ফেইসবুক বনাম ব্লগ

আসুন আজ ফেইসবুক আর ব্লগের কিছু পার্থক্য ও বৈশিষ্ট দেখে সিদ্ধান্ত নেই কে কোন পথ বেছে নেবো। 🙂

 

ফেইসবুক

ব্লগ

১। আপনার মানসিক, শারীরিক অবস্থা স্ট্যাটাস পড়ে জানা যায়। ব্লগে বর্তমান অবস্থা জানার কোনো সুযোগ নেই।
২। ছবি আপলোড করে সবাইকে নিজের চেহারা দেখানো যায়। চেহারা দেখানোর সুযোগ নাই।
৩। চেহারা ভালো হলে লাইক কমেন্টের ছড়াছড়ি। চেহারা মুখ্য নয়, কি লিখলেন সেটাই মুখ্য।
৪। ফেসবুকে আপনি ইচ্ছা করলে হাজার হাজার বন্ধু বানাতে পারেন। ব্লগে বন্ধু হবে, তবে বহু কষ্টে ২০-৩০ জন।
৫। ফেইসবুকের নেশায় আসক্ত হয়ে আপনি বেহুঁশ হয়ে রাস্তায় উষ্টা খেতে পারেন। ব্লগের নেশায় আসক্ত হয়ে আপনি খারাপ ছাত্র থেকে লেখক/কবি/সাহিত্যিক হতে পারবেন।
৬। যার তার সাথে চ্যাট করে সারা দিন-রাত পার করা যায়। চ্যাটের সুযোগ নাই।
৭। ফেইসবুকে পোস্ট দিলে নিমিষেই শ’খানেক লাইক কমেন্ট। ব্লগে পোস্ট দিলে ১০ দিনেও ১০ টা কমেন্ট পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
৮। LOL, GF, BF, HBD শব্দগুলোর স্রষ্টা ফেইসবুক। ব্লগে এমন কোনো শব্দের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা নেই।
৯। ফেক আইডি বানিয়ে আপনার কাছের লোকই আপনার উপর নজর রাখছে। ব্লগে ছদ্মনাম দিয়ে আইডি বানিয়ে লেখা যায়।
১০। ফেইক আইডিকে খারাপ নজরে দেখা হয়। ছদ্ম আইডি ভালো নজরে দেখা হয়।
১১। মিথ্যা বলা যায়। যেমন, পুকুরপাড়ে বসে বলা যায় সী বীচে আছি। মিথ্যে করে কিছু লিখলে সেটা সাহিত্য।
১২। বউয়ের/বরের কাছে ধরা খাওয়ার চান্স আছে। ধরা খাবার কোনো চান্সই নেই।
১৩। দিনে ইচ্ছামত যতবার খুশি স্ট্যাটাস দেয়া যায় ২৪ ঘন্টায় মাত্র ১টি পোস্ট দেয়া যায়। 🙁
১৪। ব্লক করার সুব্যবস্থা আছে। ব্লকের সুযোগ নেইঃ(শত্রুর মুখ আপনাকে দেখতেই হবে।)
১৫। কত কত স্টিকার আছে। মাত্র কয়েকটা স্টিকার। (আর বাড়ে না ;( )
১৬। ফেসবুক থেকে ব্লগে কমেন্ট করা যায়। ব্লগ থেকে ফেইসবুকে কমেন্ট করা যায় না।
১৭। যেমন খুশি বানানে স্ট্যাটাসে লিখা যায়। বানান ভুল যত কম তত ভালো।
১৮। স্ট্যাটাস বা ছবি কাস্টোমাইজড করা যায় যাতে সবাই দেখতে না পারে। যা লিখি বন্ধু/শত্রু সবাই দেখতে পায়।
১৯। ইন্টারনেট দিয়ে ফেইসবুক চালানো হয়। ব্লগ দিয়া ইন্টারনেট চালানো হয়।
২০। ভিডিও কল দেয়া যায়। না না না।

 

…… আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। আপনি নিয়েছেন তো? \|/

মোট পড়েছেনঃ ১,১৩৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৪৫টি মন্তব্য

      1. আমি কতবার আফনেরে দ্যাকতে চাইলাম কিন্ত ভ্যিডু পাই না। ভিড্যু ছাড়া ব্লগ দিয়া আমি কি করুম? @ প্রহেলিকা

        আর হাগার হাগার লাইক ছাড়া গেবনে কি কিচ্ছু আছে @ ছাইরাছ হেলাল ভাই?

    1. ঠিহই কইছুইন। আমি বিশেষভাবে অজ্ঞ এই ফেইসবুক আর ব্লগ নিয়া। কেউ কয় ফেইসবুকে থাক, কেউ কয় ব্লগে আয়। যামু কই? মাথা গেলো আউলাইয়া। হেরপর সিদ্ধান্ত নিলাম দুইটাই চালামু। দেখি কে কি কয়। @ ছাইরাছ হেলাল ভাই।

  1. হা হা হা
    হাসলাম আর হাসলাম। মজার এপিক পোষ্ট হৈছে এইডা। একশতে একশো!

    মিথ্যা বলা যায়। যেমন, পুকুরপাড়ে বসে বলা যায় সী বীচে আছি।
    মিথ্যে করে কিছু লিখলে সেটা সাহিত্য।

    দারুণ!!

    আপনি যে এতো বিচক্ষণ তা জানতাম না। সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলছি। ব্লগ বাদ এবার বুকামু।

      1. ঠিকানা দিমু না, ব্লগ বাদ এখন থাইকা ফেবুতে ফেবুগিরি করুম। দশ পনেরোটা খুইলা লই। আপনারা মাথায় এই বুদ্ধি এতো দেরিতে কেন আইলো !

      2. আমিও কিন্ত ফেইসবুক ছাড়ি নাই। ঠিকই বাইর কইরা ফালামু। কি মনে করছেন, আমার একখান মাত্র আইডি? আমিও কইলাম কমু না।

        বুদ্ধি আমার দেরিতেই আসে। কি আর করন যাইবো।

      3. সেইটাতো আমারো ধান্ধা। সাথে কয়েক হাগার ফলোয়ার।
        সেলিব্রেটি না হইলে কেউ পাত্তা দেয় না।
        পাত্তাহীন জীবন দিয়া কি করুম কন।

      4. হা হা হা, এই নাহলে বুদ্ধি। কাঁথা-বালিশ রেডিতো, এই ব্লগ তল্লাটে আর এক মুহূর্তও না। আমি গেলাম আপনারাও আসুন।
        ব্লগে কেউ ভালো না, লেখা পড়ে না, খালি পোষ্ট দেয়, পোষ্ট দিয়েই উধাও। নিজেতো মন্তব্য করেই না কেউ করলে ধন্যবাদও দেয় না।

      5. আপনি গিয়ে আমার জন্য সীট রাখেন। এখানে কেউ আপন না। ঠিকই বলেছেন কমেন্ট করে না, লাইকের তো ব্যবস্থাই নাই। ৭ নং পয়েন্টে তো এটাই লিখেছি। তাইলে ক্যান ব্লগে থাকুম?

    1. প্রতিভার কথা আর কইয়েন না। আপনাদের কাছে আমি নিতান্তই বাচ্চা।
      সবার লেখা দেখছি আর শিখছি 🙂
      আরে আরে ডিলিট করবেন ক্যান? আমিতো দুই নৌকার যাত্রী।
      আপনিতো সিদ্ধান্ত নিলেন না কই থাকবেন?

  2. হাসতে হাসতে আমি শেষ। মানুষকে সবাই হাসাতে পারেনা। যারা খুব ট্যালেন্ট তাদের এই ক্ষমতা থাকে।
    নিহারীকা আপা আমারে একটুসখানি ট্যালেন্টি বেরেইন ধার দিবেন? :D) :D)

    আজ মরেই যাবো দেখছি হাসতে হাসতে। :D) :D)

    1. কি যে কন আফ, শরমে মইরা যাইতেছি।
      কাল রাতে ঘুমে টুপতে টুপতে এইটা লিখছি। মাথায় অবশ্য ছিলো বেশ আগে থেকেই কিন্ত উপস্থাপন কিভাবে করবো সেটা ভাবছিলাম। তবে শুরু এবং শেষের অংশটি আরো মজাদার করবো ভেবেছিলাম কিন্ত ঘুম ব্যাটায় আর করতে দিলো না।

      আমার বেরেনের কতা আর কইয়েন না। এইটা হইলো গিয়া চরম ফাঁকিবাজ বেরেন। নিলে আপ্নের ভালা বেরেনরে ফুসলায়া ফাঁকিবাজ বানায়া দিবো।

      আপা, হাসেন হাসেন। আজকাল আমরাতো হাসতেই ভুলে গিয়েছি।
      একটু হাসি যে কত প্রয়োজন বেঁচে থাকবার জন্য……..

      1. ঢুলতে ঢুলতে এমন লেখা যদি লিখতে পারেন, তাহলেই বোঝেন আপনার ব্রেন কত্তো ট্যালেন্ট!
        দিবেন না বইল্যা দিলেই হয় সোজাভাবে। এইভাবে ফিরাইয়া দিতে আপনার একটুও কষ্ট হইলো না।
        আপনার দিল এতো নির্দয়? ;( ;(

        আপা আমার কাছে যে বস্তুটা সবসময় সব অবস্থাতেই থাকে, তার নাম হলো “হাসি।”
        আমার নানাকে জিজ্ঞাসা করবেন, উনি খুব ভালো করে জানেন কিনা আমায়।

        হাসুন এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকুন। ইহা আমার একান্ত নিজস্ব শ্লোগান। 😀

      2. এখন তো নানা-নাত্নীর কথোপকথন কমই হয়। নাত্নীর থেকে নানা ডাকের চেয়ে বুইড়্যা ডাকটা বেশী পছন্দ নাত্নীর নানার। 😀

  3. হাহাহা… দারুণ লিখেছেন। ফেসবুকে লেখালেখি তো করা যায় , পাশাপাশি প্রাণ সখী, বন্ধু বান্ধবী দের মিষ্টি মধুর চ্যাটও করা যায়, এ তো একেবারে এক টিকিটে দুই ছবি! আমাদের আবার এক টিকিটে দুই ছবি দেখার অভ্যাস আছে কিনা!

  4. হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ। সকালে দেখে আগে শেয়ার দিলাম। মুইও লাইক চা লাইক।
    চ্যাটিং ফ্যাটিং ছাড়া ব্লগ চলেনি :p এতো এতো ইমো নাই।শুন্যের ইমোগুলো কাজে লাগাব, তাই পারি না ;(
    ফাটিয়ে দিলেন ম্যাডাম। স্যালাম জানাই।

    1. আপা, ব্লগের উনাদের একটু বলেন না ব্লগে ফেইসবুকের মত চ্যাট, ব্লক, স্ট্যাটাস, ইমো এইসব দিতে। তাইলেইতো সবাই ব্লগমুখী হয়।
      নাইলে হুদাহুদি ফেইসবুকরে দোষ দিয়া কি লাভ?

  5. আমিতো সেই তবে থেকে ফেসবুক মুখি হয়ে বসে আছি আপু, যবে থেকে ফেসবুকে শুধু অনিয়মিত বলে অনেক কাছের এক আপু আমাকে ডিলিট করে দিলো। নাকের পানি, চোখের পানি এক করে আমি তবে থেকে পাকাপোক্ত ফেসবুকার।
    অনেক মজার হয়েছে পোস্ট।

    1. দেখো তাইলে কি বিপদ। আরে তার সাথে কথা হয়েছিলো, সে ভেবেছিলো তোমার ফেইসবুক আইডি নাকি ভুতে চালায়, সেই ভুত আবার ভয় দেখায়। তারপর কত বছর পরে দেখে এ তো ভুত না জলজ্যান্ত মানুষ!
      হু হু এবার দেখো পাক্কা ফেসবুকার হবার পেছনে তার কি বিশাল অবদান 🙂

      1. শুধু ধারণা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত? 🙂 যাই হোক আপু, আমি এখনো সেই আগের মতোই, যাই তো যাই না। কিছুদিন পর পর ডিএক্টিভেট করে ফালায় রাখি। ভালো থাকবেন।
        হুম আমিও একমত। যার যেটা ভালো লাগবে নেবে, প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবার কিছু নেই। ফেবু থেকেই সোনেলা কে পেয়েছি। পোস্টটি খুবই মজার ছিলো।

  6. ফেইজবুক আপনাকে, হতাশাগ্রস্থ করবে, আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করবে, অন্যের কাছে আপনার ব্যাক্তিগত,ব্যাক্তিত্বকে চিচিংফাক করে দিবে।
    ব্লগ এগুলোর কোনটাই করবে না।

    1. ফেসবুকে সময় নষ্ট খানিকটা হয় বৈকি তবে এন্টারটেইনমেন্টের জন্য ফেএসবুকের জুড়ি নেই। আর ৮ বছর ধরে ফেসবুক ব্যবহার করে আমিতো প্রচুর আনন্দ পেয়েছি, হতাশার “হ” ও আমাকে স্পর্শ করেনি। তাছাড়া আমি যেমন তেমনভাবেই সকলের সংগে মিশছি এখানে লুকোনোর কিছু নেই কারণ আমি খুব দেখে বেছে বন্ধু নির্বাচন করি এবং কমেন্ট ছাড়া কোন কথাবার্তা হয় না বললেই চলে। তাই ফেসবুক আমার আনন্দের জায়গা ঠিক যেমন সোনেলা ব্লগ।

  7. ব্লগ কি ? ব্লগারের কাজ কি ?
    —————————–
    আমাকে অনেকে ব্লগ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন । তারা আরো জানতে চান ব্লগারের কাজ কি ? আমি বলি ব্লগ হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক স্বাধীন মত প্রকাশের মাধ্যম বা প্লাটফর্ম । গুগলে ‘‘বাংলা ব্লগ’’ লিখে চার্চ দিলেই অনেকগুলো ব্লগের সন্ধান পাওয়া যাবে । প্রত্যেকটি ব্লগেই তাদের নিজস্ব নিয়মনীতি মেনে রেজি: এর মাধ্যমে ব্লগার হওয়া যায় । লগইন না করেও ব্লগের সব লেখা যেকোন ভিজিটর বা পাঠক পড়তে পারেন । একজন ব্লগার তার নিজস্ব মতামত, চিন্তা-গবেষণার কলাকৌশল ও ফলাফল ব্লগে পোষ্ট আকারে প্রকাশ করতে পারেন । আবার অন্যের লেখা পোষ্টে মন্তব্য, সমালোচনাও করতে পারেন । ব্লগাররা সমাজের অসঙ্গতিগুলো তাদের লেখনির মাধ্যমে ব্লগে তুলে ধরেন, সমাজের চলমান, ঘঠমান আলোচিত শিক্ষনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন । গাইতে গাইতে যেমন গায়েন তেমনি ব্লগে লিখতে লিখতেই অনেকে লেখক হয়ে গেছেন । ইতিমধ্যে শুধু ব্লগে লেখালেখি করেই অনেক ব্লগার বই প্রকাশ করে লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস পেয়েছেন ।

    এছাড়া অনেক ব্লগারের একক বই বাজারে আছে । লেখক, কবি, ছড়াকার ছাড়াও ব্লগ থেকে অনেকে সাংবাদিক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন । দেশের আর্ত-সামাজিক উন্নয়ণের জন্য ব্লগাররা অনেক ভূমিকা রাখতে পারেন । ব্লগাররা নিজেরা সুসংগঠিত থাকতে ভালবাসেন এবং তারা পরস্পরের প্রতি অনেক বেশী আন্তরিক । পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্লগাররা নিজেদেরেকে একই পরিবারের সদস্য মনে করেন । বর্তমানে অনেক বড় মাপের লেখক, গবেষক, কবি-সাহিত্যিক, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, আলেম-ওলামা, প্রবাসী ব্লগে লিখে নিজেদেরকে ব্লগার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন । আমি মনে করি- ‘‘ব্লগাররা হচ্ছে জাতির জন্য জাগ্রত বিবেক’’ ।

    1. অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ব্লগ সম্পর্কে একটি পরিস্কার ধারণা দেবার জন্য। তবে একেকজনের আগ্রহ একেক রকম। তাই কেউ ব্লগে শুধু শখে লিখেন মানে লেখক/সাংবাদিক হবার বা বই প্রকাশ ইচ্ছে যাদের একেবারেই নেই আবার অনেকে এ ব্যাপারে খুব সিরিয়াস। আবার অনেকে ফেইসবুকেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। অনেকে আবার ফেইসবুককে ব্লগের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন। এসব শুনে শুনেই এ পোস্টটি দেবার কথা মাথায় আসে।

      ভাল থাকবেন। শুভেচ্ছা।

মন্তব্য করুন