আমৃত্যু অপেক্ষা

 

একটা পুরোনো পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ প্রাসাদ,
বিবর্ণ ধূলো ধুসরিত পলেস্তরা ছড়ানো ছিটানো ঘরময়।
একটা নৈঃশব্দ্যিক নির্জন নিরব নিকোনো উঠান,
শুনসান নৈস্বর্গিক নিস্তব্ধতা বিরাজমান চতুর্দিক।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ হওয়া এক বৃদ্ধা নারী
পরোনে তার গেরুয়া রঙের শাড়ি,
ধূলোমাখা দাওয়ায় বসা শূন্যে রয়েছে দৃষ্টি,
চোখ দুটো তার উত্তপ্ত ধূসর মরুভূমি,
অপেক্ষায় থাকা দু’চোখে পড়েছে ছানি
অস্পষ্ট ঝাপসা চোখে তবুও সে রয়েছে চেয়ে।
এই বুঝি কেউ আসবে কাছে, বসবে পাশে
দখিনা বাতাসে ঝরে পড়া শুকনো পাতার-
সংঘর্ষে সৃষ্ট মড়মড় শব্দে আঁতকে ওঠে বুক!
কে, কে ওখানে?
প্রতিউত্তরের অপেক্ষা না করে,
নিজেই নিজের সাথে অনর্গল কথা বলে।
তুমি এলে?
এতো দিন পর মনে পড়লো আমাকে!
কোথায় তুমি?
ঠিক করে দেখতে পাই না বলে-
লুকোচুরি করছো আমার সাথে!
কোথায় তুমি?
কী হলো কথা বলছো না কেনো?
তুমি আসোনি?
কারো কোনো সাড়া না পেয়ে,
হতাশায় নিমজ্জিত হয় ফিরে পাবার আশা।
তবুও সে দাওয়ায় বসে অপেক্ষা করে,
কেউ আসবে বলেছিল যে।

মোট পড়েছেনঃ ১,৬৭০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩১টি মন্তব্য

  1. অপেক্ষার যে চিত্র লেখায় এসেছে তা দুর্দান্ত।
    এই প্রথম আপনার লেখাটি ভিন্ন মাত্রা পেল।
    এ এক দুর্ধর্ষ অপেক্ষা যা হয়ত জীবনের বিনিময় হয়ে উঠতে পারে।
    তবুও অপেক্ষারা অপেক্ষায় থেকেই যাবে, যেমন থাকে সর্বত্র।
    লেখাকে ধন্যবাদ।

    1. আজ আমি সত্যিই খুব খুশি
      আমার লেখা আপনার হৃদয় ছুঁয়েছে
      কতদিন অপেক্ষা করছে এমন মন্তব্যের জন্য
      আমি ধন্য

      কৃতজ্ঞতা সহ আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন ভাইয়া
      ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়

  2. অস্পষ্ট ঝাপসা চোখে তবুও
    সে রয়েছে চেয়ে।
    এই বুঝি কেউ আসবে কাছে,
    বসবে পাশে গিয়ে।
    কত সুন্দর করে আপন
    মনের মাধুরী মিশিয়ে
    লিখেছেন আপু পড়ন্ত বিকেলের
    গল্পের শেষে।
    শুভ কামনা। ভাল থাকবেন।

  3. আমৃত্যু অপেক্ষার চিত্রটা একেবারে যেন বাস্তবতার ছোয়ায় ফুটে উঠেছে চোখের সামনে। ওর অপেক্ষায় এই ভিটেমাটি সে ছাড়তে পারেনা, শুধুই অপেক্ষা…….হৃদয় ছোয়া কবিতায় ভালোলাগা জানিয়ে গেলাম আপু।

  4. এ অপেক্ষার শেষ হবে না,
    অপেক্ষারা একদিন মরে যাবে অপেক্ষারত মানুষের সাথেই।

    অসাধারন হয়েছে কবিতা আপু,
    আলাদা ধরনের।

    শুভ কামনা।

  5. প্রতিটি বাক্যের ছবি চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে। অসাধারণ হয়েছে। অপেক্ষায় এভাবেই মূর্ত হয় কারো দিবানিশি। ভালো থাকুন সবসময় শুভ কামনা রইলো

  6. লেখাটি পড়ে চোখ ছলছল করছে আপু। সত্যি এক অপেক্ষারত মায়ের কষ্ট অনেকেই বুঝতে পারিনা। সন্তান নামক অমানুষ গুলো যখন বৃদ্ধ মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়, তখন মায়ের অপেক্ষা বেড়ে যায়। কখন আসবে সন্তান। কিন্তুু কুলাঙ্গার সন্তান কখনো মাকে দেখতে আসেনা, নিতে আসেনা।।

    সত্যি অসাধারণ লিখেছেন

    1. বড্ড অকৃতজ্ঞ সন্তান আমরা ভাইয়া। তাই তো করতে পারি এমন নৃশংস আচরণ।

      কৃতজ্ঞতা সহ আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন ভাইয়া
      ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়

  7. বিকেল থেকে লেখাটি কয়েকবার পড়েছি, আর প্রতিবারই মনে কেমন জানি একটা অস্থিরতা চেপে বসেছে, ঠিক বোঝাতে পারবো না। আমি যেন আমাকেই দেখেছি এইরুপে। একজন অপেক্ষারত নারী। বয়স তাকে স্থির করে দিয়েছে, চোখে পর্দার প্রলেপ। কিন্তু সবকিছু ছাড়িয়ে তার উৎকন্ঠিত অস্থির মন চেয়ে আছে পথপানে,, কেউ আসবে – চিরচেনা স্বরে কেউ নাম ধরে ডাকবে।

    অসাধারণ লেখা। আপনি আমার প্রিয় লেখকদের একজন ছিলেন অনেক আগের থেকেই। আজ আপনার লেখক সত্তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জন্মে গেলো। লেখাটি প্রিয় তালিকায় যোগ করে নিলাম 🙂

    খুব ভালো থাকুন, আর আরও অনেক অনেক লিখুন।
    দোয়া ও ভালোবাসা রইলো সব সময়ের জন্যে ❤❤

    1. মন্তব্যটিও কয়েক বার পড়লাম
      আপ্লুত, আনন্দিত হয়েছে মন
      আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়েছে আঁখি
      এতোটা সন্মানও আমি ডির্জাব করি?

      আপনার জন্যই আসতে পেরেছিলাম সোনেলা উঠানে। কৃতজ্ঞতা অশেষ আপু
      ভালোবাসা অবিরাম ❤❤

  8. বয়সের ভারে ন্যুব্জ হওয়া এক বৃদ্ধা নারী
    পরোনে তার গেরুয়া রঙের শাড়ি,
    ধূলোমাখা দাওয়ায় বসা শূন্যে রয়েছে দৃষ্টি,
    চোখ দুটো তার উত্তপ্ত ধূসর মরুভূমি,
    অপেক্ষায় থাকা দু’চোখে পড়েছে ছানি
    অস্পষ্ট ঝাপসা চোখে তবুও সে রয়েছে চেয়ে।

    এমন করে লিখলে মনটা ভারি হয়ে উঠে আপু।

  9. হতাশায় নিমজ্জিত হয় ফিরে পাবার আশা।
    তবুও সে দাওয়ায় বসে অপেক্ষা করে,
    কেউ আসবে বলেছিল যে।
    বেশ ভালো লাগলো শব্দচয়ন গুলো।
    শুভকামনা দিদি।

মন্তব্য করুন