আহ!

নিখাঁদ রাত্রি...
নিখাঁদ রাত্রি…

ভুলের ভেতর ফুল হয়ে ফোঁটার অপচেষ্টায় ব্রত
আস্ত একটি গোলমরিচ জীবন।
তবু উড়ুক্কু ডানার ভাঁজে ভাঁজে রক্তচন্দন ঘ্রাণ নিতে নির্জন নগ্নতায় সাঁতার কাটে
নি:শ্বাস; নোখের ভেতরে উঠে আসা উত্তপ্ত মূহুর্ত
শূণ্য হাত দিয়ে ধরে রাখা কথাগুলো হাসে বাঁকা ঠোঁটে।
পাওয়া হয়না কিছু;
অবোধ জ্যোৎস্না শ্বেতপদ্মের শরীরে আছড়ে পড়ে তছনছ করে
তার রাজকীয় রাজপ্রসাদ।
ওদিকে হাওয়ার তোড়ে উড়ে যায় ইতিহাসের পান্ডুলিপি
টুকরো টুকরো হয়ে ছিঁড়ে পড়ে একেকটি সবুজ পৃষ্ঠা
সূচিপত্রে নেই দিকনির্দেশনা অক্ষরের ভীড়ে পাওয়া যায়না খুঁজে একটি নাম।
‘আমি’ নামহীন, ছাদ-চারদেয়ালের ভেতর গৃহহীন।
দারুচিনি দ্বীপ ডেকে যায়,
ছুটছি—–
বুকের ভেতরের ওম ছটফট করে,
আহ!

**হঠাৎ পায়ের পাতায় আলতো ছোঁয়া কার! আমি! আমার!!!
যেনো এলাচের ঘ্রাণে ডুবে যাচ্ছে নিখাঁদ রাত্রি রোমাঞ্চকর শিহরণে।

 

হ্যামিল্টন, কানাডা
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ইং লেখাটির শুরু,
শেষ হলো আজ, এখন ১০ অক্টোবর, ২০১৫ ইং।

মোট পড়েছেনঃ ১,১০৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৮২টি মন্তব্য

  1. এলাচ ঘ্রাণের নিখাঁদ রাত্রি, আহ্‌ আহ্‌। কি শোনালে আপু? পেয়েছ নিজেকে খুঁজে? হাজার অক্ষরের ভীড়ে “আমি” কে খুঁজতে যেওনা। প্রত্যেকটা শব্দই তুমি।
    ‘আমি’ নামহীন, ছাদ-চারদেয়ালের ভেতর গৃহহীন, এভাবে আমার কথা নিয়ে নিতে পারোনা তুমি 🙁
    অনেক সুন্দর একটি লেখা।
    তবে দুস্টুমি তো আমাকে ছাড়তে চায়না, লেখাটা কি রান্না করতে করতে ভেবেছ? 🙂

    1. খুঁজে পেলে তো হতোই গো আপু। পাইনি পাইনি।
      তুমি আমায় খুঁজে এনে দাও না। 😀

      তুমি কি গো কিভাবে বুঝলে রান্না করতে করতে লাইনগুলো এসেছে? ;?

        1. আমি তোমাকে খুঁজতে গিয়ে কাকে না কাকে ধরে আনবো তার ঠিক আছে? ক্লোন হচ্ছে আজকাল খুব। তবে আমি তোমাকে চিনতে পারবো কেন যেন মনে হচ্ছে।
          কষ্ট গুলো গোলাপ বানিয়ে ফেলেছ, বুঝতে পারবো না কেন?
          গোলমরিচ, এলাচ, দারচিনি আর তাছাড়া লেখার মধ্যে লবংগ ঘ্রাণ তাই বুঝলাম রান্না করেছিলে। কবে যে পায়েশ খাবো তোমার হাতের!

        2. চলে এসো। আমি দারুণ দারুণ ভর্তা বানাই, যা কোথাও পাবেনা(নিজের ঢোল নিজেই পেটানো)। :p ঘন ক্ষীরের পায়েস। আর কি কি খেতে চাও, মেনু দাও। রেঁধে রাখবো। আজ অনেক বাজার করেছি। পটলের দোলমা করবো, পেঁপের তরকারী করবো ঘিঁ দিয়ে(এলাচ-লং-দারচিনি-তেজপাতা- আস্ত জিরা-কারি পাতা), সর্ষে দিয়ে সজনে ডাটা, ব্রকলি ভর্তা, ফুলকপি দিয়ে কাতল মাছ, চিকেনের পাতলা ঝোল রাঁধবো এই রোববারে। চলে এসো। ওহ মুসুর ডাল থাকবে মূলো দিয়ে, ভাঁজা হবে কড়কড়ে আলু ভাঁজি। 😀
          ও শুন্য আপু গো চলে এসো আজ রাতে, চলে এসো আমার সাথে 😀 -{@ (3

        3. ;( আমি সত্যি কান্তেছি, তোমারে আমি এত্তো ভালো পাই, আর তুমি কিনা আমাকে এমন কষ্ট দিচ্ছো?
          আমার মন ধরে রাখতে পারছিনা যে। 🙁
          পৃথিবীতে একজনই আছে যার মত ভর্তা কারো হাতে খাইনি, আমার বাবা।
          আমি নিশ্চিত তুমিও তার মত পারো, তুমি আমার দাদী যে 😀
          আমি শুন্য জানোতা? আজ ঠিক তোমার টেবিলের চারপাশে ঘুরঘুর করবো।

        4. আচ্ছা শোনো কখনো যদি অষ্ট্রেলিয়া যাওয়া হয়, অবশ্যই খাওয়াবো।
          আসোনা এখানে। মন-মুখ আমার এক। বিশ্বাস করবে কিনা জানিনা, মিস করি তোমাকে। কি জানি কেন!

          এই মেয়ে তুমি কি জাদু জানো আসলে? ;?
          শুন্য থেকেই শুরু হয় কিন্তু সব। তাই শুন্য আপু লাভ ইয়্যু -{@ (3

  2. চারটি দেয়াল মানেই নয়তো ঘর
    নিজের ঘরেও অনেক মানুষ পর
    কখন কিসের টানে মানুষ পায় যে খুঁজে বাঁচার মানে
    ঝাপসা চোখে দেখা এই শহর……।।
    https://www.youtube.com/watch?v=LABs6Sl_cNw

    বড় প্রিয় গান, তোমার লেখা ছুঁয়ে বৃষ্টির ছবি এঁকে যায়।

  3. যেনো এলাচের ঘ্রাণে ডুবে যাচ্ছে নিখাঁদ রাত্রি রোমাঞ্চকর শিহরণে__ এমন লাইন কেমন করে মাথায় এলো ! সুন্দর ! লেখাটি শেষ করতে দুই সপ্তাহ লেগে গেলো ! চিন্তার বিষয় ;?

    1. রিমি আপু সম্পূর্ণ লেখাটির ভেতরের দুঃখটাকে সুখে ভরানোর জন্যে ইতিতে এলাচের ঘ্রাণ মাখালাম। পায়েস পায়েস গন্ধ, আহ!
      আসলেই কি যে গেছে লেখাটির উপর দিয়ে। একবার তো মনে হয়েছিলো ডিলিট করে দেই।
      তবু যাক শেষ তো হলো রান্না। 😀

    1. নানা আমার লেখা অনেক সহজ হয়। তুমি বোঝোনি!!! 😮
      হায়রে আমার কপাল!
      শোনো আরেকবার পড়ো তাহলেই বুঝবে।
      না বুঝলে আমি তো আছি-ই। 😀

        1. তাই নাকি! 😮
          ওরে বাবা!!
          আমি ভয় পাইলাম। -:-

          আপু রে মিউজিয়ামে থাকার ব্যবস্থা করলে ভালোই কিন্তু। ১০০ বছর পর এসেও তোমায় জানতে পারবে। রাজকন্যা বলে কথা! :p 😀

  4. দারুন! ঠিক যেন লীলার মত লেখা। 🙂 🙂
    কোথায় যেন তুমি বলেছিলে তুমি বাংলা বা সাহিত্যে পড়েছ। তোমার এ লেখায় সে ঝাঁঝও আছে, তুমি জান?
    অসাধারণ লাগল। তিনটি থাম্বস আপ। (y) (y) (y)

    আগের লেখাগুলোও পড়েছি; কিন্তু মন্তব্য করা হয়নি। এখানেই আপাতত ভাল লাগা প্রকাশ করছি।
    তুমি যদি কখনও ঢাকায় আস, আমার কার্জন হলের বারান্দায় নেমন্তন্য রইল। আরও অনেকে দল বেঁধে আসলে গুম গুম করবে সে বারান্দা।
    অনেক ভাল থেকো নীলা আপু। -{@

    1. প্রতি-মন্তব্য লিখতে গিয়ে মাথা কাজ করছে না। সবুজ অরণ্য ঝাঁঝ আছে কিনা জানিনা, তবে রান্নায় পারদর্শী নই। :p
      তবে হ্যা খাওয়াতে পছন্দ করি।
      ইস কবে যে যাবো! কার্জন হলের বারান্দায় বেশ কিছু স্মৃতি আমারও আছে। কিন্তু বন্ধুটি আর পৃথিবীতেই নেই।
      তবে গান গাওয়া হয়নি ওখানে। এবার এলে গান ভালোই হবে।

      অফুরান ভালোবাসা রইলো। -{@

    1. ছবিটি এক বন্ধুর দেয়া। আমাকে দিয়েছিলো সেই ২০১০ সালে। রেখে দিয়েছিলাম।
      আজ লেখাটির সাথে মানিয়ে গেলো মনে হতেই দিলাম।
      অনেক প্রিয় একটি ছবি আমার।

      একটি ভিডিও বানিয়েছিলো এই ছবিটি দিয়ে
      https://www.youtube.com/watch?v=v9SEQGXawh8&list=PL805AF09019AD3635&index=24

  5. আমি আরও কয়েকবার পড়ে নেই। তুমি দিন দিন পঁচা হয়ে যাচ্ছ। হেলাল ভাই কি কম ছিল এখন তুমিও সেই দলে যোগ দিয়েছ। লেখ লেখ যত কঠিন করে লিখতে মন চায় লেখ। দুনিয়ার সব গরম মশলা এলাচ দারচিনি লবংগ তেজপাতা ধনে জিরা যা ইচ্ছে তাই নিয়ে লেখ। কিন্তু আমি হাল ছাড়ব না। বারবার পড়ব,,,,,,
    হুহ,,,,,,, :@

    1. হায়রে মেয়ে। শোনো লেখাটায় একজন নারীর স্বপ্ন দেখা, না-পাওয়ার আর্তি ফুঁটে উঠেছে। সবকিছু ছেড়ে একটি মেয়ে আসে তার নিজের সংসারে। কিন্তু সংসারটি কি আসলে তার নিজের? যে ঘর সে খুঁজে বেড়ায়, সে কি তা পায়? একটি মেয়ে আদর খোঁজে। কিন্তু সে পায় না আদর। বরং একটি শারীরিক বস্তু হয়ে কাটিয়ে দেয় তার জীবন। তবে এখানে আমি শেষ টেনেছি মেয়েটি অবশেষে মুক্তি করলো নিজেকে। তার স্বপ্নকে স্বার্থক করলো।

      আমার স্বভাব তো জেনেছো এতোদিনে নেগেটিভ নিয়ে চলতে পারিনা, এমনকি ভাবতেও না। হলো বোঝা? খুশী? 😀 -{@ \|/

  6. নিজকে হারিয়ে ফেলা একজন নারী তার আমিকেও একসময় হারিয়ে ফেলে
    হাহাকার থাকে কোথাও কেউ যেন তাকে তার মত করে আলাদা করে ভাবে
    আশ্রয় খুঁজে নারী এমন এক কোমলতার
    যেখানে সে তার নিজস্বতার আলাদা মর্যাদা পায়
    এই আলতো ছোঁয়ার আকাঙ্ক্ষা আমাদের সবার।

    অনেক অনেক ভালো থেকো নাতনী -{@

    1. নানা বাহ দারুণ মন্তব্য করেছো তো! এতো সুন্দর করে তো বুঝিয়ে দিতে আমিও পারতাম না। (y)
      এজন্যই তো তোমারে অনেক ভালোবাসি -{@ (3 , আর তুমি তাই আমায় শুধু বকা দেও। ;(

  7. এই কি ব্যাপার লেখার মাঝে এলাচ, লবঙ্গ
    সহজে কি যাই না বলা মানুষের মাঝে সহজতর হইতে সহজ করে দাওনা আপু।
    কি এমন হয় শব্দ হোগলে জানা শব্দে কবিতা লিখলে, বুকজিনা কবিদের ভাবসাব।

    1. মজিবর ভাইয়া অরুনি আপুকে যে প্রতি-মন্তব্য করেছি, সেটাই তুলে দিচ্ছি এখানে।

      লেখাটায় একজন নারীর স্বপ্ন দেখা, না-পাওয়ার আর্তি ফুঁটে উঠেছে। সবকিছু ছেড়ে একটি মেয়ে আসে তার নিজের সংসারে। কিন্তু সংসারটি কি আসলে তার নিজের? যে ঘর সে খুঁজে বেড়ায়, সে কি তা পায়? একটি মেয়ে আদর খোঁজে। কিন্তু সে পায় না আদর। বরং একটি শারীরিক বস্তু হয়ে কাটিয়ে দেয় তার জীবন। তবে এখানে আমি শেষ টেনেছি মেয়েটি অবশেষে মুক্ত করলো নিজেকে। তার স্বপ্নকে স্বার্থক করলো।

  8. ফুল ফুল ই
    তা যেখানে এ অবস্থায় ই ফুটুক না কেন।
    শত প্রতিকূলতার ভেতরেও দারুচিনি দ্বিপ হাতছানি দেয়।
    পরিশেষে সব চাওয়ারা পাওয়ায় রূপান্তরিত মনরাজ্য ঘিরে।
    তাও একদম কম না।
    গোলমরিচ গোল হলেও মরিচই,

    1. দারুণ বলেছেন আপনি কবিভাই গোলমরিচ গোল হলেও মরিচই। ভেবে কিন্তু দেখিনি।
      আচ্ছা মশা উড়তে পারে, তার মানে মশাও পাখী। :p 😀 :D)

  9. দুপুর বেলা ভার্সিটির গ্রন্থাগার থেকে বের হয়ে ক্যান্টিনে গেলাম নাস্তা খেতে। আজ একটা কাজে ল্যাপটপটা সাথেই ছিল। নাস্তা খাব এই ফাকেঁ একটু ব্লগে যাই এই চিন্তা করে প্রবেশ করলাম। প্রথমেই এই লেখাটাই চোখে পড়ল। মনে মনে পড়া শুরু করেছি পিছন থেকে দুয়েকজন দেখছে। প্রথমবার পড়ার পর যখন দ্বিতীয়বার পড়তে যাব তখনই একজন বলল, আনিছ তুই ত আমাদের কোন দিন কবিতা শুনালি না, আজ একটা শুনা। আমি আবৃতি পারি না তারপরেও চেষ্টা করলাম জীবনের প্রথম কয়েকজনের সামনে। নীলা আপুর এই কবিতা। আর কিছু বলব না।

    1. ভেরি ইন্টারেষ্টিং। এভাবে মিলবে বুঝতে পারিনি। নীলাপুর কবিতাটা সেদিন আমিও আবৃত্তি করেছিলাম আর মনে মনে ব্যাকগ্রাউন্ডে বাঁশির সুর এড করার কথা ভেবেছি 🙂

    2. ওমা কি বললেন! এই লেখা আবৃত্তি হায় হায়। লজ্জ্বা লাগছে আনিছ ভাইয়া।

      আমায় খোঁজা হচ্ছে বুঝি? এই দেখুন আমি।
      রোল নাম্বার গোল্লা উপস্থিত। 😀 :D)

      1. কয়েকদিন পর পেলাম আপনাকে। গতকাল রাত থেকেই ভাবছিলাম আপু দেখছিনা ইদানীং। একবার ভেবেছিলাম জিসান ভাইকে জিজ্ঞাস করি, পরে কি মনে করে যেন অপেক্ষা করলাম। আপনি ভালো আছেন আপু?

        লজ্জা লাগছে কই, আমি ত দেখছি না। লজ্জায় নাকি মেয়েদের চেহেরা লাল হয়ে যায় আর নিশ্চুপ হয়ে যায়। আপু ত দেখি হাসে।

        1. :D) :D) :D) :D) :D) :D)

          বেশ মজা পেলাম। আসলে ব্যস্ত ছিলাম। তাই আসা হয়নি। তবে আমি অফলাইন হয়ে আসি ব্লগে। কারণ মন্তব্য করার সময় থাকেনা। তাই অন যখন হই তখনই মন্তব্য দিয়ে যাই।

          আপনি ভালো আছেন? আচ্ছা কিসে পড়েন আপনি? মানে কি নিয়ে?

        2. State University of Bangladesh. অর্থনীতি আমার কাছে খুব একটা কঠিন মনে হয় না। অর্থনীতির স্যার আবার একজন ফিলোসফার, উনি খুব ভালো করে বুঝান,তাই হয়ত খুব সহজ মনে হয়।

    1. আর বলোনা। পুজোর শপিং করলাম ছেলের জন্যে। তারপর বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে শাড়ী রেডি করে রাখলাম। পায়ের নোখে নেলপলিশ দিলাম। কাল হ্যামিল্টনে দূর্গা পুজো হচ্ছে আগে-ভাগেই। টরেন্টোতে সামনের সপ্তাহে। বুঝেছো? 😀 \|/

  10. এতো দিন ধরে ভেবে ভেবে লিখলে লেখা ভালো হবে না তো কি হবে???

    নেইলপালিশ নিয়ে দেখি সেই মজা করা হচ্ছে। \|/
    আমিও চলে আসছি। 🙂

    1. পিচ্চি আপু রে এতোদিন ভেবে ভেবে না। শুরুর পর আর চোখের দেখাই দেখিনি। দু’বার ডিলিট হয়েছিলো। 🙁

      ইস যা সুন্দর না রঙটা। কিন্তু হাতের নোখেরটা আধ-খাওয়া হয়ে গেছে। গতকাল রান্নায়। 🙁
      এই মেয়ে বলো কেন আমি তোমাকে ভালোবাসিনা? আদর করিনা? উম্মাআআআআআআআআ -{@
      লাভ ইয়্যু। আদর। (3

মন্তব্য করুন