দুটি কাব্য//

বৃক্ষের ইতি….//

 

নিয়তির মত সেঁধিয়ে ছিলাম আপন রক্তকোষের অভ্যন্তরে। জেগে ওঠা অঙ্কুরের মত বোধ যখনই উঁকি দিতে চাইল ! তখনও আলস্যি ছাড়তে চাইলনা চোখের পাপড়ি। যত্রতত্র কালসাপের কিলবিলে আনাগোনা বাঁচিয়ে টেনেটুনে জোড় কদমে পা চলছিলো বেশ ।

জড় থেকে টান মেরে উপড়ে নিতে চাইল বোধের কড়াগন্ডা।

হতবিহ্বলতায় এখন নিত্য ঝরছে হৃৎপিণ্ডের কালো রক্তের স্রোত।

ফিনকি দিয়ে ছুটছে বেগতিক তাড়ায়।

ফুরিয়ে আসছে কেবলই পরিপক্কতার অভাব রেখেই একটা গোটা অ-পরিপক্ক জীবনবৃক্ষের ইতিকথা।

 

ঝুল বারান্দা….//

 

একেকটা সকাল -সন্ধ্যের কাছে জমা পড়ে আছে সহস্র শব্দের ঋণ।

অহংকারী একাকীত্বের কাছে নিরন্তর পাওনা রেখে রেখে হাঁটছে সময়ের সময়ের পেন্ডুলাম।

কথা ছিলো,  নক্ষত্রের তৃষ্ণা মেটাবার।যেখানে ঝুল বারান্দা দৃষ্টি বিছিয়ে রেখেছে খররোদে ভেজা আকাশটার দিকে।

অগনিত অক্ষরের দায়বদ্ধতা এড়বার কী বিভৎস কসরৎ চলছে দিন-রাত!

রক্তাক্ত ফুসফুস দম নিয়ে যাচ্ছে প্রতি দিনলিপির কাঠগড়ায়।

এলোমেলো ভোঁতা অনুভূতির সরেজমিন চাষ করে, ফিরে এসে দেখি

এখনো রয়ে গেছি পুরোনো বইয়ের ভাঁজ করা পৃষ্ঠার মাঝখানে।

মোট পড়েছেনঃ ১,০০৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৭টি মন্তব্য

  1. “রক্তাক্ত ফুসফুস দম নিয়ে যাচ্ছে
    প্রতি দিনলিপির কাঠগড়ায়।”
    যেমনি দিন কেটে যায়
    সময়ের ঘড়ির কাটায় কাটায়।
    ভাল লাগলো আপু। শুভ কামনা।

  2. *পরিপক্কতার অভাব থাকলে এই উপলব্দি আসে কিভাবে? অতএব অভাব নেই। জীবনটাই এমন।
    **নক্ষত্রের তৃষ্ণা মেটে না সহজে।
    অনেক ভালো কবিতা।
    শুভ কামনা।

    1. গোলমাল হয়ে গেলো…..
      সুপায়নদাদার রিপ্লাই এই ঘরে চলে এলো।

      @জিশান শা ইকরাম
      মন্তব্যে অনুপ্রানিত।
      শ্রদ্ধাসহ শুভ কামনা।

  3. জীবন বৃক্ষ তো অপরিপক্ক হয় না! ও তো সবসময় আদর্শ ঝড় বৃষ্টি বাদলে কিংবা খরতাপে। চোখ শ্মশান হলে, ঐরকম আকাঙ্খার বৃষ্টি আশা করে।

    1. জীবন বৃক্ষ অপরিপক্ক তখনই হয়, যখন বৃক্ষ হয় উপমা। খরতাপের তৈরী যে চোখ…. সে চোখ আজীবন বর্ষা প্রতাশী। কি চমৎকার মন্তব্য করেন আপনি। ভালবাসা অবিরাম।

  4. জীবনটাই যে এমন তৃষ্ণা মেটে না কিছুতেই। অপরিপক্কতা নয় এটা আমাদের মনের খোরাক যা অতৃপ্ত ই রয়ে যায় হাজার সুখেও। সুখ তো আপেক্ষিক। তাকে তো বাধা যায় না, অনুভব করতে হয়। অতীত এভাবেই পিছু টেনে ধরে , মনটাকে অস্থি্র করে তুলে। নিরন্তর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা

মন্তব্য করুন