বাবা-মার ২৪ তম বিবাহ বার্ষিকীতে সীমা

বাবা চাকরির সুবাদে বাহিরে থাকেন। মা প্রতিনিয়ত বাবার কাছে যান এবং বেশ অনেকদিন করেই থাকেন। যাবার কয়েক দিন পূর্বে প্রতিবারের মত মা ‘সীমা’ কে জিজ্ঞাসা করলেন কোন অসুবিধা হবে কিনা। ‘সীমা’ ও প্রতিবারের মতই উত্তর দিল “না আমাদের কোন অসুবিধা হবে না, আমরা বড় হয়ে গেছিনা—” যদিও মা চলে যাবার পর সে নিজেকে অনেক একা মনে করে, সে আর তার ছোটো ভাই দুইজনই বাবা মা হীন নিষঙ্গ শিশুর মত একা হয়ে যায়।

সে ভেবেছে এবার বাবা-মার বিবাহ বার্ষিকীতে কিছু দিতে না পারুক অন্তত অভিনন্দন টা জানাবে। যদিও সব বিশেষ দিন গুলতে অভিনন্দন জানায় কিন্তু যে দিনের কারনে সে আজ কারো সন্তান সে দিনটাকেই প্রতি বছর ভুলে যায়, অভিনন্দন জানাতে পারে না। যখন মনে পরে তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। এবার সে বদ্ধ পরিকর, যে ভাবেই হোক অভিনন্দন জানাবেই। অপেক্ষা করছে কখন সময় ১২.০১ এ.এম হবে আর সে তার বাবা-মা কে অভিনন্দন জানাবে।

প্রতিবারের মত এবার ও সে ভুলে গেলো, কিন্তু খুব দেরিতে না- মনে পরে গেলো ১.৩৩ এ.এম এ। সে ভাবছে আর ভুল নয় এক্ষণই অভিনন্দন জানাতে হবে নয়তো আবার ভুলে যাবে। ফোন দিতে গিয়ে সে ভাবল, এতো রাতে কি তাদের অসুবিধা করা ঠিক হবে এমনিতেই তাদের বিবাহ বার্ষিকী। সে ভাবল,না তাদের একা থাকতে দেওয়া উচিৎ, কিন্তু অভিনন্দন তো তাকে জানাতেই হবে, কারন সে জানে অভিদন্দন জানালে অল্প সময়ের জন্য হলেও তার বাবা-মা খুব খুশি হবেন। তার পর ঝট করে সে একটা এস এম এস লিখে ফেল্ল “Happy Marriage Day Of Yours Abbu Ammu”. সে মনে মনে বলল এটাতে হয়তো তাদের অসুবিধা হবে না, তার পর এস এম এস টা পাঠিয়ে দিল।

সকাল ৯.০৯মিনিট, ‘সীমার’ ফোনে একটা এস এম এস, দেখল বাবা পাঠিয়েছে, “ Thank U Mamoni. May Allah Bless U”. সীমা তো আনন্দে আত্মহারা, সে এখন ভাবছে কিছু তাদের জন্য করেতে না পারুক অন্ততও ছোটো ছোটো খুশি গুলো তো দিতে পারে, আর নিজেও এই খুশিগুলোকে ধরে ধরে গড়ে তুলতে পারে নিজেকে সুন্দর যোগ্য সন্তান ও নিজেকে করতে পারে অনেক সুখী একজন মানুষ।

(…………………  আজ আমার বাবা-মার ২৪ তম বিবাহ বার্ষিকী। সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন তারা যেন দীর্ঘজীবী হন এবং আমার নাতি নাতনির বিয়ে পর্যন্ত দেখে যেতে পারেন যদিও এখনো আমার বিয়েই হয়নি। আর তাদের মৃত্যু যেন কখনই আমার দেখতে না হয়, আমি যেন তাদের ১ দিন আগে হলেও পৃথিবী ত্যাগ করতে পারি ও তাদের অভিনন্দন জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে পারি। )

——————————- সীমা সারমিন—————————-

 

মোট পড়েছেনঃ ৫,১৪৭জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৮টি মন্তব্য

  1. আপনার বাবা-মা দীর্ঘজীবী হোক এই কামনা করি।। আপনার মত সন্তান যার ঘরে বিধাতা তাদের দীর্ঘায়ু দিবেই।।
    আপনার বিয়ে হোক তাড়াতাড়ি।। আমরা একটা দাওয়াত খাই।। অনেকদিন জমপেশ খাওয়া হয় না।। তাড়াতাড়ি বিয়েটা করেন।। (আমীন -{@ (y) \|/ )

    1. তারাতারি বিয়ে হলে তো বাবা মাও তারাতারি নাতি নাতনি দেখবে টাতে তো তাদের আয়ু…………।
      না বিয়ে দেরিতে হওয়াই ভালো………।

  2. আপনার বাবা মায়ের ২৪ তম বিয়ে বার্ষিকীতে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা । দীর্ঘজীবী হোন আপনার বাবা মা , সুখ শান্তি আনন্দে ভরপুর থাকুক তাদের জীবন এবং পরিবার।
    কত কিউট লেখা , মুগ্ধ হলাম বাবা মায়ের প্রতি আপনার এমন আবেগ দেখে।

  3. আপনার বাবা-মা দীর্ঘজীবী হয়ে আরও অসংখ্য এমন বার্ষিকী সুন্দর করে পাড়
    করুন তা চাই ।
    আর আপনি আপনার বিশেষ দিনে ভুল করে হলেও আমাদের দাওয়াত দিয়ে দিবেন এই অপেক্ষাতে রইলাম ।

  4. দীর্ঘজীবি হউক মা বাবা।প্রার্থনা করি সব সময় ফ্যামিলির সাবইকে নিয়ে জীবন ভরে থাক আন্দদের।
    মেরিজ ডে এর শুভেচ্ছা পিতা মাতাকে।

  5. মা-বাবাকে বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা ।।
    ওনারা দীর্ঘজীবি হোন —আর নাতি,নাত্নী, নাতবৌ ,নাতজামাই নিয়ে আনন্দ করুন ।।
    *** তাদের চতুরা কন্যাটি কৌশলে সকলের নিকট নিজের বিবাহ এবং পুত্র-কন্যার জন্য দোয়া আদায় করিয়া লহিলো ।।

মন্তব্য করুন