প্রথম পরিচ্ছদ: আমি প্রথমে হোম ডেলিভারি সার্ভিসের আদলে আমার নিজের বাসা থেকেই বাসায় বাসায় ‘কাজের বুয়া’ সরবরাহের কাজটা শুরু করি এবং নাম দেই ‘কাজের বুয়া সরবরাহকেন্দ্র’। আর যখন পরীক্ষামূলকভাবেই আমার অস্থায়ী অফিসের ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেই, তখন যেমন অভাবনীয় সাড়া পাই তেমনই অনেকে একে মশকরা ও ফান ভেবেও আমাকে যাতা বলেন। প্রথম [বিস্তারিত কাজের বুয়া সরবরাহকেন্দ্র-১]
অদ্ভুতুড়ে শাহ আলম বাদশা মল-মুতে হয় সবার ক্ষতি তাইযে পরিত্যাজ্য অতি ঢুকলে পেটে হইযে কুপোকাত; জীবাণুরা হামলা করে ও বাবা, কী ঝামলা করে রোগের ঠেলায় কাটে নাযে রাত! পেটেই থাকে পেটেই পচে বের হয়ে ফের দু:খরচে আমরা মানুষ কীযে অসহায়? কাক ও কুত্তা ময়লাখেয়েই লাফায় কীযে শক্তিপেয়েই অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড কীযে হায়। রোগপোকাদের শক্তি বেশি আমরা [বিস্তারিত অদ্ভুতুড়ে]
ছড়ার ছন্দ বনাম মাত্রাবৃত্ত এবং সেকেলে শব্দ: আমি বিচ্ছিন্নভাবে ছন্দ ও পদ্যের ভাষা ও শব্দচয়ন নিয়ে অনেক প্রবন্ধ লিখেছি। সবগুলো প্রবন্ধ কেউ পড়ে থাকলে আমাকে ভুলবোঝার বা আমার কথার অপব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। কিন্তু আমার মতামত বা বক্তব্য বলে অনেকেই এমন কিছুকথা লিখছেন বা বলছেন, যাতে ভুলবোঝাবুঝির অবকাশ আছে। তাই আমার এই আত্মপক্ষসমর্থন। স্বরবৃত্ত ছন্দ: [বিস্তারিত কবিকবি-ভাব ছন্দের অভাব]
সজনেপাতার ফাঁকে চড়ুইপাখির প্রেম কিংবা পায়রার ঠোঁটে ঠোঁটে মধুচুম্বন দেখে আমারও জাগে সাধ, গড়ি প্রণয় আর প্রেমের কাব্যসম্ভার লিখে যাই। কিন্তু “আব্বু ওঠো, কথা কও” অবুঝশিশুর কাঁদোকাঁদো আধোবোল আমায় ভীষণ ভীষণ নাড়া দেয় তাড়া দেয়, বলে- লেখো না এখন প্রেমের কাব্য কবি, এ নয় প্রেমের সময়? অকারণ বুলেট-গুলি, সূতীক্ষ্মচাকুর ফলায় হঠাৎ ঝরে যায় যে অবুঝশিশুর [বিস্তারিত কষ্টের জল]
ছড়ার একমাত্র ছন্দ স্বরবৃত্তচালের নতুন এক পদ্যরীতি হচ্ছে ‘শামেরিক।’ ৬ পঙক্তির শামেরিকের চরিত্রগত কাঠামো হয় স্রেফ ছড়ারই মতন। শামেরিক মূলত ব্যঙ্গাত্মক, রসাত্মক, ঘৃণাত্মক, প্রতিবাদী ও অর্থবোধক ছড়া যা ক+ক, খ+খ ও ক+ক চালের। এর ১ম দু’পঙক্তি ও শেষ দু’পঙক্তির মাত্রাসংখ্যা হয় মোট ১৪ বা ১৫টি করে। বাংলাসাহিত্যে প্রচলিত একমাত্র অক্ষরবৃত্তে রচিত ১৪ মাত্রা ও ১৪ [বিস্তারিত সনেটের মতোই নির্দিষ্ট মাত্রা ও পর্বভিত্তিক ৬ পঙক্তির পদ্য “শামেরিক”]
আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, ফেইসবুক গ্রুপ ”লিটল ম্যাগাজিন ছাড়পত্র” আগামী ১মে প্রথমসংখ্যা প্রকাশ করতে যাচ্ছে! ভার্চুয়াল জগতের লেখা হারিয়ে গেলেও পত্রিকা ইতিহাস হয়ে থাকবে। তাই সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী মাসিক প্রকাশনা হিসেবে ছাড়পত্রে আপনার অপ্রকাশিত ও অনবদ্য সৃষ্টিকর্মকে তুলে ধরে এই ঐতিহাসিক কর্মের ভাগীদার হোন। উল্লেখ্য, পরবর্তীসংখ্যা প্রতিমাসের ২১ তারিখে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হবে! সাবধানতা ও [বিস্তারিত মাসিক ছাড়পত্রে লেখাআহবানঃ]
চতুর্থ পর্বের লিঙ্ক পঞ্চম পর্ব একাধিক লেখ্যরূপযুক্ত শব্দ এবং একটিমাত্র লেখ্যরূপযুক্ত শব্দ একাধিক লেখ্যরূপযুক্ত শব্দের বানানে লেখার সময় ভুল হবার সম্ভাবনা নেই, যা আগেই বলেছি। যেমনঃ গাড়ী/গাড়ি/শাড়ি/শাড়ী ইত্যাদি। কিন্তু এমন কিছু বাংলাশব্দ আছে যাদের একাধিক লেখ্যরূপই নেই, তবুও দেখা যায় লেখকরাও তাকে ভুলবানানে লেখে। যেমনঃ রূপকে লেখেন রুপ বানানে, পড়া আর পরা এর মাঝেও ফারাক [বিস্তারিত বাংলাবানান ও শব্দগঠনঃ ভুল শুধু ভুল-৫]
শীতের পেটেই লুকানো যে ফাগুন ঝরাতে পারেনা আর তো আগুন? বসন্তেও শীতশীত লাগে বড় আজ দেখো বসন্তের কিযে ক্ষীণ আওয়াজ! শীত-বসন্ত হয়ে গেলো একাকার কী মজা কী মজা কিযে মজাদার। ছয়ঋতু ক্ষয় হবে আমাদের দোষ গাছ কাটো, ভরাও নদী নন্দঘোষ! বাসন্তীরঙ্গে মেশে শীতের চাদর কী মজা, শুরু হোক বিষ্টিও ঝড়? কোথায় ফুল আর ঝরাপাতার নাচ [বিস্তারিত শীতের পেটেই লুকানো ফাগুন]
উদোম শরীরে কিংবা ফিনফিনে পোষাকে যখন দুলিয়ে তুমি কোমল দেহবল্লরী উগ্র প্রসাধনে চলে যাও মুক্ত-স্বাধীন– হৃদয়ে তখন আমার মাতাল হাওয়া বয়ঃ আর দাপাদাপি করে শুধু নরকের কীট; মনের পশুটাও ক্ষেপে ওঠে বেগতিক ঠেকাই তাকে বলো, কী সাধ্য আমার? সর্পিল গতি হেঁটে যাও তুমি—- ভেসে চলে বাতাসে গন্ধ তোমার পাগল আমি চেয়ে থাকি অপলক পাপ যদি [বিস্তারিত নষ্ট কবি নষ্ট কবিতাঃΔপাপ যদি হয়]
এবার বইমেলায় জলছবি প্রকাশন থেকে ”মুক্তিযুদ্ধ এবং অন্যান্য গল্প” শিরোনামে আমারসহ বাংলাদেশ-ভারতের ১৫ জন গল্পকারের গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে চমৎকার এক ছোটগল্পগ্রন্থ। গল্পকার ও গল্পগুলোর নামের তালিকা নিম্নরূপঃ ১। শাহ আলম বাদশার ”কমন স্যার এবং আহত বেদনা, ২। ভারতীয় লেখক তাপস কিরণ রায়ের ”জেদ, ৩। নাসির আহমেদ কাবুলের অরুণোদয়ের অগ্নিপুরুষ, ৪। তাহমিদুর রহমানের ”লাল ডায়েরী, [বিস্তারিত বইমেলা-২০১৫: মুক্তিযুদ্ধ এবং অন্যান্য গল্প]
ছন্দ নিয়ে দ্বন্দ্বে আছি দীল ভরেনা দীল; ছন্দ কী তা কেমনে বুঝি নাম কি অন্ত্যমিল? হাটার ছন্দ নাচের তাল ভাল্লাগে হই বেসামাল; কুচকাওয়াজের কী বাহার? ছন্দ তো নয় মন্দ কিছু দ্বন্দ্ব তবু লয় যে পিছু দ্বন্দ্ব জমেই হয় পাহাড়! গানের ছন্দে ঘুম যে পায় নারীর হাঁটন মন নাচায়; বিষ্টি পড়ে টাপুর-টুপুর ভাল্লাগে যে নাচের নুপুর! [বিস্তারিত ছন্দ নিয়ে দ্বন্দ্ব]
কবিতা-সুন্দরীর ছন্দিত ভুবনে আমি খুঁজি তার নন্দিত শরীর। বিপুল শব্দস্রোতে ভাসিয়ে হৃদয়কন্দর… সাঁতার কেটে চলি দ্রুতগামী মাছের মতোন! কবিতাপাগল অন্ধ আমি ছন্দে ছন্দে খুঁজি তার অনিন্দ্য-সুন্দর অভিসারী যৌবন? বন্ধুরা বলে, গদ্যের যুগে ছন্দের কী দাম রূপক কবিতা্রাও আজ কবিতা নয়; স্রেফ পত্রিকার কলামের মতোই কলাম সাজিয়ে দাও গেঁথে দুর্বোধ্য কিছু শব্দসম্ভার! অনবদ্য যৌবনা-কবিতার অনিটোল রূপ [বিস্তারিত নিপুণ শব্দস্রোত]
[২৬/১২/২০১৪ তারিখে ওয়াসার পাইপে মৃত জিহাদস্মরণে] বিশাল পাইপে পড়লো শিশু সময় গেলো অনেক্ষণ দুঃখী বাবার বুকফাটা রোল মা হয়ে রয় অচেতন! ওয়াসা আর দমকল এসে গবেষণায় দিনকাটায়– ছয়শত ফুট পাইপে তারা ক্যামেরাও এক তাই পাঠায়? টিকটিকি আর পোক খুঁজে পায় পায়যে আরো কুনোব্যাঙ পুলিশ বলে, ”শুধুই গুজব কোথায় শিশু কোথায় ঠ্যাং। কেউ বলে ফের, সবই [বিস্তারিত কোথায় শিশু কোথায় ঠ্যাং]
নিরক্ষর ও সাক্ষর মানুষঃ প্রচলিত ধারণায় নিরক্ষর বলা হয় তাকে, যে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন নয়। মানে স্বরবর্ণ-ব্যঞ্জনবর্ণেরসাথে যার পরিচয় নেই তিনিই নিরক্ষর। একাডেমিক শিক্ষার সাথে নিরক্ষরতা শুধুই নয় সাক্ষরতারও কোনো সম্পর্ক নাও থাকতে পারে। অর্থাৎ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মাদ্রাসাসৃষ্টির আগেও যেমন সাক্ষর ও নিরক্ষর মানুষ ছিলো, তেমনই এসব প্রতিষ্ঠানসৃষ্টির পরও সাক্ষর ও নিরক্ষর আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সাক্ষর ও নিরক্ষরব্যক্তির সাথে [বিস্তারিত সাক্ষরের জন্য ব্যাকরণ বনাম নিরক্ষরের জন্য ব্যাকরণহীনতা!!]
তৃতীয় পর্বের লিঙ্ক চতুর্থ পর্ব গ্রহণ/গ্রহণ করা/অংশগ্রহণ/ব্যবস্থাগ্রহণ/পদক্ষেপগ্রহন/শ্বাসগ্রহণ/শপথগ্রহণ ইত্যাদি আমরা গ্রহণ করা ক্রিয়াপদটির ব্যবহারে কতো যে ভুল করি, যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে-Take/Accept। যেমন আমরা বলি-আমি তোমার বাসায় কিছুতেই পানিগ্রহণ করবো না, আমি কিছুতেই তোমার টাকা গ্রহন করতে পারবো না। কী ফারাক বুঝলেন? বিশাল ফারাক আছে দু’টো বাক্যের মাঝে;Take/Accept অর্থে টাকা গ্রহণ করতে পারবো না ঠিক থাকলেও কিন্তু পানিগ্রহণ সেই অর্থে ঠিক থাকেনি। এখানে পানিগ্রহণ [বিস্তারিত বাংলাবানান ও শব্দগঠনঃ ভুল শুধু ভুল-৪]