ক্রুশে বিদ্ধতা

ঘুঘু ডাকা ভোর, শেষ বিকেলের কুহুতান, গ্রীষ্মের নিষ্প্রভ নক্ষত্র, উত্তাল ঝোড়ো হাওয়া, রূপোর জ্যোৎস্না সবই আছে যেমন ছিল, চারণভূমির ঝর্ণাটিও। শিশির-ভোরের রোদ্দুর, নিঃশব্দ ডানায় দ্রুত উড়ে যাওয়া বিভ্রান্তির প্রজাপতি, ঘুম জাগা ফুল, জেগে-ওঠা পাখিদের কুজন, কাস্তের কানাকানি, ক্রুশ বেঁধা যীশুমূর্তি,

শুধু সানন্দের ভোর-আনন্দে নেই ফিংয়ে পাখিটি, সকালেই দুপুর-ক্লান্তি, খুঁজছে নিভৃত নীরবতার ছায়া, নেই কবিতাগুচ্ছের ওড়াউড়ি, সুনীল অপরাজিতা বা দোপাটি ফুলেরা অপেক্ষার চোখে আলো ফেলছে বনদ্বীপের অন্তরালে!

সময়ের যাঁতাকলের প্রকাণ্ড যাঁতা পাথরের ঘর্ষণ শব্দ ঠিক তেমন ই আছে নিরীহ অশরীরীর বেশে, সুদীর্ঘ সেই সময়কাহন অস্তরাগ ভুলেছে মায়া, নিয়মের বেড়াজালে।

মোট পড়েছেনঃ ৭৯০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৮টি মন্তব্য

  1. ঘুঘু ডাকা দুপুর শুনেছি, ভোর এই প্রথম শুনলাম।
    আপনার ফিঙে পাখী মনে হয় বড়ো বেশী অভিমানী। এত্তো জ্বালায়! এই না হলে প্রেম! 😀
    মন খারাপ করবেন না, চলে আসবে উড়তে উড়তে। এবারে এলে খাঁচায় আটকে রাখবেন। বুঝেছেন কুবিরাজ ভাই? 😀

    1. শুনবেন শুনবেন, কত্ত কী শুনবেন! সজনার যে অনেক বাকী!
      ঘুঘুরা শুধু দুপুরেই ডাকে না, আরও অনেক সময়ই ডাকে, কান পাতুন (যদি তা থাকে),
      অনেক পাখিরাই জ্বালায়, আজকাল আর জ্বালাতে প্রেম-ফ্রেম লাগে না,
      হাঁটাপথে নিত্ত নূতন কত্ত পাখি, দেখতে ভালই লাগে,

  2. “সবই আছে যেমন ছিল”, খুবই ভালো কথা। এরপর তো “শুধু তুমি নাই” কথা আসার কথা। তা না লিখে উনি লিখলেন, “সকালেই দুপুর-ক্লান্তি”। বাহ, তাহলে সন্ধে বা রাতে কিসের ক্লান্তি পড়বো!!
    বেশী বোঝা ভালুনা।

    1. এই না হলে কুবি! কিসের পর কী সব বুঝে যাচ্ছে,
      আপনার হবে হবে/হয়েছে, দ্রুত কাজে নেমে পড়ুন। ক্লান্তির সাথে দেখা হলে বুঝতে পারবেন
      কোন্‌টার পর কোন্‌টা আসে,
      আচ্ছা, না বুঝেই এই অবস্থা!

  3. দারুন অনুভূতি!
    “গ্রীষ্মের নিষ্প্রভ নক্ষত্র, উত্তাল ঝোড়ো হাওয়া, রূপোর জ্যোৎস্না সবই আছে যেমন ছিল, চারণভূমির ঝর্ণাটিও” –শিহরিত করে যায় এমন কয়েক জিনিষ এক টানে বলে গেলেন। পড়তে পড়তেই যেন চোখের সামনে চলে আসছিল স্মৃতি থেকে।

মন্তব্য করুন