাবিন। লুবনার বাবা মেয়ের বিয়ে বড় ধুমধাম করে দেয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব করছেন। তিন গ্রামের মানুষ খাওয়ানো যায় এমন গরু এনে জবাই করেন। এছাড়াও তিন গ্রামের মানুষ খাওয়ানোর আরেক সূক্ষ কারন ছিলো। লুবনার বাবা জরিপ করে দেখেছে তিন গ্রামে বিবাহ উপযুক্ত অনেক ছেলে মেয়ে আছে। এ খাওয়ানোটা ভবিষ্যতে খাওয়ার একটা দূরদর্শি ভাবনার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

বিয়ের কাজ চলছে। মানুষ খাচ্ছে, যাচ্ছে, আসছে। খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ হওয়ার পর মতিন মেয়ার প্রকৃতির ডাক আসে। কিন্তু মতিন মেয়া জুতা খুঁজে পাচ্ছে না। জুতা নাকি শালি পক্ষ গুম করে ফেলছে। তাদের দাবি ছিলো পাঁচশত টাকা মাত্র। কিন্তু যখন জানতে পারে মতিন মেয়ার প্রকৃতির ডাক আসে তখন দাবি বেড়ে এক হাজার হয়ে যায়! অবশেষে কোন উপায় অন্ত না পেয়ে সম্পূর্ন টাকা দিয়ে জুতা উদ্ধার করে এবং প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়।

এরপর আসলো বিদায় বেলা। মতিন মেয়ার সদ্য বিবাহ করা বউ কান্না শুরু করে। কান্না দেখলে সব সময় সবার কান্না আসে না। কান্না হাসির মতো অতটা ছোঁয়াছে না। কিন্তু আজ বিদায় লগ্নে এ কান্নায় তাল মিলালো মতিনের খালা বর্তমানে শাশুমা। খালু ওরুপে শশুরআব্বা এবং শালিকাদ্বয়।

শশুরআব্বা বাংলা সিনেমার ধাছেই বললেন -“বাবা, মাইয়াটারে তোমার হাতে তুলিয়া দিলাম! বড্ড আদরের মেয়ে আমার। কোন কষ্ট দিও না ”
মতিন ডানে বামে মাথা ঘুরিয়ে জবাব দিলো
-“কোনো চিন্তা কইরেন না। আপনার মেয়ে মানে আমার মেয়ে। ” কথাটা বলার পরই এক শালী চিমটি কাটলো, আক্কেল আছে বলেই আবার বললো ” থুক্কু মানে আমার বউ মানেই আপনার মেয়ে। কোন অযত্ন হবে না। ”

মাটির রাস্তা দিয়ে মতিন তার বউকে নিয়ে রিক্সায় করে বাড়ি ফিরলো। বাকীরা হেঁটে, সাইকেল চড়ে সঙ্গে সঙ্গে এলো। বাড়িতে এসে যাবতীয় নিয়ম কানুন শেষ করতে রাত দশটা পার হয়ে গেল। গ্রামে তখন গভীর রাত। তাদের বাসর ঘর সাজিয়ে দিয়ে যে যেখানে পেরেছে ঘুমিয়ে পড়েছে।

বাসর ঘরে ঢুকে লুবনা প্রথম কথা বললো,
– বালিশ একটা কেন মতিন ভাই?
-ভাই ডাক শুনার জন্য মতিন প্রস্তুত ছিলো না। কিঞ্চিত লজ্জা পেয়ে বললো ” ইয়ে মানে, অনেক মেহমান তো! তাই বালিশ সংকট আরকি।।

মতিন মেয়ার এমন বাক্য শুনে লুবনা ফিক করে হেসে দিলো। লাল লিপস্টিক দেয়া ঠোঁটের সেই হেসে দেখে মতিনের হৃদয়ে এক অজানা ঢেউ খেলে গেল।
– আপনি কি মনে করেন আমি এসব বুঝি না! কেন বালিশ একটা দেয়া!
– কি বুঝো?
– যা বুঝি তা আপনিও বুঝেন।
-………
-………
এরকম আরো অনেক কথা চলিলো।

তারপর এক মাস গত হলো। মতিন এরই মাঝে খবর পেল সে বাবা হতে চলছে …….

তিন।।
মতিনের ঘর আলোকিত করে জন্ম নিলো এক ফুটেফুটে শিশু। প্রথম সন্তান হয়েছে। ছেলে সন্তান দেখে সকলেই খুশি। মতিনের ছেলেটা জন্ম হওয়ার পর বেশিক্ষন কাঁদে নি। সবাই হাঁসাহাসি করছে! সে কেন কাঁদবে! কোন দুঃখে কাঁদবে – বিষয়টা যেন এমন! মতিন তার ছেলেকে ছুঁয়ে দেখছে। নাক, মুখ সব মতিনের মতো। মতিন তার ছেলেকে দেখছে আর তার ছেলে তাকে দেখছে। মতিন অস্পস্ট স্বরে তার ছেলেকে একটা নামে ডাকলো। ছেলে যেন অবাক করা চোখে তাকিয়ে রইলো! মতিন এবার সবাইকে শুনিয়ে বললো আমার ছেলের নাম হবে রসিক। এমন কথা শ্রবণ করে সকলে হাসতে লাগলো। কিন্তু প্রতিবাদ করলো লুবনা। বলে উঠলো………

বাকী অংশ পরে…..

যদি বলেন যে খারাপ হৈচে তাহলে কিন্তু লেখা বন্ধ! :p :@

৬২২জন ৬২২জন
0 Shares

৩৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ