আমি আমার মিত্র

বস্ত্র দিয়ে নারীকে বারে বারে তোমরাই আবৃত্ত করো,
আবার তোমরাই লুলুপ দৃষ্টিতে নারীকে খুলে যে ধরো!

সে যদি ছাপ মারা অসুর,
মারলে নাহয় ব্রহ্মাস্ত্র বা ফাঁসিতে.
দেখি প্রায়সই দেবরূপী অসুর মিলে যে পূণ্যভূমীর মাটিতে।।

দুর্যোধন না হয় অন্ধের পুএ,
ধর্মপুত্রেরাও হীন বলশালী হয়?
ধর্মগ্রন্থ হাতে বিধর্মী হলে তীর্থ স্থানও পতীতা পল্লী হয়।

নারীর সতীত্ব বিচারের সার্টিফিকেট
একই থাকে শুধু রূপ বদলায়..
বলির পশু একই নারীদেহই থাকে,পুরুষ বলীয়ান      অর্থ বা পেশিতে হয়।।

স্বামীর সোহাগ নারীর পরশ পাথর,ওটা হারালেই অসতী নারী….
নারীর গর্ভ সৃষ্টির আধার,
তাই এতো অভিনয় করে নারী রক্ষাকারী।।

প্রকৃতি মাতাও বিধাতা পুরুষের.
বুঝে গেছিলেন এই অভিপ্রায়,
তাইতো সর্ব শক্তি বিধাতার হাতে তবু ও
সৃষ্টির প্রাণ পাখি রাখলেন নিজের আওতায়।।

অগ্নিদগ্ধা হবে,বস্ত্র লুণ্ঠিতা হবে
তবুও বিধাতাকে বলবেনা মোরে রক্ষা করো….
সে যে আধুনিকা নারী হেরে যাবে না, নারীকেই বলবে তুমি অস্ত্র ধরো।।।

তোমরা দয়া করে বস্ত্র  দাও,আবার নির্দয় হয়ে লুট করো.???
আমার স্নেহ মায়ার গুণকে তোমরা অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করো।।

ধীরে ধীরে বুঝলো যুগ যুগান্তরে
নারী নিজেই হলো একমাত্র নারীর  মিত্র,
পুরুষ কখনোই আপন হবে না ঈশ্বর,স্বামী বা পুত্র।।

 

মোট পড়েছেনঃ ১,২৩২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩২টি মন্তব্য

  1. “তোমরা দয়া করে বস্ত্র দাও,
    আবার নির্দয় হয়ে লুট করো.???
    আমার স্নেহ মায়ার গুণকে তোমরা
    অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করো।।”
    নারী মাতা নারী কন্যা
    নারীই মোদের আপন জন
    মনটা যদি বিষিয়ে উঠে
    মনে করো জন্মক্ষন।
    খুব ভাল লাগলো কবিতাটা।
    শুভ কামনা।

  2. অরি সুক্ষ লেখা। নারী তুমিই সেরা হোক না যতই কারো না কারো কাছে অতি নগন্যা। শক্তি বলে, বাহু বলে আবার অর্থ বলে যতই খমতাশালী হোক নারীর নিকট আস্তেই হয়, নারীর দেহে অলস দেহ এলুয়ে দিয়ে শান্তি আউখ আহরণ করে এটাও বাস্তব।
    ছন্দা দাম সুন্দর লেখনির জন্য অসংগখ্য শন্যবাদ।

  3. “ধীরে ধীরে বুঝলো যুগ যুগান্তরে
    নারী নিজেই হলো একমাত্র নারীর মিত্র,
    পুরুষ কখনোই আপন হবে না ঈশ্বর,স্বামী বা পুত্র।”

    এই লাইন গুলো নারী জন্মের চরম সত্যি।
    খুব ভালো লিখেছেন দিদি ভাই।

    1. তোমায় অনেক ভালোবাসা বোন। নারীই নারীর মিত্র সেটার উজ্জ্বলতম উদাহরণ তুমি।
      তোমার অনুপ্রেরণা হৃদয়ে সবসময় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ‌।♥️♥️

  4. যে পুরুষ বস্ত্র দিয়ে নারীকে আবৃত করে সেই নারীর বস্ত্র খুলে ফেলে নিজের কামনার নিমিত্তে। ধর্মগ্রন্থ হাতে বিধর্মী হলে তীর্থস্থান ও পতিতা পল্লী হয়। নারীর আপন বলতে আমার কাছে কাউকেই মনে হয় না। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন শুভকামনা রইলো

  5. অসুর কসুররা যদি নারীকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে সেটা তাদের সমস্যা-নারীর বা ধর্মের নয়। ধর্ম নারীকে তার প্রাপ্য হক্ব দিয়েছে ক্ষেত্র বিশেষে অনেক বেশীও দিয়েছে, স্ব স্ব ক্ষেত্রে যেমন দিয়েছে পুরুষের বেলায়ও। এখন কেউ যদি কোন ব্যক্তি বা গোষ্টি স্বার্থে নারীকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করে সেটা সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠির অপরাধ।
    আপনার লেখায় নারী জাতির অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এবং বিশ্বাস করি নারী কোন অসহায় প্রাণী নয়। নারী না হলে আমি দুনীয়ায় আসতাম না, আজ আমার এই অবস্থান হতো না আমার মা না হলে। আমার বোন না থাকলে আমি বুঝতাম না ভাই -বোনের মমত্ববোধ কাকে বলে। আমার স্ত্রী না থাকলে আমি যৌবনের সৌন্দয্য উপভোগ করতে পারতাম না। আমার জীবনের প্রত্যেক পরতে পরতে আমার বাবার সাথে সাথে আমার মা’র ভূমিকাও কম নয়। আমাদের প্রিয় নবী স. কে একজন সাহাবি (সাথি) জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, আমার মা ও বাবার মধ্যে কার অধিকার বেশি। হুযুর উত্তরে বলেন, তোমার মার, দ্বিতীয় বার প্রশ্ন করা হলেও তিনি উত্তরে বললেন তোমার মার, তৃতীয় বার প্রশ্ন করা হলেও উত্তরে বললেন তোমার মার। চতুর্থবার প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরে বললেন তোমার বাবার। তিনবার মার অধিকার বলার পরে চতুর্থবার পিতার অধিকারের কথা বললেন। ইসলাম ধর্ম যে নবীর হাত ধরে পৃথিবীব্যপি চলে আসছে সেই নবী মায়ের অধিকারের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি অধিকার দিয়েছেন। এখন আমরা যদি না মানি সেটা আমাদের সমস্যা- ধর্মের নয়।
    আমি যেটা বলতে চাচ্ছি পরিবারে-সমাজে নারীর অবদান কম নয়-সেটা নিয়েও লিখুন, শুধু অসহায়ত্ব নয়।

    1. আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বন্ধু।।আমি একমত।আসলে ধর্ম গ্রন্থগুলোকে নিজের স্বার্থ তৃপ্তির জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে সবসময়।।
      আর শেষের কটা লাইন পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন আমি অসহাযত্বকে জয় করে নারী নিজেই নিজের সহায় হওয়ার কথাই বলেছি।।
      অযুত ধন্যবাদ আপনাকে।।🌹🌹

    1. ভাইজান কবি কল্পনায় প্রসুত কবিতায় আপত্তি থাকতেই পারে ।।।তবু আমার লেখা পড়েছেন এটাই আমার প্রাপ্তি।।ভালো থাকবেন🌹🌹

  6. অগ্নিদগ্ধা হবে,বস্ত্র লুণ্ঠিতা হবে
    তবুও বিধাতাকে বলবেনা মোরে রক্ষা করো….
    সে যে আধুনিকা নারী হেরে যাবে না, নারীকেই বলবে তুমি অস্ত্র ধরো।।।

    প্রতিবাদী নারী। কবিতায় নারীর স্বরূপ উম্মোচিত হয়েছে।কবিতাটি খুবই ভাল লাগল।

  7. আমি নিজেও একজন নারী এটা এক ধরনের অনুভূতি,আবার নারী অধিকার,নারী নির্যাতন,নারীর ইচ্ছা,এগুলো নিয়ে কাজ করেছি ৫ বছর,বাংলাদেশ লিগাল এইড,সেভ দ্যা চিলড্রেন, সাজেদা ফাউন্ডেশন সহ আরও অনেক জায়গা। তাই নারীদের সব বিষয়ে অনেকটা বুঝি।তাইতো কবির সাথে সুর মিলিয়ে বলতে হয়,
    বিশ্বের যা কিছু মহান,সৃষ্টি, কল্যানকর
    অর্ধেক তার রচিয়াছে নারী,অর্ধেক তার নর।
    আপনার নারীদের নিয়ে আজকের লেখা সত্যি অসাধারন।ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন