নিছক গল্প-১

সুমনের ঘরে বাসর রাতে বাত্তি নেভানোর গান বাজছে। বাসর রাতে বাত্তি নিভে যাওয়া মানে মামলার শেষ স্বাক্ষীটারও পটল তোলা-একটি কি করি না করি টাইপের ইন্টু মিন্টু অবস্থা। বাঙলা গান একটা শরীরী ঠিকানার দিকে ছুটছে। এখন সে বাসর ঘরে হাজিরা দিচ্ছে, মধ্যরাতে ঘরের মধ্যে খুট্ খুট্ শব্দ হচ্ছে। সুমনা নামের এক কোটিপতি কন্যার একটু মনযোগ পাবার [বিস্তারিত নিছক গল্প-১]

গল্পকার

সে গল্পকার। কয়েকদিন ধরে একটি গল্প মাথায় ঘুরছে, কিন্তু গুছিয়ে লিখতে পারছে না। খুবই অস্থির লাগছে। গল্প লেখা তার নেশা। চায়ের নেশার মতো না বরং আফিমের নেশার মতো। সে গল্প লেখে নিজের জন্যই। নিজের লেখা দেখে নিজেই মুগ্ধ হয়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে মাথায় থাকা গল্পটি আঙ্গুল পর্যন্ত আসছে না। পাতার পর পাতা লিখে ছিড়ে ফেলে [বিস্তারিত গল্পকার]

আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর ওর সাথে একদিন !

  মাস্কটের সিক্সথ ফ্লোরের নোকিয়া কেয়ারে ওকে পেয়ে আমিতো অবাক ! কখনো দেখা হতে পারে আমাদের, কিংবা হবে কখনো, এ ছিলো কল্পনার অতীত । ভেবেছিলাম এড়িয়ে যাবে । যায়নি, অবাক করে এগিয়ে এসে বললো, আরে, তুমি যে এখানে ! কেমন আছো ? কোথায় আছো ? প্রশ্ন অনেকগুলো ! আট বছর পাঁচ মাস পর পুনর্বার আমাদের [বিস্তারিত আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর ওর সাথে একদিন !]

কবর

খুব গরম পড়েছে । ঠান্ডা পানিতে গোছল করতে পারলে বেশ হতো । কিন্তু নতুন কোথাও এসে মোসলেম সাহেবের বাথরুমে যেতে ইচ্ছে করে না । সারাজীবন কেটেছে কলেজের ডরমেটরীতে । বিয়ে শাদী করেন নি । রুম কিংবা বেড শেয়ার করতে আপত্তি কখনই ছিল না । কিন্তু বাথরুম ব্যাপারটা এক্কেবারেই ভিন্ন । এসেছেন তাঁরই এক ছাত্রের বাসায় [বিস্তারিত কবর]

“ইচ্ছা পূরনের গল্প”

———————————————————————————- উৎসর্গঃ সেই সব স্বপ্নবাজ মানুষদেরকে, অদম্য ইচ্ছার বলে যারা নিজেদের “ইচ্ছা পূরনের গল্প” রচনা করে যাচ্ছে…। ———————————————————————————– মাঝরাতে হঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে গেল নিশাতের।বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে।কষ্ট করে বিছানা থেকে উঠে ডিম লাইটটা জ্বালালো ও।বিছানায় অঘোরে ঘুমুচ্ছে জাহিদ। আবছা আলোয় ওর মুখের দিকে তাকাল নিশাত।মুখ হা করে ঘুমানোর অভ্যাসটা আর গেল না জাহিদের। এটা [বিস্তারিত “ইচ্ছা পূরনের গল্প”]

দুঃস্বপ্নের বন্দরে দাঁড়িয়ে…

  এত বিভীষিকা, রক্তমাখা এত জামা কিংবা দীপ্তিহীন এত কান্না কোথায় রাখি কোথায় রাখি আমি ও আমরা হৃদয়হীন ধর্মীয় আচার ? কোথায় রাখি নৈরাজ্য প্রতারণা নির্মমতাকে এত কোন কাঁধেইবা বয়ে যাই রক্তমাখা এত লাশ ? জ্বলজ্বলে চোখের যে ছেলেটি পড়াশুনা করতো শহরে কিংবা অসহায় মায়ের শেষ আশ্রয় মেয়েটি যে কাজ নিয়েছিলো গার্মেন্টসে লাশ হয়ে ফিরেছে [বিস্তারিত দুঃস্বপ্নের বন্দরে দাঁড়িয়ে…]

আহা ভেলকি !

বাংলাদেশ তোমার সন্তানেরা বিভক্ত হয়ে গেছে আজ। বিভক্ত হয়ে গেছে প্রবল ব্যাক্তিস্বার্থে;  মানবিক ক্ষুদ্র স্বার্থে ভিন্নতর । অথর্বের দল এই মালিকানা চায় তোমার কলজের । চায় হৃদপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনীরও । একদল তাঁদের বিশ্বাস পোষে লেবাসি ধর্মতন্ত্রে, আরেক দলের তৈলমর্দন প্রভুতন্ত্রে । ওঠে মেতে সগৌরবে উন্মাদের অশ্লীল উৎসবে ! ফেরি করে রাক্ষুসে ক্ষুধা, যেন হায়নার [বিস্তারিত আহা ভেলকি !]

মনময়=মন্ময়

শুক্রবারে নিজের চেম্বারে বসি। রোগীর ভিড় লেগেই থাকে। সেদিনও দেখছিলাম। ‘আলপনা’ নামের ছাব্বিশ-সাতাশের একটি মেয়েকে নিয়ে এসেছিলো তার হাজব্যান্ড মৃদুল। আলপনাকে চেকআপের পর বললাম- “দেখুন, পেশেন্টের যা অবস্থা দেখলাম, উনাকে হসপিটালে অ্যাডমিট করা উচিত। আমার চেম্বারে না এনে-” “ওকে হসপিটালে ভর্তি করতে চাই না”, মৃদুল বলল। “পেশেন্ট কিন্তু ডেঞ্জারাস, বাসায় সামলাতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে [বিস্তারিত মনময়=মন্ময়]

স্বাধীনতা

স্বাধীনতা চাই ! স্বাধীনতা ! না! এ স্বাধীনতা কোন দেশের জন্য নয় যাকে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন করা প্রয়োজন কিংবা নয় মাস জীবন বাজি রেখে যেতে হবে যুদ্ধে । এ স্বাধীনতার জন্য কোন বোনের সম্ভ্রম হারাতে হবে না হারাতে হবে না কোন মায়ের সন্তান । এ স্বাধীনতা ভালবাসার জন্য ভালবাসার মানুষের জন্য ভালবাসতে চাই [বিস্তারিত স্বাধীনতা]

জেগে থেকো, অপেক্ষায় জেগে থেকো প্রিয়তমা !

এত ভালোবেসেছো, কোথায় যাই তোমায় ছেড়ে টুকটুকে লাল ফুল ? যতই চাই, দুই চোখের মনি ফেটে, তোমার ভালোবাসা উপচে পড়ে, উপচে পড়ে টলমল অশ্রুবিন্দু হয়ে । কিভাবে যাই আমি ? জেনো, তুমিতো স্বপ্ন কিংবা কল্পনা নও, স্বপ্নাধিক সত্যি ভালোবাসা । হৃদয়ের খুব কাছে শাদা নীলমনি ফুল, ফুটেছো সমস্ত আবেগ মিশিয়ে । দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলো কিভাবে [বিস্তারিত জেগে থেকো, অপেক্ষায় জেগে থেকো প্রিয়তমা !]

অন্যপূর্বা

তালগাছের মতোই লম্বা ছেলেটা। সবসময় কুঁজো হয়ে হাঁটে। মাটির সাথে মিশে যেতে পারলেই যেন ভাল হতো। এই রেলস্টেশনটা শাওনের প্রিয় একটা জায়গা। প্রায়ই আসে শাওন, রেললাইনের উপর দিয়ে হাঁটে। কখনো বা বেঞ্চে বসে, চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে। অন্যদিনের মতোই এক বিকেলে বেঞ্চে বসেছিল। খেয়াল করল, বিয়ের সাজে সজ্জিত এক মেয়ে আসছে বেঞ্চের দিকে। বৌ সাজলে সব [বিস্তারিত অন্যপূর্বা]

আষাঢ়ে ভেজা

বিবস রাতের কাহিনীকে কি বলবে তুমি? সবুজের মায়া নাকি পথচারীর ফেলে আসা কোনো আনমনা পায়ের ছোঁয়া! প্রশ্নের একতারায় ছেয়ে থাকে মেঘ,বৃষ্টির, নাড়ির টানের কথা, স্মৃতির দরজার কড়া নাড়ার আওয়াজ, খুলে দেখি ক্লান্ত বাতাস আর আয়্নায় তোমার মুখ, এই বুঝি ….. এই বুঝি… মৃত্যু পথযাত্রী – দুরাশা! কতটা ভালোবাসলে, ফুটপাতের টিনের কৌটোর জীবন বেঁচে থাকে,চাতকের উত্তরহীন [বিস্তারিত আষাঢ়ে ভেজা]

খণ্ডিতা

ট্রেনে ঢাকা ফিরছিলাম। নতুন গল্পের প্লট নিয়ে ভাবছিলাম। আমার কামরার সঙ্গীটি পঁচিশ-ছাব্বিশের এক তরুণী। শুনেছি, দুটি স্ত্রীলোক একজায়গায় থাকলে বেশিক্ষণ চুপ থাকতে পারে না। আমি চুপচাপ ছিলাম। আমার সাথের মেয়েটি চুপ থাকতে পারল না। ওর নাম ‘অহনা’। ‘জেরিন মির্জা’ পরিচয় দিতেই বলে উঠল,”আপনার হাজব্যান্ডই কি ঐ ফ্রেঞ্চ ফটোগ্রাফার? নাম টা যেন কি?” “আঁদ্রে পার্কিনস। এক্স-হাজব্যান্ড।” [বিস্তারিত খণ্ডিতা]

রঙ তামাশার পিচ্চি পদ্য – ৫

১. জীবন যেন কচু পাতার পানি, কখন কোথায় গড়িয়ে পড়ে কেউ নাহি তা জানি! ২. কোন পথে যাই নাই ঠিকানা যদিও যাওয়ার নেইকো মানা মেলছে না আর ইচ্ছে ডানা ইচ্ছে প্রজাপতির, স্রোতের টানেই ভাসছি কেবল মিলছে না রে তীর… ৩. নেইকো মানা মেলছি ডানা আকাশ পানে উড়বো বলে, যাক চলে যাক মন্দ বাতাস ফিকে অতীত [বিস্তারিত রঙ তামাশার পিচ্চি পদ্য – ৫]

রঙ তামাশার পিচ্চি পদ্য – ৪

০১. প্রেম পিরিতির ছলা কলা সবই তুমি জানো, চালে উঠে জাল ফেলে হায় ঘরে বসে টানো! ০২. তুম নাহি ত ডুব যায়েগা ঝাপ দিয়ে নদ জলে, ডুব দিয়ে জল খাচ্ছো ঠিকই অন্য নদের তলে… ০৩. আমি তখন তরুণ অবস্থাটা করুণ, হাত বাড়াচ্ছে সবাই ধরুন ধরুন ধরুন; বয়স হলো বটে আজগুবি সব ঘটে, মুখ ফেরাচ্ছে সবাই [বিস্তারিত রঙ তামাশার পিচ্চি পদ্য – ৪]