চন্দ্রগ্রস্ত কফিন

নিয়ত অন্ধকারে ভেজা পূর্ণিমা লাফ দিলো জানালায়,
অক্ষয় জলকেলি নিয়ন বাতির সাথে, 
আঁশটে হলুদে জ্বলে আর নিভে! কতোগুলো ভেজা চোখ 
স্পষ্ট বিশেষণ নিয়ে ভর দিলো পাখনায়! 
তোমরা দুঃখ বলো যাকে! সেতো এই শহরের হৃদপিন্ডের- 
কাছাকাছি থাকে! 
জ্যামিতির মাপজোক ভেঙ্গে গিয়ে কবে 
আকাশে ভাসছে দৈনিক সবগুলো সন্নিহিত কোণ, 
যথেষ্ট উষ্ণতা পেলে আইসক্রিমের মতো, 
মানুষেরও গলে যায় মন! 
তাক থেকে নিজে হেঁটে নেমে এলো এলবাম! ভাবছি- 
পুনরায় জোছনা পুড়াবো আজ! 
বনভোজনের রাত সুমিষ্ট গন্ধে হয়ে গেলে কুপোকাত, 
অদৃশ্য সারথির গুরুগম্ভীর পদশব্দের অগ্রন্থিত হাহাকার,
ঘুমাতে দেয়না আর! অনাগত স্বপ্নে দালিলিক হুংকার-  
ঘোষণা আসতে পারে লাল সিগনালে, 
অনাহুত বুনো ঘোড়া পুড়িয়ে ফেলেছে সাধের খামার!  
তার চেয়ে বরং এসো জানালায় জোছনাকে ধরি, 
প্রজাপতি শিকারীর মতো উচ্ছ্বসিত জাল খুঁজি হাতে, 
জলপরী তোমার জিম্মায় এমন কিছু কি আছে?
জোছনা ধরার জাল! প্রবীণ জলযান!
এই শহর নদীর মতো, তুমিও তো জলপরী বয়ে যাও,
কারণে বা অকারণে বয়ে যাও!  
নিশীথে আসক্ত চোখ আগুন পুড়ায়, 
এই শহর জলের মতো, আকাশ নদীর মতো, 
দুর্দম বৃক্ষগুলো অমরত্বের নামে দিচ্ছে তো মাথাচাড়া! 
প্রতিটি সমাধিতে জোনাকি ফুটে আছে
বাসী গন্ধের মতো, 
তবে কি মৃতেরা এখনো তাদের সাথে কথা বলে অশ্রুত-
বিলাপের মতো! 
মাঝে মাঝে আকাশেরও ভেবে ভুল হয়- 
মৃতেরা আসলে কি প্রকৃতই মৃত নয়!  
মোট পড়েছেনঃ ৮২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৯টি মন্তব্য

  1. তোমরা দুঃখ বলো যাকে! সেতো এই শহরের হৃদপিন্ডের-
    কাছাকাছি থাকে! এই কথাটা দারুন লেগেছে। চমৎকার কবিতা উপহার দেবার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভ কামনা সতত

  2. তবে কি মৃতেরা এখনো তাদের সাথে কথা বলে অশ্রুত-
    বিলাপের মতো!
    মাঝে মাঝে আকাশেরও ভেবে ভুল হয়-
    মৃতেরা আসলে কি প্রকৃতই মৃত নয়! ****
    অসাধারণ কথামালা। অসংখ্য ধন্যবাদ এমন সব কবিতা উপহার দেবার জন্য।
    শুভ কামনা।

  3. মাঝে মাঝে আকাশেরও ভেবে ভুল হয়
    মৃতেরা আসলে প্রকৃত মৃত নয়।
    চমৎকার অনুভূতির সুন্দর প্রকাশ। বেশ ভাল লাগলো। আমি আসলে নিয়মিত আসতে পারিনা সোনেলায় অসুস্থতার জন্য। আপনার লেখাগুলো পড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ভাল থাকুন,শুভ কামনা সব সমহ।

মন্তব্য করুন