পাঁচশ টাকায় এক কাপ চা (শেষ বিকেলের প্রণয়_খণ্ডাংশ)

মোহনাঃ ঐ আছিস? কি করিস?

অর্ণবঃ হুম। ভাবছি। পাঁচশ টাকার এক কাপ চা নিয়ে ভাবছি।

মোহনাঃ কি রে গাঞ্জা টাঞ্জা খেয়েছিস নাকি? কি ভাট বকছিস? পাঁচশ টাকা এক কাপ চায়ের দাম? তা কোথায় তৈরি হয় এমন চা?

অর্ণবঃ ঐ হারামী আগে শুনবি তো নাকি? না শুনেই বকবক করছিস।
রাত প্রায় ১২টা। শহর থেকে অনেকটা দূরে নির্জন রাস্তা আশে পাশে কোনো জানবাহন নেই। জনমানবশূন্য রাতের রাস্তা মৃদু বাতাসের আলতো স্পর্শ।আহ্ যেনো অন্যরকম অনুভূতি। আমি ধীরে ধীরে ড্রাইভ করছি আর গুন গুন করে গান গাইছি। হঠাৎ চোখে পড়লো এক চায়ের দোকানে আলো জ্বলছে। দোকানি ছাড়া আর কেউ নেই। এমন ফুরফুরে মেজাজে নির্জন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এক কাপ চা খেলে মন্দ হয় না। রাত যেহেতু আর নির্জন রাস্তা দেখে আমি আর পার্কিং নিয়ে মাথা ঘামালাম না। রং, রাইট সাইট ভেবে আর সময় নষ্ট না করে নেমে পড়লাম। মামা এককাপ চা দেন বলে একটা সিগারেট জ্বালাতে যাবো এমন সময় ধা ধা করে ছুটে এলো পুলিশের গাড়ি। আমার গাড়ির কাছে এসে গাড়ি থামালো। একটা চক্কর দিয়ে দেখে নিলো গাড়িটি। তারপর চা স্টলে এসে জিজ্ঞেস করলো গাড়ি কার আমি বললাম আমার।

পুলিশঃ আমি কি জানেন রং পার্কিং করেছেন।

অর্ণবঃ জ্বী জানি।

পুলিশঃ নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। রং পার্কিং এর জন্য কতো জরিমানা ধার্য করা হয়েছে সে বিষয়ে অবগত আছেন?

অর্ণবঃ জ্বী আছি।

পুলিশঃ জেনে শুনেও রং পার্কিং? এখন তো কেস খাইবেন।

অর্ণবঃ কেস খেলে তো আর কিছু করার নেই। আচ্ছা সে না হয় করবেন। আসেন চা খান আগে। মামা দেন আর এককাপ চা দেন।

পুলিশঃ কেস ফাইল করবো নাকি ক্যাশে,,,,,,

ব্যস বুঝে গেলাম আমার কি করতে হবে। পাঁচশ টাকা হাতে ধরিয়ে দিলাম। আর ভেবে নিলাম এককাপ চা খেয়েছি পাঁচশ টাকায়। এবার বুঝেছিস কেনো বললাম এককাপ চা পাঁচশ টাকা।

মোহনাঃ  হা হা হা হা হা হা হা

মোট পড়েছেনঃ ১,৯৭০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৭টি মন্তব্য

  1. গল্পে রং পার্কিং-এর হিসেবটা ভালোই মিলেছে! হিসাব তো একটা-ই, যা যাবার বাজেটের ওপরই নির্ভর করে। তবে হ্যাঁ, বর্তমানে এক কাপ নাহয় কপি কিন্তু ৫০ টাকাও বিক্তি হয় বা হচ্ছেও। এতে অবাক হবার কিছুই নেই।
    শেষ কথা হলো, গল্প ভালো হয়েছে। মজাও পেলাম!

  2. হিসেবে পাঁচশ দশ টাকা হয়-
    পুলিশের পাঁচশ আর চা দোকানির দুই কাপের বিল-

    পুলিশঃ আমি কি জানেন রং পার্কিং করেছেন ?
    সম্ভবত আমি কেটে আপনি হবে।

    মনে হলো পুলিশ চায়ের বিল টা দিয়েছিল।
    তাই খরচ পাঁচশ বরাবর।
    বাট পুলিশ কি বিল দেয় ?

    চমৎকার ছোট গল্প আপু।
    দারুন

    1. আগেই সরি চেয়ে নিচ্ছি ভাইয়া‌
      লেখার পর আজ আর পড়ে দেখা হয়নি কি লিখেছি।
      আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য

      1. সরি বলার কিছু নেই আপু। আর আমি ভুল ধরার মত কেউ না, বাংলায় কোনরকম পাশ। মুড়ালি মার্কা (যেসব বানান করতে দাঁতে দাঁত লাগে) বানান জীবনেও মনে থাকে না। পড়তে গিয়ে যেমন লাগছিল তাই বললাম।

        শুধু যদি আমার বানান কেউ ভুল ধরে সোনেলায়- আমার লিখা বন্ধ হয়ে যাবে এটা নিশ্চিত। আমার ভুল হয়, আপনার হয়েছে মিসটেক।

        শুভ কামনা সবসময়

    2. বাবু ভাই পুলিশ কিন্তু চায়ের দাম দেয় নি। ওটা মারাত্মক ভদ্রবেশী শয়তান ছিলো। কথা গুলো খুব মিষ্টি কিন্তু লোলুপ তৃষ্ণা চোখে মুখে। ব্যাটা ইবলিস।

      1. হাহাহা-
        অর্ণব ভাইজান- একদিন এক কাপ চা একজন অপরিচিত বাংলাদেশি পুলিশ খাইয়েছিল।

        ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ করাতে গিয়েছিলাম, চা খেলাম টং ঘরে- সেখানে সে বিল দিলো।

        না করিনি।

        শুভেচ্ছা ভাই।

  3. পাঁচশত টাকা তো পুলিশকে দিলেন, নিজের চায়ের দাম আরো নিশ্চয়ই পাঁচটাকা দিতে হয়েছে, তার মানে এক কাপ চা ৫০৫ টাকায় খেলেন 😀

  4. ব্যটা নীলবীচের বাচ্ছা।
    পাচশ ট্যাহার চা তো!
    খুব ট্যাস হইছে পরতে??

    আপনার লেখাটা পড়ে বেশ ইতরেমনা হলাম কেনো জানি।ইতরামীর জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
    ক্ষমা করবেন।

মন্তব্য করুন