প্রভাবতী

বাজে নিহিত গর্জন; মেঘহীনা বাতাস যেমন, অকারণে মরে পড়ে থাকে মাকড়সার ফাঁদে!    নীচে ঊষ্ণ রাজপথ ডুকরে ডুকরে কাঁদে, চিরঞ্জীব বনস্পতি ছুড়ে ফেলে অমরত্বের থলি, মধ্যরাতে ছেড়ে গিয়েছে আমাদের প্রিয় গলি! এখন অনির্বাণ শিখা তার দিচ্ছে অবশিষ্ট দহন, তুমি নাকি ছেড়ে যাবে এই প্রাক্তন শহর? একটা অদৃশ্য নদী এসেছিল ময়ূরাক্ষী চোখে, বলেছে সে এইসব গোপন [বিস্তারিত প্রভাবতী]

পিদিম

এক পা স্বর্গে আমার, আরেক পা নরকে! একফালি বদ্বীপ গেয়েছিল শ্বাশত প্রেমের কীর্ত্তন, অমৃতের জল ভেবে গিলে নিয়ে নিষিদ্ধ যৌবন, পাথরের বালিহাঁস অনড় বারান্দায় স্তব্ধ মড়কে! শুধু বিকালের বহ্নিমান চিতা দিল অচেতনে চেতন,   চুপিসারে চলে যায় রাধা! মহাকাল দিয়েছে শমন! আহা! জীবন মশলায় মেখে পার হলো চেখে চেখে, সেও তো ড্রেসিংটেবিলে পাড়ি দিল অর্ধেক [বিস্তারিত পিদিম]

ফিনিক্স

প্রতিদিন উষ্ণ রাজপথে হেঁটে পুরোটাই পুড়ে যাই, শহরের বিস্মৃত অন্দরে! ভিনগ্রহী দানবের মতো হেলানো ভবনে তীব্র ধার, আয়েশে গড়াতে গেলেই মাংসল কেঁচোটার মতো, তীক্ষ ফলায় কেটে যাই বারবার! তারপর স্টোভের আগুন! বৈদ্যুতিক চুলার আগুন, সবার অজ্ঞাতে ঘটায় বিস্ফোরণ! দাউদাউ করে যেমন পুড়ে বিক্ষুব্ধ টায়ারের রাবার, সেভাবেই পুড়ে যাই! অনন্ত মহাবিশ্বময় ছড়াচ্ছে- অনাদি ছাই! মসৃণ ট্যালকম [বিস্তারিত ফিনিক্স]

নিঃশঙ্ক

অপেক্ষায় আছি নিঃশঙ্ক সময়ের, জীবাণু হটবে পিছু প্রাণঘাতী সম্মুখ সমরে, জনারণ্যের কল্লোল বাজবে নয়া হিল্লোলে! অচিন পাখির ডাকে, বাউলের কাঁপা সুরে, ঝাকড়া বাতাস ছুঁয়ে যাবে নগরে ও চত্বরে, তখন আবার মুখোশ ছাড়া বসবো আমরা, সবুজ গালিচার এক সান্ধ্য শহরে!    একদিন অনাহুত ভয় নিয়ে তার সব সঞ্চয়, পালাবে পালাবে ঠিক বিরান তেপান্তরে! দেখো মহামারী হটবেই [বিস্তারিত নিঃশঙ্ক]

অধুনা সংবাদ

বুকের ভিতর ঝড় তোলা হৃদস্পন্দনে নিচ্ছে বিদায় আলোকিত বিকাল! রাজপথে ধীরলয়ে হেঁটে যায় যমদুত! ঠোঁটের কোণে অনন্তবিলাসী মৃদুহাসি, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে হোমো সেপিয়েন্স বড় অসহায়! অথচ তাদের নাতিশীতোষ্ণ ঘর ও ব্যাংকের স্টেটমেন্ট ছিল, প্রবীণ মুঠোয় পদাবলী ভরা প্রেমে ছিল সহজিয়া অনুরাগ! নদীর মতো একদিন বুকপকেটে বহমান ছিল চাঁদ, আয়েশী বিকালে মায়াময় উষ্ণ স্বপ্ন ছিল! হরিদ্রাভ [বিস্তারিত অধুনা সংবাদ]

সমাসীনা

উন্মত্ততা ফেলে মৃত তিমিদের কড়া হাহাকার, নিঃসঙ্গ দূরবীনে চোখ রেখে দেখে আজকাল বায়বীয় মানুষ! ঝুঁকে থাকে মাথা লোকাল বাসের সিটেতেই সাঁটা, প্রেমিকার মুখ খুঁজে খুঁজে প্রায়ই হয়ে দিশেহারা, অবোধ মনটা দিনান্তে তাই সিগারেটে দম নেয়, ফাঁকে কোন স্টেশন এলেই!   থার্মোমিটারে জ্বর একান্তে বাড়ছেই চড়া, বৈদ্য কোথায় পাবে প্রেমিক ও প্রেমিকারা? নুতন ভোরের দিনে অবরুদ্ধ নগর! [বিস্তারিত সমাসীনা]

প্রচেতা

(১) এইতো সেদিন মাঘী পূর্ণিমার রাতে, তখন বুদ্ধের মুখে মাখা ছিল হাসি, জোয়ারের মতো রাশি রাশি! নাফনদী ধরে ভাসছিল অবিশ্রান্ত কয়েকশ ফানুস, হালকা আলোয় মিশে ছিল অন্ধকারে বেনামী মানুষ! বলেছিলে ফানুসের মতো বলেছিলে জোয়ারের মতো ভেসে যাবে ঠিক! কোথায় ভাসবে বলোতো, প্রশান্ত সাগরে? নাকি উত্তর সাগরে? কোথায় ভাসবে? যেখানে তাহিতি দ্বীপে পুরাতন চাঁদ স্নান করে [বিস্তারিত প্রচেতা]

অতলে পাতাল

(১) কখনো আগুনে ফার্নের পাতা পুড়ায় বিশুদ্ধ জল, তুমি কখনো দেখোনি কি তা? মৃত ছাদে পায়চারি! পাশাপাশি হাটে কেউ, এমন দুঃসময়ে ডুবেছে আকাশ! অপেক্ষায় প্রাক্তন  নভোচারী! জলেতে কুয়াশা জ্বলে! আগুনে পালক, দ্রিম দ্রিম শব্দ শুনে মাঝরাতে ঘুমে হেটে হারালো যে যুবক, খান্ডবদাহনের কালে তার কি মানায় বলো  গৃহের উষ্ণতার শখ? তবুও পাখিরা হাটে, রোদে পুড়ে [বিস্তারিত অতলে পাতাল]

শোন নক্ষত্র

শোন নক্ষত্র, শূন্য আমার অন্তঃস্থল, সামান্য আগুন আমায় দিবে নাকি ধার বলো? অনির্বাণ জ্বালাবো উত্তাপে, দোআঁশ মাটিতে ভেজা উনোনের চোখ! শোন নক্ষত্র! শোন রাত্রির উঠোনের মাতাল জোনাকি, অকটেনের পাত্রের ছিদ্রে ভেসেছে মৃগয়ার স্রোত, অনস্তিত্বতে মিশে আছে তীব্র দাহ্যতা, গৃহহীন রমণীর হৃদয়ের মতোন! একটু আগুন দিও ধার! সামান্য গন্ধের স্পর্শে আগর বাতির মতো পুড়ে যাবে সব! [বিস্তারিত শোন নক্ষত্র]

চন্দ্রগ্রস্ত কফিন

নিয়ত অন্ধকারে ভেজা পূর্ণিমা লাফ দিলো জানালায়, অক্ষয় জলকেলি নিয়ন বাতির সাথে, আঁশটে হলুদে জ্বলে আর নিভে! কতোগুলো ভেজা চোখ স্পষ্ট বিশেষণ নিয়ে ভর দিলো পাখনায়! তোমরা দুঃখ বলো যাকে! সেতো এই শহরের হৃদপিন্ডের- কাছাকাছি থাকে! জ্যামিতির মাপজোক ভেঙ্গে গিয়ে কবে আকাশে ভাসছে দৈনিক সবগুলো সন্নিহিত কোণ, যথেষ্ট উষ্ণতা পেলে আইসক্রিমের মতো, মানুষেরও গলে যায় [বিস্তারিত চন্দ্রগ্রস্ত কফিন]

জোছনা ও জলপরী

এসো মেয়ে জানালার জোছনায় রাখি মুখ, ব্ল্যাক পেটুনিয়ার মতো ঈষৎ অন্ধকার হুট করে ফুটলে ফুটুক, স্নিগ্ধ চুলের মতো ঝিরঝিরে বাতাস, দূরদ্বীপে সন্তুরণে ব্যস্ত এখন আমাদের সন্নিহিত নিঃশ্বাস! তুমিতো এখানে নেই! আমিও এখানে নেই! কথা হোক ছায়াতে ছায়াতে! তুমি এতো পেয়োনা তো ভয়, বিসদৃশ কারাগার ঢেকে দিলো আপাদমস্তক, ডুবে যাওয়া নরনারী ভাসছে প্রায় অদৃশ্য আলোয়, চলে [বিস্তারিত জোছনা ও জলপরী]

দেয়াল ০১

(১)       ইটের নিবিড়তম দেয়ালে চাপা পড়ি প্রতিদিন, রক্তাক্ত খোলার মতো, বৃদ্ধ পরিব্রাজকের মতো অনন্ত আকাঙ্ক্ষা আর সীমাহীন পথ থেমে যায়!  বিস্ময়বোধক চিহ্নের সাথে হতবাক অনুভূতি ওলন্দাজ আমলের বেতবনে লুকানো আলোর মতো আমাকে নিভিয়ে ফেলে, আটকে দেয় মরা মগডালে, জ্বলার অপেক্ষায় হিসহিস করে দেশালাইয়ের সালফার; প্রেম দিলে বদলেছে কবে আগুনের প্রকৃতি? রাণীর খোঁপায় ভালোবাসা ফুল [বিস্তারিত দেয়াল ০১]

টয়ট্রেন

একটা টয়ট্রেন বিদীর্ণ ক্ষত নিয়ে মুখের আদলে, ধীরগামী কেন্নোর মতো ঘুরে শৈশবের বিগলিত গ্রামীণ জলাশয় শুঁকে, আলুথালু হয়ে এখনো রাস্তায় গলিতে মোচড়াচ্ছে কাতরাচ্ছে! জলময়ুরের কাছে এসেছি ফেলে নিস্পৃহ বিষাদগ্রস্ত চোখ! বাহারী লতার শরীরের উন্মনা বাতাসে অকারণে দোল খাওয়া মন, রেশমের মতো মৃদু ঘাসে স্থিরতার চাষাবাদে ব্যস্ত এখন! টরাস পর্বতের বৃষে আরোহী দেবীর কোলে পরলোকগত গর্জনে [বিস্তারিত টয়ট্রেন]

অভ্যুদয়

এইমাত্র লোনা সমুদ্র থেকে ডুব দিয়ে উঠলাম, এইমাত্র ভেসে এলাম, বেনামী প্রাণীর মতো, জলোচ্ছাসে; শরীরে লবণের মাখামাখি দেখে আছড়ে পড়ছে দ্রবীভূত বাতাস, এখানে গভীর রাত! কতোকাল ছিলাম প্রবালে শুয়ে কে জানে, কয়েকটা টুকরো স্বপ্নের মতো ফিরে এলো ঘরে প্রবাল সোহাগী রাত, কি যেন উচ্চস্বরে দিচ্ছে ডাক; শ্মশানের মতো নির্জনতা অপাংক্তেয় হয়ে বসে আছে একা, মহাবিশ্ব [বিস্তারিত অভ্যুদয়]

জাগরী

এই যে পিছল ভূমি আকাশের মতো কালো, বৃষ্টির ফোঁটা পান করে হেঁটে গেলো অপার্থিব পুরূষ, ম্রিয়মাণ পদশব্দ অক্ষত জলে বিদীর্ণ ক্ষত করে দিয়ে, সাঁঝবাতি মোড়ানো মোড়ে হয়েছে বেহুশ! জোনাকের গলে যাওয়া শরীর ঝরছেই ঝলমল, প্রবাহিত উত্তাপ শুষে নিবে প্রিয়ংবদার বুক। মৃত পুরাতত্ত্বের মতো রমণী তার হাসিতে অলীক, পিছল ভূমি ফুড়ে অংকুরোদগমে ব্যস্ত বল্মীক, আনুভূমিক বাতাসে [বিস্তারিত জাগরী]