দাগ

সে বনভূমির আড়ালেও জ্যোৎস্না নেমেছিল, বীথিবনের মর্মর ঝরা পত্রে কারো তো বিলীন সুর, বিবর্ণ পাতারা এখন সবাই জ্যোৎস্না হয়ে আছে, তবু এক হিংস্র গর্জন সেই চোরা নদীটির পারে– যেখানে নগ্ন সন্ধ্যা নেমে ছিল— হারিয়ে ছিল জীবনের কিছু ছায়া টুকরো, বনভূমি খুঁজে ফেরার–আদিম ভগ্নাবশেষে খুঁজে ফিরি চকমকি জ্বলে ওঠা তোমার সুরমায় শরীর.. মনের মাঝে অরণ্যের ঘ্রাণ, [বিস্তারিত দাগ]

রমাকান্ত নামা–কাঁচ ভাবনা

কখন যেন রমাকান্তর ঘুমটা জেঁকে বসেছিল। স্ত্রী, শৈলবালার আঃ আঃ বেদনা সূচক আওয়াজে তিড়িং করে উঠে বসলেন বিছানায়। ভোরের আলোর আবছায়ায় দেখলেন, স্ত্রী তাঁর পা চেপে বসে ব্যথায় কাতরাচ্ছে ! –কি হল তোমার ? –এটা তোমার কাজ ? ব্যথা ভুলে যেন স্ত্রীর পাল্টা আক্রমণ। –কি ? অবাক হয়ে রমাকান্ত বলে উঠলেন। –তুমি গ্লাস ভেঙ্গেছ ? হঠাৎ গত [বিস্তারিত রমাকান্ত নামা–কাঁচ ভাবনা]

কুয়াশা

অর্গল এঁটে দিলাম, বাতাসের সঙ্গে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলির কথা তুমি হয়তো জানো– অজস্র কথা মরে গ্যাছে– ঝড়ের মত সুনামি থেমে গিয়েছিল বহুদিন আগেই– এখন মৃতের উঠে আসে দেওয়াল ছবিতে– জলজ ভাষাগুলি তোমার অনুনয়ে ভাষা পেত যদি তবে কি ঠিকানাগুলি জেনে নিতে পারি ! সন্ধ্যাছায়ার মাঝে জীবনের লুকোনো পরিধি– পরিচ্ছদ আড়ালে প্রথমত ঘন কুয়াশা…

চিলেকোঠা

চিলেকোঠার স্বপ্নগুলি আধ অন্ধকারে ভেসে যাচ্ছে– সিঁড়িগুলির ধীর পায়ে পায়ে উঠে আসা– ছায়াগুলি ছুঁয়ে আছে অন্য ছায়ায়। এখনও লুকোনো কার্নিশ ঘেঁষে, সেই হাত পা ছুঁয়ে আছে শৈশব, চিল উচ্চতার ভাবনাগুলি একান্ততা খোঁজে– ফিরে আসার ভাষ্যগুলি চুপচাপ শুয়ে আছে

পাখি

পাখিদের ভাবনাগুলি আকাশ হতে পারত… ব্যপ্ততার রংছবি আবার যদি ছড়িয়ে দিই— আবার যদি ভরে নিই নিজস্ব পাত্রে তবে কি পারব ঠিক আগের মত আঁকতে একটি ভোরের সম্ভ্রম !   পাখিদের ডাকে যদি ভোর হত, দিবা স্বপ্নগুলি বিভ্রম ছিঁড়ে জেগে উঠত ফল্গু— বস্তু মননে,তুমি তবে পাখি,পাখির স্বপ্নে মানুষের স্বপ্ন ভাস…

ওরা কারা ! (অলৌকিক, এক মাস আগে ঘটিত সত্য ঘটনা নিয়ে লেখা)

ভিলাই থেকে জবলপুরের দিকে ট্যাক্সি ছুটে চলেছে। ট্যাক্সিতে আমার মেয়ে, জামাই, ছেলে আর দুই নাতনী। তখন রাত প্রায় বারটার কাছাকাছি। ড্রাইভার পথ ভুলে শর্টকাট ছেড়ে লম্বা রাস্তা ধরে ছিল। ওরা তখন নয়ন পুরের কাছাকাছি, মানে, জবলপুর তখনও আড়াই শ কিলোমিটার দূরে। ওদের ট্যাক্সির পেছনে পেছনে নেভিব্লু রঙের একটা মিনি ট্রাক বেশ কিছু সময় ধরে পিছু পিছু আসছিল। [বিস্তারিত ওরা কারা ! (অলৌকিক, এক মাস আগে ঘটিত সত্য ঘটনা নিয়ে লেখা)]

তিনটি কবিতা–

(১) কতটা দেখেছ তুমি–কতটুকু উদ্ভাস যন্ত্রণায় রাতের সেতার বাদক আনমনে যে সুর টেনে নেয় বুকে জীবন বয়ে গেছে রাতের আঁধারে…তবুও কাঙ্ক্ষিত সে রাগ ধরতে পারে নি সে তার বেহাগ আলাপে স্ফটিক কক্ষের সাঁঝবাতি নিভে গেল কাঁচ ঘনত্বে শুধু ফুটে ওঠা সে অভিমানী মুখ ! (২) তুমিও পার নি–যাত্রা পথ মাঝ পথ থেকে করেছ বিসর্জন ধূলি পায়ে আড়মোড়া [বিস্তারিত তিনটি কবিতা–]

বিন্দু

যে আছ যেখানে শ্বাস নিয়ে যাও পাতার মর্মরে–বাতাস ভাসানে অস্তিত্ব ছড়িয়ে ছিটিয়ে একাকার আকাশের মত তবু অন্য এক পৃথিবী,অন্য এক জগৎ– তোমার বাস,তোমার শ্বাস,সত্ত্বার কাছে তুমি জেনেছ তোমাকে, একান্তে,বিজনে,বিহনে– অন্য কেউ জানে না এ গভীরতা–আরাম কেদারার দোলন, সান্ধ্য বিহগের মত কুলায় ফিরে আসা,অসংখ্য খেচর– দিবাচর কিম্বা নিশাচর তাতে কিছু যায় আসে না– তোমার খোলস পৃথিবী দেখো তোমার ভিতর– তোমার [বিস্তারিত বিন্দু]

ফুল

একটি ফুল , তবে কি আর একটি  ফুলের দিকে তাকানো যাবে না ? এমনটা কি হতে পারে ? তুমি যদি  হেসে ওঠো পদ্মরাগে–জানি না কি পরিচয়টুকু , একটি নারীর লাবণ্যে যদি ফুটে ওঠে ফুল– রং পাপড়ির মাঝে যদি জেগে ওঠে মন্থর ভালবাসা , তবে অন্তর আবেগে কেন এই শৃঙ্খল মন ? এক বন্দী মন , বন্ধ এক ঘর ! তুমি [বিস্তারিত ফুল]

বেড় ও যখন–দুটি কবিতা

  বেড়   সিদ্ধ তোমার ঘ্রাণ শরীর তুমি কাঁচ বিন্দুতে দেখো তোমার বুকের বেদন। বৃক্ষ যদি পুরুষ নারী হবে লতা নিবিড় বেড় যদি তোমার কামনা তবু দিবারাত্রির একই বৃত্ত বলয়– কখনো তো মন উড়ু ঝড়ো হাওয়ায় পিছে ফেলা দিনগুলি উঁকি দিয়ে যায় যত হোক ঝরা পাতার শুকনো বাকল শরীর, সোনালী স্পর্শ ঘের স্বর্ণ লতার বাহুডোর, আবার [বিস্তারিত বেড় ও যখন–দুটি কবিতা]

ভুলে যাওয়া

তুমি বলো,ভুলে যাও আমায় ! আমি চেষ্টা  করেছি বারংবার, যদিও তুমি বুকের আদল ভেঙেছ, কঠোর রৌদ্রে আমার অন্ধকার বিষণ্ণতা, বিসর্জন ফেলে আসে নদীর কিনারা, স্মৃতির জলদ চোখের কাঠামোয় আবার মাটির পরত–আবার সজ্জার রংচং আবার চক্ষুদানের মন্ত্র পাঠ চলে, অবশেষে সেই তুমি– ছুটে যাওয়া দূর ততখানি কাছে আসে স্মৃতির বেদন…

কৌমার্য

  কত প্রহর জাগরণ, আগলে আছো কৌমার্য বাকল ঘেরা দেহ, পরত মাটির তোমার শরীর,গরম তাপ ভাঙে-গড়ে স্থৈর্য, তবু সেটুকুর দেওয়াল পরিধি । শুঁকে দেখো সেই শেফালির ঘ্রাণ ছেঁকে আছে সেই ঘেরা শিশির জল, লালিম সকাল ভাঙে রুপালি রোদ্দুর– যত ঢাকা থাক মাটির বুক শেফালী তল সাদা আস্তরণ ঢাকা শুয়ে আছ তুমি নিষ্কাম বন্ধ্যা, আলোক ছুঁয়ে যাবে তোমার অচ্ছুত [বিস্তারিত কৌমার্য]

শেষ জ্বলা আলো

  সবাইকে চলে যেতে হয়, তবু এই পৃথিবী আঁকড়ে পড়ে থাকার অদম্য ইচ্ছা… জাগতিক চিহ্ন হাতের মুঠোয় ধরে রেখে সেই প্রকৃতির সবুজ ঘ্রাণের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে জানি এক দিন থমকে যাবে জীবন। তবুও মোহিত ছবির পৃষ্ঠা থেকে সরে না নয়ন, সরে না কাঁড়ি কাঁড়ি স্মৃতির ঝাঁপি, যে ছবি স্মৃতির ফলকে ঘিরেছে দেওয়াল– সেও রেখে গেছে তন্দ্রায়িত ভাবনার স্বপ্ন।   জানি [বিস্তারিত শেষ জ্বলা আলো]

অন্য মুখ

রাতের আলো ছায়ায় সে কি তোমারই মুখ ! স্মৃতির সৃজন মন খুলে যায় ধরো ভালবাসি যদি এখন,বাল্যে যে তোমাকে দেখেছি সে তোমার কৈশোরের পাখিদের গানে নয়– কিম্বা স্বপ্নের মেঘ উড়িয়ে বৃষ্টিঝর ধ্বনি শব্দে নয়– কৈশোরের দেখা আর এক তুমি ছুঁয়ে থাকো বসন্ত…   ঘরের একলাটি তুমি জানালায় উদাস দাঁড়িয়ে যদি দেখো নীলাকাশ, তোমার ভাবনাতেই সেই [বিস্তারিত অন্য মুখ]

বন্ধু !

  জীবন নাকি ছোট্ট তবু কেন এই ক্ষণাতুর চঞ্চু ডুবানো ! যত আলুথালু হোক তোমার বেশ,আমি ছুঁতে পারি তোমার শরীর !   কামিনী রাতের ঘর,জ্যোৎস্নার ধার,ছুঁয়ে থাকে বন বনান্তর অসংখ্য ইশারায় রাত জেগে থাকা,বন্ধু ! তুমি একজন,কাছে থেকো আমার ডুবে যেতে চাই যদি পাঁকে–কমল তুমি ফুটে উঠো পাশটিতে– পাপবিদ্ধ পুরুষের দঙ্গল ছুটে চলেছে দেখো,উজাড় করেছে হৃদয় উত্তাপ, বন্ধু ! [বিস্তারিত বন্ধু !]