এক ঘরকুনো চড়ুই

বনমালী তুমি ভয় পেয়ো না,

কারুর হার যদি হয় কারুর জয়ের সূচনা,

সহস্রবার সয়ে যাবে শব্দ বাণের শূল, শুনবেনা কেউ যাতনার মূর্চ্ছনা!

এ-ই তো জীবন কেউ দেনা কেউ পাওনা।

 

লৌহ প্রস্তরীভূত প্রহরীর এ জীবন আমৃত্যু কেউ ছুঁতে পারবেনা ।

প্রাণের দাওয়ায় ছটফটিয়ে মরে ঘরকুনো চড়ুই তবুও তার বাহির-পানে যাওয়া মানা।

সে যে আজানুলম্বিত স্বভাবের শিকল পরিহিত।

 

তুমি হতে পারো মহাপুরুষ,  সাধু- সন্ন্যাসী কৈলাশ তোমার আস্তানা।

বিংশ শতাব্দীর বিনোদিনী তোমার পথ আগলে দাঁড়াবেনা।

 

ভয় নেই বনমালী,

নন্দনকাননে সাফল্য ফুল ফোটাবে তোমা বিনা,

বিপনী বিতান গড়ে তুলবে নগরীর হাঁটে।

সাজাবেনা ভানু ঠাকুরের অভিসারীয় পশরা।

 

বনমালী!

বন্ধু আমার,

গন্ধমে ভয় তোমার পাছে স্বর্গ হাতছাড়া হয়।

হাত-পা ছড়িয়ে তুমি ঈশ্বরের সাধনা করো;

ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন বিনোদিনীর যপমাল্যে এই প্রার্থনা সদায়।

 

হতে পারে মন পোড়া গন্ধে অসহিষ্ণু হবে শ্বাসনালী;

বাতাসে প্রবঞ্চনার সীসা মেশানো রবে,

আততায়ীর ঘাঁটি হবে মন শহরের অলিগলি।

 

ছাই রঙ্গা বদনে সইলোনা যখন রঙের মাদুলি।

একরতি জীবন সে-ও তো ব্যাঙের আদুলি।

কেটে যাবে ঠিকই আঁধারের হাত ধরে,

উঠবেনা চাঁদের ফালি।

 

তুমি ভয় পেওনা বনমালী।

ডাঙ্গার বাঘ ও নই জলের কুমির ও নই।

আমি এই একবিংশ শতাব্দীর বিনোদিনী।

একলা পাড়ি দিতে পারি মহাশূন্য / পাতালপুরী।

মোট পড়েছেনঃ ৯২২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৫টি মন্তব্য

  1. সুপর্না ফাগ্লুনী দিদির ছবি দিয়েছ বন্ধু। যথার্থ উপস্থাপন। এসবই আসলে লিখনি বাকি সব ছাই পাশ।
    কলম চলুক এভাবেই!!!

    1. ছবি পাল্টে দিয়েছি বন্ধু। তোমার এই বক্তব্য যদি সবাই বুঝতো তাহলে মনখুলে লেখা যেতো। ধন্যবাদ এবং ভালোবাসা রইলো

  2. বিনোদিনীর ভয় পেলে চলবে কি করে। আকাশ, পাতাল জয় করার লড়াই প্রতিনিয়ত করতে হয় যে। অসাধারণ অনুভূতির ছোঁয়া। চমৎকার শব্দ চয়ন। এভাবেই চলুক কলম। শুভকামনা ও শুভেচ্ছা রইলো।

  3. জীবন মানেই সংগ্রাম, বেঁচে থাকার তাগিদ, স্বপ্ন। বেঁচে থাকুক বিনোদিনীরা এভাবেই লড়াই করে জয়ীর বেশে। চলুক লেখা। ভালো থাকুন নিরাপদে থাকুন

  4. জীবন ঘটনাবহুল, অনেক অনেক বন্ধুর পথ পার হয়ে তেপান্তর বেয়ে জীবনে স্বার্থক করে তুলতে হই। আপনার কাব্যএ সবাই বুঝুক জানুক ভয়ে ভিতু না হয়ে সামনে এগিয়ে যেতেই হবে।

মন্তব্য করুন