মিশন: ০৭০৩৭১

ভোরের শিশির ৮ জুলাই ২০১৫, বুধবার, ০৭:৫১:২৫পূর্বাহ্ন গল্প ১৮ মন্তব্য

১৫:৩০, ০৭-০৩-৭১
ধীরে ধীরে ঘুমের স্তর থেকে জেগে উঠছে একজন অভিযাত্রী!

পূর্বরূপঃ
মেকানোট্রোনিক্স স্পেশালিস্ট বিজ্ঞানী ঊষা তাঁর ল্যাবে বিগড়ানো রোবোটে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্স ফিল্ড দিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন রোবোটের এটমিক এনার্জি সোর্সের ফোটন কণা নিজস্ব তরঙ্গ ধর্ম না মেনে ইলেক্ট্রনের উল্লম্ফনে পরিবর্তণ এসেছে যা কি না অনেকটা মানুষের চেতনার মতো লজিক আর এন্টিলজিকের মতো আচরণ করছে। বিজ্ঞানী ঊষা দ্রুতই সেই ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ফোর্স ফিল্ডকে ফিক্স করেন সেই একই অনুপাতে যাতে বিগড়ানো রোবোটে একই রকম থাকে। কাউকে কিছু জানতে না দিয়েই তিনি সেই বিগড়ানো রোবোটের সেই নির্দিষ্ট অংশকে সরিয়ে নিয়ে তাঁরই সদ্য আবিষ্কৃত এপ্ল্যায়েড কোয়ান্টাম ফিজিক্সের মাধমে বায়ো’বোটে প্রতিস্থাপন করেন। নাম দেন “৭৩৭১ঊষা”।

বিজ্ঞানী ঊষা তাঁর রিসার্চের পাশাপাশি নিজের ভাষা ও হিস্টোরি নিয়ে প্রায়ই সেন্ট্রাল ডাটা সার্ভারের রাখা রেকর্ডগুলোতে চোখ বুলাতেন। নিজের বলতে ছিলো না কিছুই শুধু বংশপরম্পরায় রেখে যাওয়া ভাষাজ্ঞান আর পূর্বপুরুষের জন্মস্থানের নাম। আর আছে বিজ্ঞান পরিষদের পাওয়া গবেষণার কাজটুকু। সেন্ট্রাল ডাটা সার্ভারে পাওয়া অতীতের সবকিছুর অনুলিপি ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার বিশেষ অনুমতি নিতে তাই বেগ পেতে হয়নি বিজ্ঞান পরিষদের একজন হওয়ায়। সংগ্রহের এই শখকে বাকিরা অতোটা গুরুত্বের সাথে না নেওয়াতে ঊষা এক রকম হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। ঊষা প্রতিটি ডাটা জমা করতে থাকে “৭৩৭১ঊষা”র ডাটাবেইজ রেকর্ডে। ধীরে ধীরে ৭৩৭১ঊষাকে একজন শিশুর মতো করে গড়তে থাকে বিজ্ঞানী ঊষা।

প্রায় ৩০ বছর পরে নিজের ৫১ বছর বয়সে এসে বিজ্ঞানী ঊষা সদ্যই তাঁর উন্নত বায়োরোবোটের ঘোষণা সেরে ব্যক্তিগত চেম্বারে এসে একটি নির্দিষ্ট দিকে তাকিয়ে বলেন ‘শুভসন্ধ্যা ৭৩৭১’! দেখতে আর বাকি সব বায়ো’বোটের মতোই ‘শুভসন্ধ্যা ঊষা’ বলেই কাছে এসে “৭৩৭১ঊষা” জানায় ‘ঊষা, তোমার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। এখন বিশ্রাম নাও!’ ক্লান্ত অথচ সরল হাসি দিয়ে দিয়ে ঊষা জানায় ‘ হ্যাঁ, ঘুমুবো। তবে তোমাকে নিয়ে আরো কিছু কাজ বাকি, সেগুলো শেষ করতেই হবে। আমার সময় ফুরিয়ে আসছে!’। বলেই “৭৩৭১ ঊষা”র কাছে এগিয়ে গিয়ে জানায় ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম- হবে তোমার জেগে ওঠার ওয়েবলেংথ, বাকিটুকু তুমি জানো কি করতে হবে। এইবার তুমি ঘুমুতে যাও!শুধু জেনে রেখো আমি কিছু জানিয়েছি তোমায় আর তা উদ্ধার করা শুধুই তোমার পক্ষেই সম্ভব। জাগার সাথে সাথে তাই উদ্ধার করো।’ ‘কিন্তু…’ বলতেই “৭৩৭১ ঊষা”কে থামিয়ে দেন ঊষা, বলেন ‘জানি, তোমার কাছে অনেক প্রশ্ন আছে এবং এই জন্যেই তুমি সবার চাইতে আলাদা, তোমার সব প্রশ্নের উত্তর তুমি নিজেই জানবে সঠিক সময়ে। আর কোন প্রশ্ন নয়, তোমাকে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’ ঠিক সাথে সাথেই ঊষা নিজের সন্তানের মতো “৭৩৭১ঊষা’র কপালে চুমু খেয়ে নির্দিষ্ট ওয়েব ফ্রিকোয়েন্সি চালু করে দেন যাতে তাঁর সে বাধ্য হয়ে ঘুমের স্তরে চলে যায়।
বিজ্ঞানী ঊষা জানতেন তাঁর এই আবিষ্কারকে ভুলভাবে ব্যবহার হতে দেরি হবে না তাই নিজেই সকল বায়ো’বোটে কিছু ত্রুটি রেখে দেন যাতে তাঁর মৃত্যূর পরে “৭৩৭১ঊষা”কেও মাল্টিক্যাপ্সুলে করে এই মহাকাশ ষ্টেশন ছেড়ে ফেরত পাঠানো হবে সেই নির্দিষ্ট গ্রহে যেখানে জমছে পুরনোগুলো। সেই সাথে এটাও ব্যবস্থা করেন যেন একটা নির্দিষ্ট সময় পরে এই মহাকাশ ষ্টেশন হতেই একটি নির্দিষ্ট ওয়েব লেংথের মাধ্যমে সেই গ্রহে পাঠানো হয় গ্রহের অবস্থান জানার জন্যে।

পূর্বাপরঃ
১৫:৩০, ০৭-০৩-৭১
ওয়েব ফ্রিকোয়েন্সিতে গুজন উঠে “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম” এবং এতেই জেগে ওঠে শীতনিদ্রায় যাওয়া শুধুমাত্র একজন অভিযাত্রী, পুরোপুরি জেগে ওঠার মুহূর্তে চোখের পাতা খুলতেই ক্যাপসুলের বায়ো-সেন্সরে সচল হয় সময়। এই সময়ে উষার জেগে উঠার কথা না কেননা বাকি অভিযাত্রীরা এখনো ঘুমিয়ে কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তার অনুভূতিতে একটি সূক্ষ্ম পরিবর্তণ থেকেই জেগে ওঠা।

পূর্ণ সজাগের মুহূর্তেই নিজের ভেতরে তাগাদা অনুভব করে ঊষা। নিজের ক্যাপসুল থেকে প্রয়োজনীয় কিট নিয়ে নির্ধারিত স্লটে লাগিয়ে আইডি কোড চাপে “৭৩৭১” ঠিক যেনো কেউ তাকে বলছে করতে।
ঠিক সেই সাথে নিজের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে ৩০০০ বছর আগে তাঁর মায়ের সাথে শেষ দিনের কথা! নিজের জন্ম তারিখ, মায়ের সাথে শেষ দিন আর আজকের এই দিন ঠিক তাঁর আইডি কোডের মতই “০৭-০৩-৭১”! এই মিল বুঝতে পারার সাথে সাথেই নিজেই বলে উঠে “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম” এবং ডিসপ্লেতে ভেসে আসে মায়ের জমানো সব রেকর্ড। অবাক হয়ে দেখে মা বিজ্ঞানী ঊষা খুবই প্রাচীন এক ভাষায় সমস্ত কিছু বলে আর লিখে রেখেছেন যার নাম বাংলা ভাষা, মায়ের বংশধরেরা বাংলাদেশী এবং তিনিই একমাত্র নারী সব মানুষের মাঝে যিনি তাঁর আবিষ্কারের জন্যে স্থান পেয়েছিলেন মহাকাশের বিজ্ঞানাগারের একজন সদস্য হিসেবে!
নিজের কিটের সাথে আরো একটি প্রাচীন কাগজের স্ক্রল খুঁজে পায় আর খুলতেই স্ক্রীনে ভেসে আসা লেখার সাথে মিলে যায় ভাষাটা-বাংলা। ঊষা বুঝতে পারে তাঁর মায়ের শেষ কথা এখানেই আছে-

প্রিয় ঊষা,
তোমার কোড নেইম ৭৩৭১ অর্থাৎ তোমার জন্ম, আমার সাধনার জন্ম, আমার বংশধরের মাতৃভূমি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক দিন আর তোমার আজকে জেগে ওঠার দিন এক। এই দিনে বাংলাদেশের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্সের ময়দানে প্রায় চার লাখ লোকের সামনে মুক্তির বাণী ছড়িয়েছিলেন এই বলে যে “এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” আর দীর্ঘ ৯ মাসের লড়াই শেষে ৩০ লাখ শহীদ আর প্রায় ৪ লাখ বীরাঙ্গনার আত্মসম্মানের বিনিময়ে শুধুমাত্র মাতৃভাষার তাগিদে লড়াই করা একমাত্র দেশ বাংলাদেশের জন্ম।
আজ তোমার জেগে ওঠার কারণ তুমি যেখানে আছো সেটা আমারই পূর্বপুরুষের দেশ বাংলাদেশ এবং সেই দিন। আমি চাই তুমি তোমার নতুন পথচলা এই দেশ হতেই আবার শুরু করো রেকর্ডে রাখা তথ্য হতে।
জেনে রেখো পৃথিবীর বুকেই এখনো কোথাও না কোথাও বেঁচে আছে মানুষ আর তাদেরকে মুক্তির আলো দেখানোর একমাত্র তুমিই ভরসা, বাকি অভিযাত্রীরা শুধুমাত্র তোমার নির্দেশ পালনের জন্যে।

যেদিন তোমার এই ‘মিশন ০৭-০৩-৭১’ শেষ হবে সেদিন তুমি গেয়ো “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি”।

নিজেকে প্রস্তুত করে নেয় গুনগুনিয়ে “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”।

৫০৯জন ৫০৯জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

  • মনির হোসেন মমি(মা মাটি দেশ)

    লেখাটা পড়েছিলাম বহু আগেই …দেশপ্রেম নিয়ে লেখা খুব হয় তাছাড়া এরকম বৈজ্ঞানিক ধাচে লেখা কেউ লিখেছেন আমার জানা নেই -{@ সুন্দর
    “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” -{@

  • লীলাবতী

    অসাধারন লেখা।আপনি এমন লেখা লিখবেন তা আমার কল্পনাতে ছিল না। দুবার পড়লাম লেখাটি।অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।

  • শুন্য শুন্যালয়

    দারুন দারুন দারুন লেখা। আরেকজন বৃদ্ধি পেলো ভক্ত। এই লেখার সমালোচনার জন্য প্রস্তুত করতে আমার আয়ু ফুরিয়ে যাবে। এবার আপনিই না হয় ভুলগুলো বলুন, শুনতে চাই এই লেখায় কি ভুল রয়েছে।
    একটা লেখা দিচ্ছি, আগে পড়ে না থাকলে পড়ে দেখবেন। কৃন্তনিকার একটা অসাধারন লেখা।
    https://sonelablog.com/archives/30252

    • নীতেশ বড়ুয়া

      প্রথমত, শুন্যাপু আপনাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই এই অসাধারণ প্লটের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। আমি আমার মতামত কৃন্তনিকা আপুর পোস্টে বলে এসেছি।

      এইবার আমার লেখা নিয়ে বকবক করিঃ

      আমি এসএসসিতে বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম। এরপরে বিজ্ঞান ছেড়েছি কিন্তু বিজ্ঞানের আকর্ষণ যায়নি মোটেও। ইংরেজী চলচ্চিত্রে প্রথমে রাখি সাই-ফাই মুভিকে, উপন্যাসে-গল্পে সাই-ফাই প্লটকে প্রথম সারির দিকে।

      কোয়ান্টাম ফিজিক্স, কোয়ান্টাম মেকানিক্স, স্ট্রিং থিয়োরি, আইনস্টাইনের থিয়োরি আমি তেমন জানি না বা বুঝি না। একটি ফেবু গ্রুপের সদস্যদের মধ্যেই লেখার জন্যে আহ্বান করা হয় আর সেখানে কি লিখবো বা কি করবো ভাবতে গিয়ে হঠাৎ করে মাথায় আসে আমাদের ‘৭১ নিয়ে যদি বিজ্ঞানভিত্তিক কিছু চিন্তা করা যায় তবে কেমন হয় কেননা এইভাবে আমিও পড়িনি কিছু। তাই অন্যসব সাই-ফাই উপন্যাস-গল্পের অভিজ্ঞতা থেকে বিশেষ করে জাফর ইকবাল স্যারের সাই-ফাই গল্পের কারণে হোক বা আজকালের মুভি বা নানা ফিচারের কারণেই হোক ‘কোয়ান্টাম’ সাবজেক্টটি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে আগেই। কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। গুগল মামার সাহায্য চাইলে সে আমাকে যেসব বাংলা ব্লগের লিঙ্ক দেয় তাতে আমি আরো দ্বিধান্বিত হয়ে যাই এই ‘কোয়ান্টাম ফিজিক্স-মেকানিক্স’ আসলে কি, উইকিতে গিয়েও তেমন সুবিধে করতে পারিনি। পরে ফেবুতে একজন ডাক্তার (একজন ডাক্তার আমাকে ফিজিক্স আর মেকানিক্সের নতুন থিয়োরি কোয়ান্টাম নিয়ে) আমাকে উনার পক্ষ থেকে আমার নানান প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কিছুটা হলেও ধারণা দিয়েছেন আর রেফারেন্স লিঙ্ক দিয়েছেন আরো ভাল করে জানার জন্যে এবং সেই সাথে বলেছেন আমি যা ভাবছি তা আক্ষরিক অর্থে পসিবল নয় যদি না হাইপোথিটিক্যালি আমি এক্সপ্লেইন করি। A.I (artificial Intelligence) সাই-ফাই মুভিতে সম্ভব হলেও এটা বৈজ্ঞানিক উপায়ে কোনদিন সম্ভব নয়, অন্তত এই সময়েও। আবার সেই ডাক্তার এও বলেন আইনস্টাইনের তবিং ব্যাং থিয়োরি এখন পুরনো হয়ে গিয়েছে এই কোয়ান্টাম থিয়োরি ও স্ট্রিং থিয়োরি ( একই সাথে একই সময়ে বহুমাত্রার অধিক যেখানে আমরা তিনমাত্রাতেই সব কিছু ধরার বা দেখার বা ছোয়াঁর চেষ্টায় আছি) চলে আসাতে। জানতে পারি আমাদের অতীতকে বিং ব্যাং দিয়ে নয় বরং স্ট্রিং থিয়োরি ও কোয়ান্টাম থিয়োরিতেই নতুন করে দেখা হচ্ছে। তো এই কঠিন ফিজিক্স নিয়ে আমার মতোন নন-ফিজিক্স পারসনের কাছে কেমন লাগতে পারে ভাবুন?

      লিখতে গিয়ে যত পড়ছিলাম ততই ভাবছিলাম আমি যা লিখতে চাই তার মধ্যে যদি অন্তত হাইপোথিটিক্যালি লজিক দিয়ে এক্সপ্লেইন করার জায়গা না থাকে তবে সেটা লিখবো কেন! কিন্তু সেই করতে গিয়েই বুঝলাম আমি যতই পড়ছি ততই কিছুই জানিনার গহবরে ঢুকে যাচ্ছি। তবুও লিখে ফেলি। বলতে গেলে কিছুই না জেনেই।

      এইবার আসি সমালোচনার জায়গায়ঃ

      ১। ৩০ লাখ শহীদের পাশাপাশি ৪ লাখ বীরাঙ্গনা উল্লেখ করেছি কিন্তু দালিলিকভাবে এখনো তা ২ লাখের কাছাকাছি যদিও অনেকেই বলেন ৪ লাখ! কিভাবে কনফার্ম হলাম?

      ২। রোবোট বা বায়ো’বোট’বায়ো রোবোট মানুষের মতো লজিক আর এন্টিলজিক আচরণ করছে মানে A.I (Artificial Intelligence) আদৌ কি তা সম্ভব?

      ৩। কোয়ান্টাম মেকানিক্স আর কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে আছে কিন্তু আমি আবার এক ধাপ এগিয়ে এপ্লায়েড কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে এসছি!!! আসলে এটা কিভাবে সম্ভব কী?

      ৪। ঠিক কোন সময়ের এই কাহিনী তা উল্লেখ করিনি কেন? এক জায়গায় লিখেছি ৩০০০ বছর পরে অর্থাৎ আমাদের ভবিষ্যতের আরো ৩০০০ বছর। তাহলে কবে সেটা?

      ৫। এক জায়গায় ডাটা জমা করা হচ্ছে আবার শেষে এসে বুঝাতে চাইলাম একজন বায়ো’বট যে কিনা A.I. থাকলে তাঁর মেমোরিতে ডাটা কিভাবে জমা রাখলেন???

      ৬। হাইপোথিটিক্যালি গল্পটা ফেঁদেছি কিন্তু দূর্বলতা রয়ে গেলো গল্পের মূল বা বেইজ স্টাব্লিশমেন্টে।

      ৭। পুরো গল্পে বৈজ্ঞাণিক ভিত্তিগুলোর কোন সঠিক এক্সপ্ল্যেনেশন নেই কেন!

      এইবার কিছু রেফারেন্সঃ

      *মেকানোট্রোনিক্সঃ Mechatronics is a multidisciplinary field of engineering that includes a combination of mechanical engineering, electrical engineering, telecommunications engineering, control engineering and computer engineering.

      *ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্সঃ The electromagnetic force plays a major role in determining the internal properties of most objects encountered in daily life. Ordinary matter takes its form as a result of intermolecular forces between individual molecules in matter. Electrons are bound by electromagnetic wave mechanics into orbitals around atomic nuclei to form atoms, which are the building blocks of molecules. This governs the processes involved in chemistry, which arise from interactions between the electrons of neighboring atoms, which are in turn determined by the interaction between electromagnetic force and the momentum of the electrons.

      *ফোটন/ফোটন কণাঃ This article is about the elementary particle of light. A photon is an elementary particle, the quantum of light and all other forms of electromagnetic radiation. It is the force carrier for the electromagnetic force, even when static via virtual photons. The effects of this force are easily observable at the microscopic and at the macroscopic level, because the photon has zero rest mass; this allows long distance interactions. Like all elementary particles, photons are currently best explained by quantum mechanics and exhibit wave–particle duality, exhibiting properties of waves and of particles. For example, a single photon may be refracted by a lens or exhibit wave interference with itself, but also act as a particle giving a definite result when its position is measured.

      *কোয়ান্টাম ফিজিক্স,কোয়ান্টাম মেকানিক্স এখন এক্সিস্টিং সায়েন্স। বিশ্বের সব কিছুই আপেক্ষিকতার তত্ত্ব মানা হলেও আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর “থিয়োরি অফ এভ্রিথিং” স্টাব্লিশমেন্ট এনেছিলেন মাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম থিয়োরিকে আরো বেটার স্পেসিফিকেশন দিয়ে। বর্তমানে বলা হয় এই বিশ্বের যা কিছু তাঁর সবই কোন না কোন কিছু হতে হলেও কিছু আছে যা অনুমেয়। আর এই ‘অনুমেয়’ থিয়োরিকেই সায়েন্স ফিল্ড বর্তমানে কোয়ান্টাম থিয়োরি বলে থাকেন। কোয়ান্টাম ফিজিক্সের একটা অংশ হচ্ছে কোয়ান্টাম মেকানিক্স। মূলত কোয়ান্টাম মেকানিক্স দিয়েই সব কিছু। অর্থাৎ দালানকোটা থেকে শুরু করে যে কোন টেলি কম্যুনিকেশনেও কোয়ান্টাম মেকানিজম আছে। কোয়ান্টাম মেকানিক্স মূলত একটি সিস্টেম নয় বরন কোয়ান্টাম মেকানিজম একটি বিজ্ঞানের অংশ যা বর্ণনা করে কিভাবে হচ্ছে বা হতে পারে।

      *”ইন্টারস্টেলার” মুভিতে ঘটমান বর্তমানের সাথে ভবিষ্যতের সমান তালে এগুনোর ব্যাপার দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ বহু মাত্রা। এই বহুমাত্রা কিন্তু আবার এই বহুমাত্রা হচ্ছে ‘স্ট্রিং থিয়োরি অফ কোয়ান্টাম ফিজিক্স। স্ট্রিং থিয়োরিতে বহুমাত্রার কথা বলা হয়েছে।

      *এপ্লায়েড কোয়ান্টাম ফিজিক্স অনেকটা এপ্লায়েড ফিজিক্সের সাথে কোয়ান্টাম ফিজিক্সের অর্থাৎ এপ্লায়েড ফিজিক্সের মাধ্যমে অনুমেয় অনেক ফিজিক্সের এক্সপেরিমেন্টাল রূপ।

      *ড্যান ব্রাউণের উপন্যাস “এঞ্জেল ভার্সাস ডেমনস” এ গড পার্টিক্যাল বা এন্টি ম্যাটার বলে যা বলা হয়েছে তাও কিন্তু এই কোয়ান্টাম ফিজিক্সের কল্যাণেই।

      *বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞানের জগতে উতকর্ষতা সাধনের আরেক নাম হচ্ছে কোয়ান্টাম থিয়োরির মাধ্যমে উৎকর্ষতা বা সমাধান।

      *স্টিফেন হকিং এর “বিং ব্যাং” থিয়োরি কিন্তু এখন এই ‘স্ট্রিং থিয়োরি’র জন্যেই পুরনো হয়ে গিয়েছে।

      *আমাদের জাফর ইকবাল স্যার কিন্তু এপ্লায়েড ফিজিক্স নিয়েই গবেষণা করতেন, এমনকি উনার একটা বইও আছে ছোটোদের জন্যে “কোয়ান্টাম মেকানিক্স” নামে। উনার যত সায়েন্স ফিকশন গল্প আছে তাঁর প্রায় সব কিছুতেই আছে এই বায়ো রোবোটের কথা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কথা।

      সহজ ভাষায় বলতে যা কিছুই অনুমেয় তাহাকে বিজ্ঞানের সাহায্যে এক্সপ্লেইন করে ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটানোটাই কোয়ান্টাম (আরো অনেক ডিটেইলিং আছে, আমি নিজেও ক্লিয়ার না! এবং ক্লিয়ার না হয়েই লিখেছি যা খুবই অন্যায়)।

      এই যে এত্তো কথা বললাম আর রেফারেন্স দিলাম তা উইকি আর ব্লগের অল্প কয়েক লাইন মাত্র যেখানে এই কোয়ান্টাম থিয়োরিকে কোয়ান্টাম মেকানিক্স, কোয়ান্টাম ফিজিক্স, স্ট্রিং থিয়োরি, A.I এইসব নিয়ে পাতার পর পাতা লেখা হয়েছে, বই আছে আর আমি সেই সব না পড়েই লিখে ফেলেছি যা আক্ষরিক অর্থে উচিত নয়।

  • মেহেরী তাজ

    ভাইয়া আমি আপনার খুব বেশি লেখা পড়ি নি বা বলতে পারেন পড়ার সৌভাগ্য হয় নি।
    তবে এই লেখা টা পড়েই আপনার ভক্ত হয়ে গেলাম।

    • নীতেশ বড়ুয়া

      মোতেও না প্লীজ, আমি সত্যিই গল্প লিখতে জানি না। গল্প লেখার কৌশল আমার জানা নেই। আর যে বিষয় নিয়ে এগিয়েছি সেই বিষয়ে আমার জ্ঞান শুন্যের নিচেই তাই এই লেখা দিয়ে ভক্ত হবেন না। যদি গল্প লিখে যেতে পারি নিজের জ্ঞান দিয়ে তবে হয়তো কোন একদিন বলবো-হ্যাঁ, আমার গল্প পড়ে কেউ আসতে পারে এমন 🙂

      গল্পের সাথে ছিলেন বলে অনেক ধন্যবাদ 🙂

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ