বন্য

ধনুকের মতো বেঁকে থাকা আলো-রঙের বন্যতা…

রোদের গা ছুঁয়ে ফড়িং মেলেছে ডানা,
আর আমি ম্যাপল পাতা হাতে নিয়ে বসে আছি রোদ লাগাবো বলে।
ঝর্ণার জলের ভেতর পানকৌড়ির মতো কেটেছি সাঁতার,
ডুবেছিলাম আমার ভেতরের “আমি”র মধ্যে।
তারপর ছুঁয়ে নিয়ে এসেছি এক আঁজলা প্রশান্তি, শুধু তোমাকে দেবো বলে।

তুমি জানো ধানের শিসে কীভাবে রোদ্দুর খেলা করে, আবার বৃষ্টিজল ভিঁজিয়ে দেয়!
ঠিক ওখানেই উপুড় করে ঢেকে রেখে এসেছি আমার নীরবতা,
তুমি ঢাকনা সরিয়ে নিলেই একশ আটটা প্রজাপতি নেচে উঠবে
তখন স্পর্শ করে দেখো, কী তীব্র বিচ্ছুরণ কচি আলোর ঝলকানিতে উদ্দাম হয়ে ওঠে!
ওই উদ্দামতা মানেই আমি।
তখন যদি বন্য হই,
দোষ দিওনা আমায়।

সেন্ট জোসেফ হাসপাতাল, হ্যামিল্টন, কানাডা
১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ইং।

মোট পড়েছেনঃ ৭৭১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৪টি মন্তব্য

  1. ভেতরের আমিতে ডুবতে ডুবতে বন্যতায় পেয় বসলে
    দোষ হয় না,
    আপনার বন্যতা হাসপাতালকেও ছাড় দেয়নি!
    সেই একশত আটটি না হোক কিছু প্রজাপতি আমরাও চাই।

    1. ক্যান্সার বিভাগে গিয়ে আনন্দের কথা না ভাবলে যে বেঁচে থেকেও মৃত্যু এসে যাবে। আর জানেনই তো জীবনকে আমি কতোটা ভালোবাসি! 😀

  2. ডুবেছিলাম আমার ভেতরের “আমি”র মধ্যে।
    তারপর ছুঁয়ে নিয়ে এসেছি এক আঁজলা প্রশান্তি, শুধু তোমাকে দেবো বলে।

    সুন্দর মনের আসক্তি। ভাল লাগলো আপু।

  3. ;? এক বছর ধরে অপেক্ষা করলে? নাকি এর মধ্যেই বন্যতা টন্যতা সব শেস? সেন্সর্ড না হইলে কিছুমিছু এখানেও দিও। প্রজাপতি না হোক, অন্তত প্রজাপতির পাখনা জুটলেও চলবে।
    বাচ্চা বাচ্চা লেখা 🙂

    1. মনটা তো বাচ্চাই গো।
      প্রজাপতির পেছনে সমস্ত শৈশব কাটিয়ে দিলাম।
      তাই মনটা সেই প্রজাপতি হয়েই আছে।

      অনেক ভালো থেকো আপু। 🙂

  4. ভেতরের আমিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছিস তুই,। বুঝা কি এতই সহজ। ঢাকনা সরালেই কি চেনা যাবে এই আমিকে? যদি না সে নিজে নিজেই জানায়,

    একজের লেখায় পেলাক রোদকে আর একজনের লেখায় বৃষ্টি। রোদ বৃষ্টির মেলা বসেছে নাকি?

    1. রোদ-বৃষ্টির খেলায় মেতে ওঠার নামই তো জীবন নানা।
      আলো ছড়াও, বৃষ্টি ঝরাও আর ঘুরে বেড়াও।
      ভাবও দেখাও। :ড

      ভালো থেকো নানা।

  5. রঙধনুর একমুঠো রোদ ছুঁয়ে তা ঢেকে দিও নীল আঁচল দিয়ে
    প্রজাপতি, ময়ূরী নেচে উঠবে কয়েকশো।
    এতোদিন আঁচলে বেঁধে রেখেছিলে এক আজল প্রশান্তি! বড় বেশি অপেক্ষা।

    বেশ ভাল লেগেছে আপু।

মন্তব্য করুন