জড় পাথরের মূর্খ বিবেক

করোনা টিকার অন্যতম আবিস্কাকারক আমেরিকান ফাইজার (Pfizer) কোম্পানির কর্ণধার চার্লস ফাইজার নাকি একজন তুর্কি মুসলিম! এমনই গালগপ্পের মাতামাতি নিয়ে অনলাইনে এখন ট্রাফিক জ্যাম লেগেছে কে কার আগে এসব শুনবে। সবাই যেন একটু বিনোদন চায়। আচ্ছা বক্তাদের ভ্যা ভ্যা এর ঠেলায় তাও না হয় মেনে নিলাম। তবে কথা হচ্ছে ফাইজারকে তুরস্কেরই মুসলিম বানাতে হবে কেন? ভিডিও দেখুন-

কথায় কথায় যারা ইসলামতন্ত্রের আদর্শ দেখাতে সৌদির উদাহরণ টেনে আনে তারা দুবাই, কাতার, ইরান আরো কত কত মুসলিম দেশ আছে এদের কথা না বলে তুরস্কের কথাই তাদের মুখ দিয়ে উচ্চারিত হবার পেছনে আসলে রহস্য কি?

এর কারন হলো বক্তা বাণিজ্যের আকালে পকেটে টান পড়ায় বিরহ যাতনার দুঃস্বপ্নে এরদোয়ানের রোহিঙ্গা প্রীতির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে মসজিদে মসজিদে চাঁদা তোলার সেই সোনালি অতীত বক্তারা এখনও ভুলতে পারেনি। সময়ের পরিক্রমায় বাতাসের গতিবেগ পরিবর্তিত হয়ে তুর্কি চামড়ার বর্মবাণী আমাদের কাছে বিষবৃক্ষ হয়ে ধরা দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে এদেশে এরদোয়ান চাচার ফ্যান ফলোয়ারের ব্যাপক ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে আজকাল।

বেচারা এরদোয়ান চাচাও পড়েছেন দৈব বিপাকে। বড়মুখ করে এরদোয়ান চাচী এদেশ সফরে এসে রোহিঙ্গাদের কান্নায় কান্দিত হয়েছিলেন। একদিকে এরদোয়ান চাচীর আঁখোকি আসুর মান রক্ষা অন্যদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এদেশকে সহায়তা করতে চাওয়া চাচার সেই মিথ্যে আশ্বাসের বাণী ইতোমধ্যে চাচাকে প্রহসনের মুর্তি হিসেবে বাঙালির কাছে দাঁড় করিয়েছে।

বাঙালি কখন কি খেতে পছন্দ করে এটা এরদোয়ান চাচার এদেশীয় পরিষদ ভালো করেই জানেন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পন্থা হলো এদেশের লাখো ভক্তকুল শিরোমণিদের মুখ নিঃসৃত বাণীতে মোহময় তুরস্ক ফ্লেভার মিশিয়ে আকাশে বাতাসে স্প্রে করা। প্রমাণ হচ্ছে – মুর্খের ভ্যা ভ্যা শুনে যখন সমাজের শিক্ষিত লোকেরাও বলে ওঠে– ঠিক! ঠিক! (ভিডিও ক্লিপটি যারা দেখেছেন তারা শুনেছেন নিশ্চিত)

অবস্থার প্রেক্ষিতে বলতেই হয়, ফাইজার ইজ দ্যা সিক্রেট অফ টার্কিশ মানী প্রেমী হেপোক্রেট বঙ্গ বক্তাজ। তাহলে কি সৌদি তাদের পকেটমানি কমায় দিলোনি ভাইলোক? জড় পাথরের বিবেক যখন খাঁচায় বন্দী হয়ে মূর্খতার স্বরূপে প্রকাশিত হয় মস্তিষ্ক তখন অনাহারক্লিষ্ট বিষণ্ণতায় আবোলতাবোল বকবে এটাই স্বাভাবিক।

ফাইজার পরিচিতি-
মোট পড়েছেনঃ ১,০৪৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৭টি মন্তব্য

  1. আমরা এমনই এক আজব জাতি কখন যে কোথায় কাকে নিয়ে, কি নিয়ে হুজুগে মাতি, কাকে ভালো লাগে, কাকে মন্দ লাগে নিজেরাই জানিনা। আমাদের লক্ষ্য ঠিক নেই, গন্তব্য ও ঠিক নেই। স্বার্থ যেখানে দেখা যায় সেখানেই আঠার মত লেগে থাকে।
    ভালো থাকবেন সবসময় শুভ কামনা রইলো। শুভ রাত্রি

  2. আমি এদের বলি অন লাইন বিজ্ঞানী বা ফেজবুক বিজ্ঞানী। বাস্তবে কিছু করার ক্ষমতা থাকুক আর না থাকুক অনলাইনে এমন ভুয়াবাজীতে ব্যাপক পটু।

  3. প্রচারেই নাকি প্রসার
    আসলে অতিরঞ্জিত প্রচারে সকলি করে অসার।
    সময়ের সাবলিল উচ্চারণে মুগ্ধতা রেখে গেলাম অফুরাণ।
    আন্তরিক শুভেচ্ছা জানবেন সতত।

  4. আমরা হুজুগে বাঙালি।
    স্বার্থ ছাড়া পা বাড়াই না।
    .
    আমরা উন্নত চিন্তাধারা নিয়ে ভাবি না। আমাদের সকল চিন্তাধারা ফেজবুক জুড়ে। সেখানে ঠেলাটেলি আর ধাক্কা ধাক্কিতেই যথেষ্ট।
    .

  5. সুন্দর উপস্থাপন তৌহিদ ভাই।

    এরদেগান পাকিন্তান আর চীনের দালালী করে আমাদের ডুবায়েছে। চীন পাকিস্তান ভারত ও রাশিয়ার কুটচালে রোহিঙ্গা আমাদের মাথায় ঠাটা কাল হল। পাকিস্তনাএর ধর্মীয় সন্ত্রাসী রোহিংগাদের দ্বারা বর্মী সেনা ও নিরাপত্তা কর্মীর আক্রমণ রোহিঙ্গা তাড়ানোর পথ করে দিয়েছে, আর বাঙ্গালাদেশ আজ না পারছে গিলতে না পারছে তাড়াতে।

    আর শামসুর রাহমানের কান নিয়েছে চিলে। সবাই জানে।

  6. কাঠমোল্লাদের দৌড়াত্বায় দিশেহারা সাঃ মুমিনবান্দারা।আমরা হুজুগে বাঙালী-যা খুবই চিন্তার বিষয়। খুব ভাল উপস্থাপনা।

    1. আমি কিছুতেই বুঝিনা, এদের বক্তা হিসেবে দাওয়াত দেয় যারা তারা কি শিক্ষিত নন! নাকি এসব মূর্খতার কাছে মাথা নত করেছে বিবেক!

      ভালো থাকুন ভাইয়া।

  7. এদের মাথার ঠিক নেই, এদের কেবলারও ঠিক নেই। তবে পাকিস্থান এদের কাছে স্থায়ী কেবলা। এরপর কখনো ইরান, কখনো সৌদি আরব, কখনো তুরস্ক। ছাগলে কিনা বলে, পাগলে কি না খায়- এই হচ্ছে এদের অবস্থা।

    লেখার শিরোনাম, বিষয়বস্তু, ফিচার ছবি একদম পারফেক্ট হয়েছে।
    অনেক সুন্দর একটি পোষ্ট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
    শুভ কামনা।

    1. জান বাঁচানো ফরজ জানতাম, তবে এদের কাছে মিথ্যে জবান আর তার মান বাঁচানো ফরজ হয়েছে। যার ফলে ভুলভাল বকেই যাছে আবার সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠে পড়ে লাগছে। হাসির খোরাক হতে এরা নিজেরাই পছন্দ করে ভাই।

      মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন