মেলানকোলিয়া

মাঝে মাঝে ডুবে যাই জানো, গভীর অতলে ডুবে যাই! জলের তলে হাতড়াই ঘর, আত্মসংকল্প বাদামী গগনবেড়ের নিশ্চিত আত্মহননের মতো, দুম করে ঢুকে যাই টর্নেডোর চোখের ভিতর! দৃশ্যমান মহাবিশ্বে ঘাপটি মেরে থাকা নিবিড়তম অন্ধকার, ঘিরে ধরে চারিধার! চেনা ছাদের চারকোণা থেকে উল্লম্ব রশ্মির মতো নামা, কালো তুলোর মতো অন্ধকার চেপে ধরছে এখন, একটা অদ্ভুত অনুভূতি প্রতিটি [বিস্তারিত মেলানকোলিয়া]

লগ্নভ্রষ্ট অশ্বারোহী (পর্ব-১)

(১) ঢাকা শহরে ছাদ মানে এক টুকরো আকাশ, যদিও অধিকাংশ মানুষের কপালে নিজস্ব ছাদের মালিকানা থাকেনা। এই শহরে ছাদ মানে বারোয়ারি উঠান, সবারই মিলেমিশে ব্যবহারের কথা থাকলেও, পারস্পরিক খোঁচাখুঁচি আর কোন কোন ক্ষেত্রে মালিকের চোখ রাঙ্গানিতে কারোই মন খুলে আকাশটায় ভেসে বেড়ানোর সুযোগ থাকেনা বিশেষ! অতন্দ্রিলাদের বাড়ির ছাদে এসে অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে অনিকেত, তাও [বিস্তারিত লগ্নভ্রষ্ট অশ্বারোহী (পর্ব-১)]

কাঁদো শহর

এখনো নদীটা কাঁদে, পোড়া জল ছুঁয়ে হাঁটে পুন্ড্রের- ভাস্কর্যে মোড়া হস্তী! কতো বিচিত্র শ্লোগানের পরিশেষ দেখে নিয়েছে নারী, শহরের নাগরিক পদ্মের সরোবর- টেরাকোটার প্রেমের বিসর্জিত মূর্তিতে ভর্তি! তবুও ভালোবাসা মরে গেলে গবাক্ষের আর্দ্র বাতাসে- বাঁচেনা তেমন কিছুই! মেয়ে তুমিতো তা জানোই! এই শহর এখন পদানত, উপকণ্ঠের মৃত নদীটার মতো! তুমিতো তা জানোই!      এখনো এই শহর [বিস্তারিত কাঁদো শহর]

অস্তিত্বে সান্দ্রতা

দুম করে উড়ে এলো, ধরো সপ্তর্ষিমন্ডল থেকেও আরো দূরে, কোন অচিন ছায়াপথে বসে থাকা, অরূন্ধতীর দীর্ঘশ্বাস! ধুতুরা ফুলের সাদা খোঁপার মতো, আন্তঃজাগতিক মহাশূন্যতাকে অতিক্রম করে, উড়ে এলো একপশলা মহাজাগতিক বাতাস! মাথার অগোছালো দুর্লভ চুলে আলতো করে, বুলালো হাত, মায়ার দলিল লিখতে গিয়ে রাজ্যশ্রীর নিঃশব্দ বুকে, এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাস, খুলির ভিতর পাক খেয়ে জমে আছে অক্ষিকোটরে! [বিস্তারিত অস্তিত্বে সান্দ্রতা]

বিখন্ডিত

কসাইয়ের ছুরির খিপ্রতায় ফালা ফালা মাংস, যকৃত- চর্বিতে মোড়া হাড়-হাড্ডি, আঙ্গুর ফলের মতো নড়ে! অস্পষ্ট নোনা রক্তের গন্ধে- গা গুলানো বিকালে, আমার জ্যন্ত হৃদয়- কেটে ফেলেছিলে; মস্তিষ্কের শাঁসে জমছে ধূসর ক্ষয়! মগজ কড়াইয়ে কড়া তেলে ভেজেই চলেছে- অত্যুৎসাহী কিছু রমণী! তাজা ফুল কেটে মমি করে আহ্লাদী ড্রেসিং টেবিলে, গোছানো বেশ! পাউডার, লিপস্টিকের কড়া গন্ধে, জ্বলে [বিস্তারিত বিখন্ডিত]

নিষাদী

মেগাসিরিয়ালের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় মারা গেলো, রক্তাক্ত কুমার! শোকর‍্যালীতে মগ্ন নারীরা, যুগপৎ হাঁটে পর্দার এপার-ওপার! যাদুকরী হতে চেয়ে বিসর্জন দিলে রাজ্য প্রেম সবই, এখন রাজত্ব আছে! শুধু প্রেম উড়ে গেলো- কোথায় কে জানে! পাড়ার বাতাসে এই কানাকানি, মরে যাবে সুদর্শন যুবরাজ! সেই দুঃখে একই ঘরে- শোকগ্রস্ত জায়া ও জননী! অথচ তোমার চোখে ইটের স্তূপের মতো, জমা [বিস্তারিত নিষাদী]

পুরাণের পদাতিক

মহাবিশ্ব শূন্য নাকি পরিপূর্ণ থালায়? আজন্ম ভেবে পার হলো নিহত সময়, এখন আঁকাইনা বেশী সম্পাদ্যের কাটাকুটি!   রজত, সুবর্ণ থাকুক বা না থাকুক ছড়ানো, কি বা আসে যায়? তার চেয়ে বরং শোনা যাক- অনির্বাণ কলতান! রাজপথে আজো রাতে এক অন্ধ হোমার, গেয়ে যান গান! টুং টাং! টুং টাং! গিলগামেশের ঘোড়া পুরো বিশ্ব না দেখেই, থেমে [বিস্তারিত পুরাণের পদাতিক]

পূর্ণদশী

মেয়ে তুমি শুইয়ো না অতল জলে, ডুবে যাবে! ডুবে যাবে! এইতো সেদিন পূর্ণদশী জোছনাকে নিয়ে বুকে, ডুবে গেলো ওইখানে, মাহুতের সাঁকোর নীচে- অষ্টাদশী মেয়ে উথাল পাতাল পাঁকে! তার মতো ডুবোনা অকালে, তুমি ডুবোনা আর রাণীর কুঠুরির ঘাটে, শাপলার ডগার আগায় নাচছে বাসুকির প্রেম! কিছুটা শরীরে তার অশরীরি ছায়া, বৃষ্টির রেণুর মতো অবিরত মায়া, পুড়বে! পোড়াবে [বিস্তারিত পূর্ণদশী]

ক্লিওপেট্রার সরোবরে

প্রাচীন চাঁদের ছায়ায় ভেজা নীল সরোবরে লুকোচুরি, খেলে হোরাসের চোখ! এখনো মৎস্যজীবী লোক কারেন্টের জালে ছুড়ে দিলে, বিদ্যুতচ্ছটা মেমফিসের জলে, আধা খাওয়া প্রেম উঠে আসে! আধা পচা শরীরে- কটু ঘ্রাণ! প্রতিটি অমরত্বের সাথেই তো মিশে থাকে নশ্বর লাশ! ক্লিওপেট্রা কী চেয়েছিলে সাইমুমে মাখা বিছানায়? তাজা গোলাপের সাথে প্রতিরাতে সহবাসে মত্ত! ধারালো তলোয়ার; নিয়ম করেই কাঁচি [বিস্তারিত ক্লিওপেট্রার সরোবরে]

কালোর্ত্তীর্ণ

তুমি তো কালোর্ত্তীর্ণ! ভোরের মেঘের গম্বুজে টাঙ্গানো বিপন্ন বিস্ময়! প্রহরের চক্র ঘুরলে বাতাসে, শিশুতোষ ফুলেল চড়কিরা- হাসে, সেখানেও দানবেরা থাকে পাশে পাশে, অকারণে কাঁদে সকল শিশুই মাঝে মাঝে, দেখোনি কি তুমি? সর্বোত্তম সুখের বাসর মানে বালুচরে বিসর্জনের আসর, একটি জীবনে আর কতোবার বলো ঝাঁপ দিব জলে! তুমি প্রাচীন সোপানে ভাসা লাইফবোটের মতো- শেষ সম্বল! তুমি [বিস্তারিত কালোর্ত্তীর্ণ]

ডাকে পানকৌড়ি

জলাভূমি থেকে হাওয়া আসে! আসে হাঙ্গরের নিঃশ্বাস! সলিলে সমাহিত পানকৌড়ির ডাক, না শোনার ভান করে কেটেছে বছর মাস! সংক্রান্তির দিনে পুড়িয়ে ফেলেছিলে একটা আস্ত নীহারিকা; বিঘত সাইজের বোয়াল মাছের মতো! চেঁছে তোলা আইশে- শুধু আলো আর আলো! প্রমত্ত ইথারের ঝড়! জলসার রাগিণীতে নাগিনীর মতো নারী নেচে হয়েছে বিলীন, ঢুলুঢুলু চোখে আসক্ত সম্রাট তার পায়নি খবর! [বিস্তারিত ডাকে পানকৌড়ি]

সান্ধ্য ফড়িং

সন্ধ্যার পদতলে ফুটে আছে লাল-নীল জল, রেফ্রিজারেটরে সাজানো হিমায়িত মাংসের স্তূপের মতো, সবগুলো আত্মা জমে যাচ্ছে দ্রৌপদীর রথের উপর, রাস্তায় উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে পঞ্চবিংশতি পুরুষ!   বুনো হাঁস শহরের বেনোজলে ডুব দিয়েছিলো বিকালে, এখন ছেঁড়া পত্রিকার বৃদ্ধ পোকার মতো বিড়বিড় করা- অক্ষর গুলো কানাকানি করে, সন্ধ্যার পাখিরা হারিয়েছে সাতমহলের সিংহদরোজায়, মেঘময়ী মেয়েরা আর পায়না তাদের দেখা [বিস্তারিত সান্ধ্য ফড়িং]

মন্দাকিনীর মেয়ে

(১) তুমিই তো মেয়ে অলকানন্দা, মন্দাকিনীর পারিজাত, বৃষ্টিতে আর ভিজোনা এমন, কষ্টেরা গলে যাবে! গভীর রাতের নির্ঘুম ছাদ, বিকেল বেলার ছলছল চোখ; তোমায় ঘিরে ঘর করেছে এই নগরীর দুঃখরা সব! আনাচে কানাচে জল জমেছে, ভাসছে রাস্তা টইটুম্বুর! বরের কাগজ আর পড়োনা বহুদিন; এ বছরে কি বড় বন্যা হবে! টেলিভিশনের স্ক্রলে সিরিয়ালের আহ্লাদী মিথ্যা অভিনয়ে কাঁদে! [বিস্তারিত মন্দাকিনীর মেয়ে]