অর্ধশ্বাসে নিঃস্ব নিঃশ্বাস

অর্ধশ্বাসে নিঃস্ব নিঃশ্বাস...
অর্ধশ্বাসে নিঃস্ব নিঃশ্বাস…

জানো কি আমার অন্ধত্বের ভেতরে চেতনার দৃষ্টি বাস করে?
আলোর রোদ কিংবা রোদের আলো নেই, তবু দেখতে পারতাম তোমাকে।
অন্ধকারের ঘ্রাণ পেয়ে গেলে বুঝে যেতাম, এই এখুনি চলে যাবে তুমি
আর আমার বিষাদগ্রস্ত সময় রাজত্ব করতে উঠে দাঁড়াবে তীক্ষ্ণ তীর-ধনুক হাতে
পরাজিত যোদ্ধা হবার থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করে যেতে থাকবো আমি,
ব্যর্থতাকে হারিয়ে দিয়ে তোমার কাছে যাবো।
বারবার, বারবার, অজস্রবার প্রতিরোধ—আহ! এ কি শাস্তি!! আহ, অর্ধশ্বাসে নিঃস্ব নিঃশ্বাস!!!
জানো কি চেতনার দৃষ্টি নিখোঁজ হয়ে যেতো তুমি চলে গেলেই!
চোখের জলে আগুণ নেভেনা,
আবার মনের ভেতরকার আগুণ দাউদাউ করে জ্বলে উঠে পোড়াতো
আমাকেই
এতো শাস্তি মেনে নিয়েও ভাবতাম তুমি তো আছো,
আসবে আগামীকালই; (কতো আগামীকাল গতকালের গহবরে নির্বাসিত হয়েছে),
জানো কি এখন আমি আর গতকাল নিয়ে ভাবিনা!

**প্রহেলিকার কবিতা থেকে নকল করিয়া ইহাকে সৃষ্টি করিয়াছি। কেহ যদি কোনো দোষ ধরিতে চাহেন এই লেখায়, সকলকে অনুরোধ প্রহেলিকাকেই গিয়া কহিয়েন। আমি সম্পূর্ণরূপে নির্দোষ।**  

হ্যামিল্টন, কানাডা
২৩ মার্চ, ২০১৭ ইং।

মোট পড়েছেনঃ ৭৩৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৬টি মন্তব্য

  1. ব্যথার সুরে গাঁথা কবিতা, সেই সুর ছড়িয়ে পড়েছে আদ্যপান্তে।
    বরাবরের মতোই আপনার লেখা পড়ে বেশ তৃপ্তি পাই, লেখার নূতনত্ব দেখে বেশ অবাকও হই,।

    শিরোনাম নিয়ে কিছু বলার আছে। আমার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিরোনামের মাঝে এক ধরণের দুর্বলতা কাজ করে। সেদিকে আপনাকেই দেখলাম যথার্থ শিরোনামে উপস্থাপনে। কিভাবে যেন শিরোনামের সার্থকতা লেখার মাঝে টেনে দিতে পারেন সুন্দর করে। হয়তো বলবেন প্রশংসা করছি আসলেই সত্যিটাই অবলীলায় প্রকাশ করলাম।

    1. কারো কারো লেখা পড়লে মনে হয় ইস যদি আমি পারতাম অমন করে লিখতে! আর এই আফসোস এমনভাবে জাঁকিয়ে বসে অনুভূতিতে তখন একটা শব্দও আর লিখতে ইচ্ছে করেনা। ওই আফসোসের যন্ত্রণা সয়ে নেয়া বড্ড কঠিন। অনেক নিয়েছি। আজ ভাবলাম গালমন্দ যা কিছু দিন না কেন, যেমন ইচ্ছে হয় আমি লিখবোই। তারপর যা কিছু হয় দেখা যাবে। নিয়েই ফেললাম রিস্ক। এখন সমস্যা হলো আপনার “রূপান্তর” তা-ও জ্বালাচ্ছে। কেন অমন করে লিখতে পারিনা আমি? 🙁

      কি আর করা! “নগদ যা পাই” আর কি!
      প্রশংসা পেয়ে হস্তির মতো পেট ফুলিয়া উঠিয়াছে। ইহার পর ব্যাঙের মতো ফাটিয়া না গেলেই হয়! 🙂

  2. এগুলোকে নকল বলে না, ভাবছি এবার আপনার কাছেই কবিতার জাল কিভাবে বুনতে হয় সেটা শিখাবো। ছাত্র হিসেবে অংকে কাঁচা হলেও বাংলাতে এতো খারাপ না।

    1. সত্যি বলছি আমি পালাবো। এভাবে ভয় দেখাতে নেই।
      অঙ্ক এবং ইঙ্গরেজি ভালো জানি, মায়নাসে মায়নাসে প্লাস(ইয়েস), প্লাসে মায়নাসে মায়নাস(নো), প্লাসে প্লাসে প্লাস(ভেরি গুড)।
      বাংলায় একেবারে ফেল। কিভাবে কিভাবে জানি ৩৩ পাইয়া পাশ করিয়াছি। তা নইলে তো সকল বিষয়ে পাশ করিয়াও কৃতকার্য হইতে পারিতাম না। 😀

      1. শুনুন খারাপ কে আর ভালো কে সেটা দেখে এসেছি। “তুই সমগ্র – (কবিতা না)” কাকে কবিতা লেখা শেখাতে যাচ্ছেন। আর আপনি বলছেন আমি শেখাবো আপনাকে? আপনাকে আজ থেকে আমি কবিস্যার বলে সম্বোধন করে শুরু করেছি। এবং খুবই সিরিয়াস হয়ে কিন্তু! এবারে বুঝে নিন।

  3. কি ভালো নকল করতে জানেন আপা!
    নকল করে আবার নিজের মত গুছিয়ে লেখা কি সহজ কথা?

    তবে ব্যাপারটা কিন্ত দারুন হয়েছে। আজ থেকে আমিও চান্সে থাকুম। 🙂

    1. নীহারিকা আপা আমার যতো লেখা সবই নকল।
      তাইতো কবিতা শেখার জন্য শিক্ষক নির্বাচনও করেছি।

      অবশ্য চান্সে থাকুন বলবো না, বরং চান্সটা প্রয়োগ করে ফেলুন। তবে আমার কাছ থেকে নয়। ধরা খাবেন কনফার্ম। 😀

  4. এক বছর আগে আপনার কাছে থিকা কবিতা লেখা শিখবার চাইসিলাম। আপনি কথাও দিসিলেন। এখন জবাবদিহি করেন। কুইক!!!

    ম্যালাদিন পরে আসছি। রেগে আছি কিন্ত!!! :@ :@

    1. যদি আসে রাগ
      খান লালশাক
      এসে যাবে হাসি
      রাগ হবে বাসি। 😀

      ——এভাবে কবিতা লিখতে হয়। শিখিয়ে দিলাম। এখন আমাকে আপনার মতো গল্প লেখা শিখিয়ে দিন।

      1. “যদি আসে রাগ
        খান লালশাক
        এসে যাবে হাসি
        রাগ হবে বাসি।”—আপনি কবিতা শিখতে চেয়েছেন। তাই এই চারলাইন লিখে শেখানোর চেষ্টা করলাম। আর আপনি পাশও করে গেছেন। আজ কবিতা লিখে পোষ্ট করে দিলেন। 🙂

    1. আপনি তো কুবিতায় ডক্টরেট উপাধি পাইয়া ফেলেছেন। বাপ্রে মন্তব্য কি করলেন এইডা?
      কতো কষ্ট কইরা নকল করলাম। তারপর লেখলাম। আর আপনে কিনা তিনলাইন দিয়া আমার কেরোসিনের বাত্তি নিভাইয়া দিলেন? :@

      কুবিরাজ ভাই কিভাবে পারলেন আমার দাঁতি ইমু 😀 ‘র ভেতর গ্রহণ লাগাইতে? ;(

  5. আমিও নকল করি তোমাকে ও প্রহেলিকাকে😝 আমিও নির্দোশ।
    ও আপু, এই কবিতাটা মার জন্য লিখেছো? কোনো মন্তব্য করব না। শুধু পড়লাম আর সেভ করলাম। (3 -{@

    1. মৌনতা আপু আমায় তুমি নকল করো? একেবারে ফেল করবে বলে দিলাম। নকল করতে হয় যাঁরা ভালো লেখেন।
      বড্ড বোকা তুমি শান্তসুন্দরী। শোনো ভালোভাবে নকল করো(নামগুলো বুঝে নিও), আর আমাকেও একটু-আধটু সাপ্লাই দিও কিন্তু। 😀

      তোমায় নিয়ে লিখবো সেদিন, যেদিন খুব এলোমেলো থাকবো
      আমার শব্দেরা যুদ্ধ করবে একে অন্যের সাথে, ভাবছো কেন যুদ্ধ!
      তোমার উপমাতে যুক্ত হবার জন্য, বুঝেছো বোকা মেয়ে?
      তোমায়, শুধু তোমায় একদিন কবিতা শোনাবো; অবশ্যই আমার লেখা কবিতা হবে
      যেদিন আমি খুউব শান্ত থাকবো, স্তব্ধ জলের মতো শব্দহীন রাত্রির মতো
      সেদিন একটি কবিতা লিখবো। কবিতার নাম দেবো “শান্তসুন্দরী।”
      তারপর লিখবো,

      তোমার সাথে এই যে চেনা, সহজ চেনা নয়
      আমার কাছে লুকিয়ে আছে তোমার পরিচয়!
      জানতে চাইলে বলবোনা তো
      যতো ইচ্ছে ভাবতে থাকো
      শুধু তুমি জেনে রাখো এ সহজ চেনা নয়
      তবে তোমার কাছেই শুধু আছে আমার পরিচয়। ———কি খুশী? -{@ (3

  6. আমার চেতনা অন্ধকারে ভয়েই মরে গেছে। কিচ্ছু দেখেনা, শোনেনা। চাওয়া পাওয়া নেই, তাই গত কিংবা আগামীকাল বলেও কিছু নেই।
    নকল মনেহয় ছোটবেলা থেকেই প্র্যাকটিস করছো নইলে এতো ঝানু হয় ক্যাম্নে!
    খুব সুন্দর। কোন কীবোর্ডে টাইপ করো খুকি?

    1. তাইতো তোমার নাম দিয়েছি তিলোত্তমা। শূন্য আসলে মানায়না তোমাকে।
      লিখেছি যদিও, আমি শুধু আজ এই এখন-এ বিশ্বাসী। “এক সেকেন্ডের নাই ভরসা”—প্রতিটি সেকেন্ডকে তাই হাসি আর গানে ভরিয়ে রাখি। হয়তো এ কারণেই শত বাধা-বিপত্তি পার হয়ে যেতে পারি।

      সাধে কি আর বলি তুমি আমাকে খুব বোঝো! শোনো আমার জীবনের নকল কবিতা
      স্বাধীনতা তুমি খোলা জানালা
      ঠান্ডা শীতল হাওয়া
      স্বাধীনতা তুমি নীল আকাশে
      পাখীদের উড়ে যাওয়া।——-আমার শোভনদা দেখে বলেছিলো ‘তুই কি জানিস “স্বাধীনতা তুমি” কবিতাটি কার লেখা?’ বলেছিলাম কবি শামসুর রাহমানের। বাপি আবৃত্তি শিখিয়েছিলো, তারপর আমি এই চারটি লাইন লিখেছিলাম ক্লাশ ফোরে থাকতে। এখনও ক্ষ্যাপায় শোভনদা। খাতাটা দেখেছিলো ১৯৮৫ সালে। দুঃখে পুরো খাতা আগুণে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। তখন বুঝেছিলাম হাস্যকর লেখা, কিন্তু শৈশব স্মৃতি ধরে রাখার জন্য কাটিনি লেখাটা। পুড়িয়ে দেবার পর সেদিন আর খাইনি কিছু। 😀

      আমি অবাক হইয়া গেলাম মনু ক্যাম্নে বুঝলা তুমি এইডা? ;?
      যাহা হউক এইটার জন্য তোমারে ভালোবাসা সহিত এই ফুলখানা গিফটো করিলাম। -{@

    1. ভাইয়া আমি আবার ঠিক এই চলন্ত সময়ে বিশ্বাসী।
      প্রেম এমন এক আবেগ, যা সময়ের সাথে সাথে বদলায়।
      টিনএজ থেকে চল্লিশোর্ধ্ব ভালোবাসা থাকেই কিন্তু আবেগের ধরণটা পালটে যায়।

      কেমন আছে শরীর এখন?

  7. এত শাস্তি মেনে নিয়েও ভাবতাম তুমি তো আছো,
    আসবে আগামিকালই..,
    এই আগামিকাল আর কখনই আসেনি, হঁয়তো আসবেও না,,তারপর ও আপেক্ষায় থাকি ।
    নকল টকল বুঝিনা তবে প্রহেলিকা বা তুমি শব্দচয়নে কেউ কারো চেয়ে কম না।

    1. মিষ্টি আপু অপেক্ষা করলে না আসবে। তাই আগামীকাল এলো না কি এলো না ভাবিনা।
      মান্না দে’র এই গানটা শুনেছো? “জীবনে কি পাবোনা, ভুলেছি সে ভাবনা। সামনে যা দেখি, জানিনা সে কি আসল কি নকল সোনা!” আমার খুব প্রিয় একটা গান। https://www.youtube.com/watch?v=0au66smt4F0

      প্রহেলিকার তুলনা প্রহেলিকা নিজেই।

      মিষ্টি আপু মিষ্টি মিষ্টি ভালোবাসা তোমায়। ভালো থেকো। -{@

মন্তব্য করুন