‘রিতুর ডায়রির পাতার মৌনশব্দগুচ্ছ’।

আলস্যের তপ্ত দুপুরে, সূর্যবাবুর তপ্ততা ডিঙ্গিয়ে, নিদ্রাদেবীর কোমল ক্রোড় ছেড়ে চলে যাব ফেলে আসা পিছনের হাঁটা পথে। ফেলে আসা স্বচ্ছ ঝিলের জলে জাল ফেলে তুলে আনব জীবনের সব অস্বচ্ছতা, যা আমার জন্য কৌতুহল। সে সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার তাগিদে মধ্যাহ্নের নিদ্রার মধুর আমেজ আমার উড়ে যায়। নেমে পড়ি নগ্ন পায়ে ধুলোময় রুক্ষ পথে, যে পথে [বিস্তারিত ‘রিতুর ডায়রির পাতার মৌনশব্দগুচ্ছ’।]

“মলিন এক খসড়া চাওয়া”

সযত্নে দেওয়া জীবন দুঃখকে বড় করে দেখার অবকাশ ছিলো না কোনো, আজ এই মধ্যাহ্নের অবকাশে কোঁচড় থেকে সে দুঃখের খাতা মেলে ধরব, এটা যেনো দুঃখকেই উপহাস করা। রোদে পোড়া,ধূলি মলিন দুঃখের ইন্দো প্রস্থের এক খসড়া খাতা, পড়ে আছে পড়ে থাক। গোপন সব অনুপযোগী চাওয়াকে গোপন রেখে, মাথায় এঁটে দেওয়া বিপুল দায়িত্বের বোঝা নিয়ে, মস্ত খাড়া [বিস্তারিত “মলিন এক খসড়া চাওয়া”]

“নীলপাতার স্বপ্নসাজ”

লোকদৃষ্টির আড়ালে জীবনগণ্ডীর বাইরে গিয়ে, অনিত্যের বন্ধন কাটিয়ে, আপন প্রেমের বৃত্তে আমি এক বাসকসজ্জিকা। জীবন সংস্কারের মোহ কাটিয়ে হাজারও রাত্রির মাঝে সাজিয়েছি শুধু এক রাত্রি। বৃথা সব প্রতিক্ষায় উৎকন্ঠি আমি, আমার এ অপেক্ষার রাত্রি প্রভাত হয় প্রভাতের আলোয় দূর সব দৃষ্টিতে অপলোক চেয়ে দেখি অঙ্গে তার নিশিযাপনের এক বিলাসচিন্হ। ,, রিতু,,,, ২৭/৩/১৮.

নীলপাতার মৌনশব্দ

সুরমা দানিতে এক দোদুল্যমান স্বপ্ন ঘুমিয়ে আছে অনন্তকাল ধরে যেখানে সুখ ভাগ্যের আসা যাওয়া নিষেধ। তাকে ছোঁয়ার আশায় অনামিকা আমার দীর্ঘশ্বাস ফেলে অনামিকা জানে না, আসলে জীবন নিয়ে আস্ফালন সব বৃথা। পার্থিব সব চাওয়া পাওয়ার ব্যাপারটা গোলমেলে এ গভীর কৃষ্ণ নয়ন দুটি কারো করুণায় সিক্ত। সম্মানের মহিমা পারে না নীরব ধূ-লিকে উজ্জীবিত করতে। শেষ চৈত্রে [বিস্তারিত নীলপাতার মৌনশব্দ]

লোকগল্পে বাংলাদেশ( গাজী-কালু-চম্পাবতী পুঁথির কথা)

গাজী-কালু শুধুমাত্র সুন্দরবন নয়, বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সকল লোকের কাছে পরিচিত নাম। এককালে গাজী তার দুর্জয় শক্তি দিয়ে এমন অভাবনীয় অবস্থার সৃষ্টি করেছিলেন যে সমস্ত দেশ গাজীময় হয়ে গিয়েছিল। শীত বসন্তকালে গ্রামে গ্রামে গাজীর গীতের আসর বসতো। গ্রামাঞ্চলের নিরক্ষর শ্রমজীবী মানুষেরা গাজীর গীত শুনে চিত্ত বিনোদন করতো। এখনো গাজীরগান হয়,তবে আগের মতো এখন তীব্রতা [বিস্তারিত লোকগল্পে বাংলাদেশ( গাজী-কালু-চম্পাবতী পুঁথির কথা)]

লোকগল্পে বাংলাদেশ।

আমার লোককাহিনীর উপর দুর্বলতা সব সময়ই। কোথাও বেড়াতে গেলে সেখানকার মানুষের কাছ থেকে সে যায়গার লোকগল্প শুনতে ভাল লাগে। ভাবছি এই ভাষার মাসে লোকগল্প নিয়েই শুরু করি। এবার শেরপুরে গিয়েছিলাম বেড়াতে। তাই আজ প্রথম শেরপুর নিয়েই শুরু করি। ‘শেরপুর’ গাড়ো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শেরপুর জেলা। প্রাচীনকালে শেরপুর কামরূপ রাজ্যের অংশ ছিল। এটাকে রাজ্যও বলা হয়। [বিস্তারিত লোকগল্পে বাংলাদেশ।]

পাপ স্বীকার।

আমি মিশন স্কুলে পড়াশুনা করেছি। আমাদের স্কুলে চমৎকার একটি গির্জা আছে। রবিবার ছিলো প্রার্থনার দিন। তাই সকালে প্রার্থনার জন্য আমাদের রবিবার দিন সকাল সাড়ে ন’টায় ক্লাস শুরু হতো। আমরা সব ধর্মের ছেলেমেয়েরা ইচ্ছে করলে গির্জায় যেতে পারতাম। কোনো বাঁধা ছিলো না। আমি প্রায়ই যেতাম। কেমন যেনো একটা শান্তি। চুপ করে ফাদারের কথা শুনতাম। যেহেতু আমি [বিস্তারিত পাপ স্বীকার।]

‘মন ভাবে বলেই ভেবে বসি’

মনের কোনে কোথাও যদি আওয়াজ ওঠে ঝড় তুলো না, ডেকে যেও চুপটি করে সুর ছড়িয়ে দিও দু’কদম দূরে আমার তরে। চাঁদ উঠুক না উঠুক জ্যোৎস্না হবে তাতে, পাখামেলে ঝাপ দিবো সে জ্যোৎস্নালোকে বসন্ত হোক না হোক বাসন্তি ফুল হতে লজ্জার প্রভা মেখে নিব। এসব কতোশতো অলস সব ভাবনাগুলো আকাশের ঐ চাঁদের পাত্রে জমা রাখি। মিথ্যে [বিস্তারিত ‘মন ভাবে বলেই ভেবে বসি’]

প্রিয় কবি ‘রুদ্র’

গতরাতে যা লিখেছি, ধরে নাও, উড়িয়ে দিলাম ঐ নীল আকাশে, তোমার তরে। তোমার নীলের বুকে হোক তার আশ্রয়। এক ফোটা সাদা মেঘে তার ছবি একেঁ নিও তোমার বুকের একবিন্দু নীল ঢেলে দিও তাতে তোমার শব্দের ছোঁয়ায় ও একবিন্দু নীলে বিবর্ণ সে সব শব্দে আমার প্রাণ আসুক। বলেছিলে ভালো থেকো, ভালো আছি, কবি ভালো থেকো ওপারে [বিস্তারিত প্রিয় কবি ‘রুদ্র’]

মানবিক ও বাস্তবতার বেড়াজাল

রোহিঙ্গা নিয়ে কিছু লিখব না ভেবেছিলাম। গতবছর আমিই বলেছিলাম, কিছু মানুষ আশ্রয় দিলে এ আর এমন কি হবে! ফেসবুকে তাদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে অন্যের বিরুপ মনোভাবে বিরক্তও যে হইনি তা নয়, হয়েছি। আসলে আমরা অনেক বেশি মানবিক বলেই, হঠাৎ করে এসব ঘটনার কঠিন বাস্তবতা ভুলে যাই। হিসেব করি না, সামনে কি হবে। আমি মানবিক বা [বিস্তারিত মানবিক ও বাস্তবতার বেড়াজাল]

আশ্চর্য্য বই! পিছনে বিভৎসতা।

মানুষের চামড়া দিয়ে বাঁধানো বই উত্তর ইংল্যান্ডের লিওসের এক রাস্তায় সম্প্রতি মানুষের চামড়া দিয়ে বাঁধানো ৩০০ বছরের পুরোনো একটি বই পাওয়া গেছে। বইটির ভেতরের পৃষ্ঠাগুলোতে কালো কালির হাতের লেখা রয়েছে। ধারনা করা হয়, এটি সতেরো শতকে লেখা। বইটির বিষয়বস্তু ফরাসি ভাষায় লেখা। ফরাসি বিপ্লবের সময় এমন অনেক বই বেরিয়েছে যেগুলো এ বইটির মতো মানুষের চামড়া [বিস্তারিত আশ্চর্য্য বই! পিছনে বিভৎসতা।]

নুয়ে পড়া দিগন্তের পথে

হেঁটে যাব কোনো একদিন অবারিত মাঠের প্রান্তে নুইয়ে পড়া আকাশের নীলটুকু ছুঁতে বসে রব আদিগন্ত নদীর বুকে। তোমার কোমর জড়িয়ে শক্ত করে বেঁধে দিব আঁচলের বেড়। গোধূলীক্ষণে মিলিত হাসির উচ্ছাসে মধুর হয়ে উঠবে দিন ও সন্ধ্যার সে মিলনক্ষণ। তোমার চোখের পানে চোখ রেখে চেয়ে রব অপলোক দেখে নিও এ চোখে তখন সদ্য ক্ষান্ত বর্ষনের শীর্ণ [বিস্তারিত নুয়ে পড়া দিগন্তের পথে]

চলমান সৃষ্টির শৃঙ্খল।

ইদানিং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বড্ড রেগে যাচ্ছি। কারো সামান্য ভুলও সহ্য হচ্ছে না। বাইরেও এর প্রভাব ফেলছি। ভুল করা দেখলেই মনে হয় চাপকে চামড়া তুলে দেই। আবার পরক্ষনেই নিজেকে সামলাচ্ছি ঠিকই। গাম্ভীর্যের মুখোশ পরছি কিনা জানি না। হঠাৎ হাসলেও মনে হচ্ছে রাবারের মতো একটানা হাসি দিয়ে থেমে যাচ্ছি পরক্ষনেই। ভাবছি, আমাদের সমাজ ও পরিবারে এমন [বিস্তারিত চলমান সৃষ্টির শৃঙ্খল।]

আশ্রিত যেন না হয় শেয়াল মগজ।

অনেক আগে অর্থাৎ আমার নানা দাদাদের সময়। তখন নাকি মুখে মুখেই জমি দান হয়ে যেতো। আবার জমি রদবদলও হতো। তাই দান করা জমি ও বদল করা জমি সেসব সূত্রে বসবাসকারিরাই জমির মালিক হয়ে যেতো একসময়। আমার নানাও এরকমভাবে সরকার বাড়ির লোকদের ঘরতোলার জন্য কিছু ভিটে জমি দিয়েছিলেন, কারণ তাদের ঘর তোলার জন্য ভাল ভিটে জমি [বিস্তারিত আশ্রিত যেন না হয় শেয়াল মগজ।]

অপরাহ্নের ম্লান রোদ্দুর

অপরাহ্ণের ম্লান রোদ্দুর, ছায়াশীতল বিষন্ন পথ ডেকে বলে,”চলে এসো পথ চলি গোধূলি এখনো অনেক বাকি।” আলস্যের তপ্ত দুপুর, রুক্ষ জট পাকানো চুলে ঢাকা পড়েছে শীর্ণ কপাল কালি ঢালা দুটি চোখে ঘুমের আবেশ অপরাহ্ণের এ ম্লান রোদ্দুর এক ফোটা লাবণ্য এনে দিবে কি এ মুখে? বিষন্ন পথ মাড়িয়ে মাঠের এ প্রান্তে অপেক্ষামান গোধূলী। এ যেন ঠিক, [বিস্তারিত অপরাহ্নের ম্লান রোদ্দুর]