করোনাভাইরাস মহামারীকালে আমরা আমাদের দ্বিতীয় ঈদটি পালন করেছি। এবারো ঈদের দিন কেউ আমাদের বাড়ি বেড়াতে আসেনি। আমরাও যাইনি কারো বাড়িতে। আমরা মেহেদিতে হাত রাঙিয়েছি একাকি চার দেয়ালের মাঝে। ঈদের কেনাকাটা হয়নি। রান্না হয়েছে স্বল্প পরিসরে। ঘরে থাকা পাঞ্জাবি, পোশাক পরে সপরিবারে গিয়েছি উম্মুক্ত সবুজ প্রান্তরে। সেখানে বন্ধুরাও এসেছে একে একে। খোলা আকাশের নিচে সবুজ মখমলের মতো নরম ঘাসে শীতল পাটি বিছিয়ে নিজেদের সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া খাবার ভাগাভাগি করে খেয়েছি শেষ বিকেলের মোলায়েম আলোয় মাখামাখি হয়ে। মাস্ক পরে দৈহিক দূরত্ব মেনে একসঙ্গে সময় কাটিয়েছি। গল্প করেছি। ঈদ-উল-আযহার দিন কয়েক আগে বাড়ি থেকে ৯০ মাইল দূরে কানেক্টিকাটের এক খামারে গিয়ে গরু পছন্দ করে মুল্য পরিশোধ করে আসা হয়েছিল। গরু জবাইয়ের জন্যে এপয়েনমেন্ট দেয়া হয়েছিল ঈদের পরদিন মধ্যাহ্নে। বন্ধুরা সকলে মিলে সপরিবারে সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। উদ্দেশ্য আমাদের সন্তানদের কুরবানি সম্পর্কে ধারণা দেয়া। কিন্তু করোনামহামারী সংক্রমণ প্রতিরোধে খামার কর্তৃপক্ষ কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছে। বিধায় আমাদের আর সপরিবারে যাওয়া হয়নি। পরিবারের কর্তারা গিয়েছেন শুধু। সন্ধ্যার কিছু পরে মাংস নিয়ে ফিরেছেন তারা। সেই মাংস ভাগ বাটোয়ারা করে মধ্যরাত অব্দি স্বজন, বন্ধুদের বাড়ির সামনে গিয়ে দিয়ে এসেছি।
আট মাস আগে চীনের উহান প্রদেশে শুরু হওয়া করোনাভাইরাসে সারা বিশ্বে মৃত্যুসংখ্যা ৭ লক্ষ ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু ঘটেছে ১ লক্ষ ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের। এত অধিক সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর ভয়াবহতার উপর দাঁড়িয়েও থেমে নেই কারো জীবন। জীবন ফিরতে চাইছে জীবনের নিয়মে। শিশুরা ফিরতে চাইছে স্কুলে। সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদনে জানলাম, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের একটি শহরে একদল শিক্ষার্থী পাহাড়ের উপরে উন্মুক্ত স্থানে ক্লাস করছে। সেখানেই খোলা আকাশের নিচে নিজেদের শ্রেণীকক্ষ বানিয়ে নিয়েছে তারা। মাস্ক পরা, দৈহিক দূরত্ব মেনে চলা সহ কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে সকল নির্দেশনা মেনে শিক্ষা গ্রহণ করছে তারা। বিষয়টি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মন্দ নয়। কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের জন্যে এটি ভালো ফল বয়ে আনবে হয়তো। ঘরের ভেতরে মাসের পর মাস বন্দি থেকে বিরক্ত শিশুদের হতাশা থেকে বেরিয়ে আনার চমৎকার উদ্যোগ।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটির স্কুলগুলো আসছে সেপ্টেম্বরে খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্কুল চ্যান্সেলর ই-মেইলের মাধ্যমে এ বিষয়ে অভিভাবকদের মতামত জানতে চেয়েছেন। ৭ই আগস্টের মধ্যে জানাতে অনুরোধ করেছেন, যেন তারা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে। চাইলে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসেই সপ্তাহে পাঁচদিন রিমোট লার্নিং এর মাধ্যমে ক্লাস করতে পারবে। আবার চাইলে স্কুলে গিয়েও ক্লাস করতে পারবে। স্কুলে গিয়ে ক্লাস করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ছাত্রদের কিছু অংশ সপ্তাহে ২/৩ দিন স্কুলে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করবে। সপ্তাহের বাকি দিনগুলো রিমোট লার্নিং এর সাহায্য নিতে হবে। ই-মেইলে জানানো হয় যে, স্কুলগুলো যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা করেই শিশুদের পাঠদান করবে। বিষয়টিকে অনেক অভিভাবকই স্বাগত জানিয়েছে। নিউইয়র্কের অন্যতম বিশেষায়িত হাই স্কুল ‘ স্টাইভেসেন্ট’ এ টুয়েলভ গ্রেড পড়ুয়া আমার বড়ছেলে ‘ অল-রিমোট লার্নিং’ অপশন বেছে নিয়েছে। এ বিষয়ে তার যুক্তি, নিরাপদে ঘরে বসে রিমোট লার্নিং এর মাধ্যমে সে পড়াশোনায় আরো বেশি সময় দিতে পারবে বলে তার ধারণা। কেননা বিগত তিন মাস রিমোট লার্নিং এর মাধ্যমে অংশগ্রহণ করা পরীক্ষাগুলোয় সে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো ফলাফল করেছে। অন্যদিকে বাড়ির কাছের এলিমেন্টারি স্কুলে ফিফথ গ্রেড পড়ুয়া ছোটছেলের জন্যে বেছে নিয়েছি ‘ মিশ্রিত শিক্ষা’ অপশনটি। স্কুল ভবনে গিয়ে সপ্তাহে ২/৩ দিন ক্লাস করাটা যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। কেননা ‘ রিমোট লার্নিং’ পদ্ধতি তার জন্যে সেই অর্থে স্বাচ্ছন্দ্যের নয়। অনেক কিছুই বুঝতে অসুবিধা বোধ করছে সে।
সেই সুদিনের পথ চেয়ে আছি।ভালো ও বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।
সবকিছু স্বাভাবিক হোক, আবার আগের মত সব কিছু শুরু হোক এই কামনায় প্রতিনিয়ত দিন পার করছি। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। অবিরাম শুভ কামনা। নিরাপদে থাকুন
অনিন্দ্য সুন্দর উপস্থাপন । ভালো লাগা অবিরাম ।
আমাদের অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই।
ভালো লাগলো। ভালো থাকবেন। শুভ কামনা।।।
অনেক ভাল লেখেছেন আপু
শুভেচ্ছা রইল
আবারো স্বাভাবিক হোক জীবন আপনার মতো আমাদেরও এই চাওয়া।
আমরা সবাই সুদিনের পথ চেয়ে আছি আপু, আল্লাহ যদি এই প্যানডেমিক সিচুয়েশন দূর করে দেন তাহলে জীবনে আরও অনেক দূর যাওয়ার ইচ্ছে আছে।
শুভকামনা রইলো আপু।
করোনাকালের এই দুঃসময় কাটিয়ে সকলেই স্বাভাবিক জীবন যাপন করুক এটাই প্রার্থণা। আপনিও ভালো থাকুন আপু।
শুভকামনা জানবেন।
একই পৃথিবীতে একই ভাইরাসের সাথে লড়াই করছি আমরা। অথচ মনে হচ্ছে যেন দুই গ্রহে বাস করছি! আমাদের এখানের যাপিত চিত্র গুলো তাই বলে। রোজার ঈদ পর্যন্ত কোনো রকমে টেনেটুনে মানুষ আবদ্ধ থাকা, সামাজিক দুরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছিলো, কিন্তু এখন আশেপাশের সব দেখলে মনে হয় আমাদের দেশে করোনা আসেনি, আসবে না। দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যাবস্থা, চিকিৎসা খাত সব বিপর্যস্তের মুখে। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর সংখ্যা। তবুও এরই মাঝে আমরা কত সহজেই স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি! জানিনা এর বিনিময়ে আমাদের কি মূল্য দিতে হবে, কোন পরিনতি অপেক্ষা করছে আমাদের অসচেতনতার জন্যে।
ভালো থাকুন আপু। সপরিবারে সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন। শুভ কামনা 🌹🌹