উত্তর এবং প্রত্যুত্তর : তিরি এবং অহম : অষ্টবিংশ ভাগ

বন্ধু মানেই এলিয়ে দেয়া নিরাপত্তার নি:শ্বাস…
বন্ধু মানেই এলিয়ে দেয়া নিরাপত্তার নি:শ্বাস…


পঁয়ষট্টি : অহমের প্রতি

উফ!তুই আজকাল বড়ো অসহ্য এবং বিরক্তিকর হয়ে উঠেছিস। একই কথা ঘ্যানঘ্যান করে যাচ্ছিস। ঠিক ভাঙ্গা রেকর্ডের মতো। আমি জানিনা মারকাট তোকে কিভাবে সয়ে নিয়ে যাচ্ছে এতোগুলো বছর। আমি যদি তোর বস হতাম, তাহলে কবেই যে তোকে চাকরী থেকে ফায়ার করতাম! শোন কাজ কর মন দিয়ে। অনেক ছুটি নিয়েছিস। না করেও তো লাভ নেই, আবারও ছুটি নিবি। সে জানি। তাই যতো পারিস তোর বসকে খুশীতে রাখ। তা নইলে ফিরে গিয়ে দেখবি চাকরী গেছে।

ফুলকুঁড়ির প্রেমিকের কথা না ভেবে তোর নিজের কথা ভাব। পিউ এখনও আছে। এরপর ও চলে গেলে আর সম্ভব না। বুঝলি ছাগল? ভালো আছি।

তোর তিরি

ছেষট্টি : তিরির প্রতি

আজ মারকাটের জন্মদিন গেলো। সকালে অফিসে এসেই আমার খোঁজ নেয়। কিন্তু না পেয়ে মেজাজ মনে হয় বিগড়ে গেলো। তার নিজের চেম্বারে এসে দেখে ফুল। জীবনে কখনো মনে হয় ফুল পায়নি, পাবার কথাও না যা তার স্বভাব! ভ্রূ দুটো এক জায়গায় এনে, নাকটা কুঁচকে যেভাবে চাইলো আমার দিকে মনে হলো পারলে আমাকে গিলেই খায়। বললাম হ্যাপি বার্থ ডে। আমায় জিজ্ঞাসা করলো কার, মারকাটের নাকি? থমকে গেলাম। নরমাল টেম্পারেচারে থেকেও মনে হচ্ছিলো দেশের পঞ্চাশ ডিগ্রীতে আছি। বুঝেছিস অবস্থা? মারকাট মানে? বুঝিনি মারকাট কে? জিজ্ঞাসা করলো কেক কোথায়? অনেক হাসলাম দুজনেই। অফিসের সকলেই এলো, এই অফিসে এমন অনুষ্ঠান প্রথম হলো। বেশ কাটলো রে।

শোন বাসায় ফিরে এসে রান্না করেছি তোর প্রিয় সর্ষে ইলিশ। জানিস কে শিখিয়ে দিয়েছে? তোর পিউ। জানিয়ে দিস মন্দ হয়নি রান্না। আরোও কিছু রেসিপি যেনো পাঠায়।

তোর অহম

সাতষট্টি : অহমের প্রতি

ওরে রে রে এত্তো এত্তো কিছু! মারকাট বেচারার আসল নামটা কি বল তো আমায়? তা তখন একটা ফোন দিসনি কেন? আমিও তাহলে উইশ করতাম। তবে আসলেই মানুষটা সত্যি ভালো। আমরা শুধু বলি ওসব দেশে শুধু স্বার্থ, কাজ আগে, আবেগ নেই আমাদের মতো। তোর মারকাট আমার সেসব ভুল ধারণা ভেঙ্গে দিয়েছে। শুধু ভেবে দেখ আমরা যদি আমাদের বসের নামকে নিয়ে মজা করতাম, চাকরী শুধু যেতোই না, আরোও অনেক ক্ষতি হবার সম্ভাবনাও থাকতো। মারকাটকে বলিস আমি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আর চিঠির সাথে কার্ডটা দিয়ে দিস ওকে।

তলে তলে আর কতো কিছু যে দেখবো। ঠিক আছে পিউকে বলবো তোকে রেসিপি পাঠাতে। একটা কথা বল তো চিঠি লিখিস নাকি ওকে? নাকি ফোন হয় রোজ? ওহো বলে নেই আজ প্রিয় বিশাল এক সারপ্রাইজ দিয়েছে আমায়। মনে আছে আমাদের সেই আড্ডার কেন্টিনের কথা? বিকেলে ফিরেই বলে রেডি হতে চায়েনিজ রেষ্টুরেন্টে যাবে। বললাম আমার ইচ্ছে নেই, কিছুতেই মানলো না। ওর অভিনয় তো জানিস, বেশ একটা অভিমান সাজিয়ে বসে রইলো। ওমা গাড়ী দেখছি অন্যদিকে যাচ্ছে, বললাম কোথায় যাচ্ছি আমরা? কতো স্মৃতির জায়গা আমাদের, গিয়ে দেখি রিনী, ওর বর প্রাঞ্জল। এই ছাগল তোকে খুব খুঁজছিলো এই চোখ। আমরা এখনও সেই একই, কিন্তু আমাদের কেন্টিনটা না বদলে গেছে।

তোর তিরি

আটষট্টি : তিরির প্রতি

আবারও ইমোশনাল ভাব দেখাচ্ছিস? যা তোকে মানায় না কিছুতেই। আরে কোথায় লাফ দিয়ে বলবি, “এ কে আমাদের মহরম ভাই না!” আচ্ছা মহরম ভাই কি এখনও আছে? থাকলে তো আমার জন্যে চা ফ্রী এখনও। ধ্যত্তের এতোবার দেশে গেলাম বেড়িয়ে আসা যেতো কিন্তু। তবে এবার এসে অনেক ঘুরবো।

আর তোর জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে পিউর সাথে আমার কোনো চিঠির যোগাযোগ হয়না, এমনকি ফোনও না। মাঝে-মধ্যে ফোনে কথা হয়। বিষয় হলি তুই। আমার কাছে জানতে চায় তুই কি পছন্দ করিস, কি না। ইত্যাদি। নাহ তুই আমায় আর বুঝিস না। কি হয়েছে রে তোর? দেখ প্রেমটা আমার আসেনা। চেষ্টায় যদি সেই আবেগ কখনো ফিরে আসে, সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। শুধু তোর জন্যে। তবে পিউর সাথে সেই সম্পর্ক আর হবেনা। কারণ নির্ভেজাল এবং শুদ্ধ একটা বন্ধুত্ত্ব যখন হয়ে যায়, প্রেম আর হয়না। সেটা পিউও জানে। আর কতোবার বলবো?

যাক মারকাটকে তোর শুভেচ্ছাবার্তাসহ কার্ডটা দিয়েছি। খুব খুশী। জানতে চাইলো তোর কথা। শোন ছুটি মঞ্জুর। তোরা মেয়েরা জানিস বড়ো যাদুকর। এ নিয়ে পরে কথা হবে। আর ছাগলী নিজের খেয়াল রাখিস। ঠিকমতো ঔষধ খেতে হয়। এখন তুই একা না।

তোর অহম

হ্যামিল্টন, কানাডা
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ইং।

উত্তর এবং প্রত্যুত্তর : তিরি এবং অহম : সপ্তবিংশ ভাগ

উত্তর এবং প্রত্যুত্তর : তিরি এবং অহম : ষষ্ঠবিংশ ভাগঃ **বিশেষ ভাগ – চমক পর্ব**
উত্তর এবং প্রত্যুত্তর : তিরি এবং অহম : পঞ্চবিংশ ভাগঃ **বিশেষ ভাগ – চমক পর্ব**
উত্তর এবং প্রত্যুত্তর : তিরি এবং অহম : চতুর্বিংশ ভাগঃ **বিশেষ ভাগ – চমক পর্ব**

মোট পড়েছেনঃ ২,২৭৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৬টি মন্তব্য

  1. মারকাটের আসল নাম কী?
    আরে! মারকাট ছেলে না মেয়ে তাইতো জানিনা। 😮
    কত্ত প্রশ্নের উত্তর যে জানতে ইচ্ছা করে গো। ততির আর কত উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়াবে গো নীলাদি? পিউকে নিয়ে অহমের মাঝে অন্যরকম কিছু কি জন্মাবে কখনো?

    1. মারকাটের আসল নাম কখনো আসেনি। তাই জানিনা। তিরি ঘুরুক, এমন অবস্থায় বেড়ালে মন ভালো থাকে। তারপর তো অনেক দায়িত্ত্ব, তখন না পারবে ঘুমাতে, না থাকবে একটু নিজের জন্যে সময়।

      দিদি অহমের যা অবস্থা এখন পর্যন্ত দেখছি, ঠিক বুঝছি না। তা কি কি জানতে চান, জিজ্ঞাসা করেই ফেলুন না। উত্তর যদি জানা থাকে তাহলে নিশ্চিত দেবো। 😀

      1. এবারে জিজ্ঞেস করলামনা (আসল কথা হইলো কী জিগামু তা ভুইলা গেছি :p)
        পরের পর্বে আর দেরি করাকরি নাই। সোজা প্রশ্ন যাবে, হুম্ম।

    1. ভাইয়ূ তখন আপনি ছিলেন না যখন চমক পর্বগুলো লিখছিলাম। তবে চিন্তা নেই, সময় কখনো না কখনো আবার আসবে।
      হুম পেছনেরগুলো পড়ে জানাবেন, তাহলে এগিয়ে নেয়ার ভাবনাটা মাথায় রাখবো।

      1. শেষ হলো। পড়লাম আর বুঝলাম এইটি একটি আড্ডার উপর নির্ভর করে লেখা।
        অনেককেই দেখলাম, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের অনেকেই অনুপস্থিত। নীতেশ দা, অরণ্য ভাইয়া, হিলিয়াম, লীলাবতি আপু এদের দেখি না অনেকদিন হল। সবাই আবার ফিরে আসবে এই আশা করি।

      2. লেখার বিষয়ে কি বলব, কখনো হেসেছি, কখনো সিরিয়ায় হয়ে বুঝার চেষ্টা করেছি আবার মাঝে মাঝে দুয়েক লাইন বারবার পড়েছি। খসড়া আপুর মতই বলতে হবে। লিখে যাও ওস্তাদ।

      3. আনিছ ভাইয়া এই ধারাবাহিকটি আসলে দুই বন্ধুর মধ্যে চিঠির আদান-প্রদান। এর মধ্যে কথোপকথনও আছে।
        বন্ধুত্ত্বকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এখানে। বন্ধুতাই মুখ্য, অন্য সব গৌণ।

        আর ব্লগের বন্ধুদের নিয়ে আসা সবাই এই ধারাবাহিকটিকে অনেক আপন করে নিয়েছেন।

      1. আগে আপনার কবিতা আবৃত্তি করেছিলো অহম। ওই যে তিরির বাসায় সোনেলার আড্ডা বসেছিলো? মনে নেই? অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় আপনি ছিলেন! 🙂

  2. অহমও পটাতে শিখে গেছে দেখে ভাল লাগলো।
    মেয়েরা যদি সত্যিই যাদু জানতো আপু!! 🙁
    ফুলটুসিটা কবে আসবে? কবে ছাগলটার কিছু গতি হবে?

    1. আরে না শিখে উপায় আছে? আজকাল না পটিয়ে কি চলা যায় আপু?
      আপু মেয়েরা অবশ্যই ভালো যাদু জানে। দেখি অহম কি বলে সামনে এই যাদু নিয়ে 😀
      ফুলটুসী কবেই চলে আসতো। মধ্যে থেমে গেলো লেখাটা।
      ছাগলটা প্রেমে পড়েছে তোমার নিশ্চিত। কাউকেই তার চোখে লাগছে না, দেখছো না? 😀 :p

  3. আমি ফুলটসীর আগমনের অপেক্ষায় আছি। এই ধারাবাহিক পড়লে মনে হয় চোখের সামনেই সব দেখতে পাচ্ছি।
    New Born Baby আমার খুব পছন্দ! সেই ছোট্টবেলা থেকেই। ক্লাস নাইন থেকেই আমি হাসপাতালে অনেক প্রসুতি ঘনিষ্ট আত্মীয়ের ডিউটি করতাম, শুধু জন্মবাচ্চাকে কাছে পাবো বলে।
    পিছনের পর্বগুলো আবার পড়ার লোভ হচ্ছিলো। কিন্তু সময় নেই, অফিস শুরু হয়ে গেছে।

    1. আপু আপনিও দেখছি আমারই মতোন! তবে আমার না খুব ভালো লাগে ওদের পায়ের আঙুলে আদর করতে।

      ফুলটুসী আসবে খুব তাড়াতাড়ি। একটু অপেক্ষা করুন। চলে এলো বলে।

  4. শুধু চিঠি দিয়ে পোষ্ট, তুমিই প্রথম আনলে সোনেলায়
    চরিত্র গুলোকে সোনেলার ব্লগারদের সাথে নিয়ে এলে একসময়।
    অপেক্ষায় থাকি ওহম তিরি কখন আসবে………

    শুভ কামনা।

    1. নানা চিঠি আমার প্রিয় বিষয়। আমি আসলেই খেয়াল করিনি চিঠির পোষ্ট আমায় দিয়ে শুরু বুঝি?
      আর সোনেলা তো আমার অনুভূতি আর আবেগের একান্ত প্রিয় একটি আশ্রয়।
      ভেবে রেখেছি অহম-তিরিকে বইমেলায় বেড়াতে নিয়ে যাবো। দেখি পারি কিনা!

      পাশে থেকো।

মন্তব্য করুন