গুচ্ছকবিতা

মা’কে নিয়ে পঙক্তিমালা ||
মা যে আমার হারিয়ে গেছে কবে
এক এক করে বছর দশতো হবে
সেই থেকেই মা’কে খুঁজি
নীল আকাশের তারায়
পাই না খুঁজে মা’কে আমার
খোঁজবো যে আর কোথায়?

তারপরেও মা’কে খুঁজি চাঁদে
তাঁকে ছাড়া মন যে ভীষণ কাঁদে
মা’কে নিয়ে বুকের ভেতর
কত স্মৃতির পাহাড়
কল্পলোকে সেই স্মৃতিরা
ছড়ায় হাহাকার।

চোখের তারায় মায়ের মুখচ্ছবি
মিষ্টি হাসির মোনালিসার ছবি
মা ই আমার সকল বেলার কাজে
সাহস জোগান শক্তি যোগান
মাথার চুলে বিলি কেটে
ঘুম পারিয়ে যান।

মা যে হাজার স্বপ্ন নিয়ে বুকে
চলে গেছেন দূরের স্বপ্নলোকে
সেই স্বপ্ন করবো পূরণ আমি
হয়ে মায়ের স্বপ্নকারিগর
করতে যেন পারি তা
এটুকু চাই বর।

শুধুই অতীতঝলক ||

শরীরে মর্চেধরা, তবু খননের সাধ তার
হয়ে যায়নি ভোঁতা, নিজে নিজে শান দেয়
চকচকে তকতকে মনের ইস্পাত
দিতে পারে না কোপ, বসাতে পারে না দাঁত
পাশেই যৈবতি বৃক্ষ সুঠাম অপ্সরা
অলস জিমোয় বসে, কালের করাত।

এমন কত স্তব্ধরাতে জোনাকিরা আলো
জ্বেলে চিনিয়েছে পথ, প্রেম অভিসারে
লোকলজ্জার ভয় নিয়েছিল কেড়ে
ছিল কুঠারের শান, নীল আসমান
বিছিয়ে দিতো ছায়া ঘোর জঙ্গলে।

সে-সব পুরনো স্মৃতি, অতীতঝলক
পুরনো বাস্তুভিটায় তার বিষাক্ত সাপ
গড়েছে বসত, এরাই সঙ্গি এখন দেখে
সব চলাফরা অবাধ বিচরণ, এ-ভয়ে
সব ছায়া, সবমায়া সরে গেছে দূরে
তবু, কুঠার খুঁজে ফিরে অতীত গৌরব।

 

সেই প্রিয় শৈশব ||
ঘাসফড়িং এর পিছু ছোটা
প্রিয় সেই শৈশব
বন-বাদারের রোদেরছায়ায়
পাখির কলরব।

দূর আকাশে হারিয়ে গেল
শখের রঙিন ঘুড়ি
বোকাট্টার হতাশাতে
কষ্টে ভীষণ পোড়ি।

দিনগুলিসব খুঁজে খুঁজে
পাই না কোথাও তারে
কেঁদে বেড়ায় মনপাখিটা
কষ্ট হাহাকারে ।

থাকতো যদি জাদুর কাঠি
ফিরতাম সে শৈশবে
কেটে যেত সুখে দিন
আনন্দ উৎসবে।

জীবন।।

প্রতিনিয়তই-
জলবিন্দুর মতো উবে যায়
জীবনের প্রতিটি ভগ্নাংশ
উবে যায় জীবনের ধূলোবালি
আর পড়ে থাকে কিছু বিমূর্তছায়া;
ভালোবাসার আদান-প্রদান
ফিকে হ’তে হ’তে
মিশে যায় কালেরধারায়।

তবু জীবন কত সুন্দর
কত মোহময় মরীচিকা
যার পিছু পিছু কান্তিহীন
অনন্তর হেঁটে চলা।

এভাবে কখনো অবিমিশ্র
হাহাকারে ডুবে থাকে মন
আবার কখনোবা
আনন্দের একঝাঁক
রঙিন পাখি ডানা মেলে
উড়ে যায় আকাশে
নক্ষত্র-চাঁদের দেশে।

 

মোট পড়েছেনঃ ৯২১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৩টি মন্তব্য

  1. মায়ের স্বপ্ন পূরণের বর বিধাতা অবশ্যই দেবেন।

    ছিলো কুঠারের শান, নীল আসমান
    বিছিয়ে দিত ছায়া ঘোর জঙ্গলে-
    এমন কুঠারের অতীতের শান চিরকাল অম্লান থাকে।

    শেষ কবিতায় জীবনের জয়গান দেখতে পাচ্ছি।
    এমন অনুভূতির জীবন তো স্বার্থক জীবন।

  2. আমার মনে হয় এক হালি এক সাথে না দিয়ে একটা করেও দিতে পারতেন ভাই, অবশ্য এটা একান্তই আপনার ইচ্ছা।

    মায়েরটাই সব থেকে ভালো লেগেছে, শৈশবটা মনকে নষ্ট্যালজিক করে তুলেছে…….ভালোলাগা জানিয়ে গেলাম এক হালি কবিতায়।

  3. মা’কে নিয়ে বুকের ভেতর
    কত স্মৃতির পাহাড়
    কল্পলোকে সেই স্মৃতিরা
    ছড়ায় হাহাকার।

    মন ছুয়ে যায়
    মায়ের কবিতায় !
    মাকে পড়ে মনে
    স্মৃতির পাতায়
    হৃদয় গহীনে

  4. মা যে আমার হারিয়ে গেছে কবে
    এক এক করে বছর দশতো হবে
    সেই থেকেই মা’কে খুঁজি
    নীল আকাশের তারায়
    পাই না খুঁজে মা’কে আমার
    খোঁজবো যে আর কোথায়?

    -বুকের ভিতরে মোচড় দিয়ে উঠলো, মাকে হারিয়েছি বছর তিনেক হলো।
    আমি আর বাড়িতে যাইনা,
    কবিতায় মুগ্ধতা ক্লেশে জর্জারিত হলাম।

  5. মায়ের স্বপ্ন পূরণের বর ঈশ্বর আল্লাহ অবশ্যই দেবেন।
    স্মৃতিময় এক অনবদ্য কাব্যকথন।
    সব গুলো কবিতা চমৎকার রচনাশৈলী, তবে
    প্রথম’টা আমার বেশ ভালো লেগেছে।

মন্তব্য করুন