জলের আয়না

দুপুর কে ডেকে বললাম
‘চলো, আকাশ দেখি,
এই দুপুর সন্ধ্যা, সকালের দুপুর, রাতের আকাশ বা বিকেল রংয়ের আকাশ’।

দুপুর বলে, ‘আকাশকে দেখার কী আছে? তার থেকে চলো অন্য কিছু দেখি। সস্তা স্মৃতির বিষণ্ণতা দেখেছি ঢেঁড়, জেনেছি এর ওর ভীষণ অচেনা একাকীত্বের প্লাবন। একাত্ম হইনি হবও না, এই এর ওর সাথে।
দেখলাম ছোট্ট সাঁকোর নীচে তীরতীর করছে একগুচ্ছ জল, সে কী এক আলো ছড়াচ্ছে ছলছলিয়ে, উষ্ণ শরীর বিছিয়ে। জলের আয়নায় মুখ ফেলে রাখি বন্ধ চোখে তাকিয়ে থেকে। সময়ের বিশাল অরণ্যে কে যে কোথায় লুকিয়ে যায় কে জানে! গভীর নির্জনতায় বিকেলসন্ধ্যার চোরাবালিতে। আমাকে ছোঁবে আমাকে নেবে না ঐ ঝর্ণার জলে তাও হয়? হয় না’।

অবশেষ জানা গেল, আমরা একাত্ম নই কোন কিছুর সাথে, ছিলাম ও না। পাখি শিকারের চোখ নিয়ে যতই খুঁজি না কেন।

মোট পড়েছেনঃ ৭৭১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৬টি মন্তব্য

  1. কত কিছু দেখে গেল এই দু’নয়ন
    কখনো চোখ মেলে কখনোবা চোখ বন্ধ করে
    তবু জানা হলনা আকাশ কেন নীল অশ্রু ঝরায়
    ভোরের আলোয় উত্তাপ কেন কম রয়
    কেন জলের ছায়ায় মুখচ্ছবি কালের গহবরে বিলীন হয়ে যায়
    দেখে দেখেও যেন দেখার অলক্ষে সব কিছু লুকিয়ে রয়,,,,,,,

    1. কত কিছুই মনে রাখে এ দু’চোখ
      আয়নায় বেঁধে ফেলে ডাক্তারের ট্যারা চোখ,
      দেখেও না দেখার ভান করে রোগীর শীতল নোখ।
      লুকিয়ে কাঁদে যন্ত্রণার ভান ধরে
      আকুল অপেক্ষা ডাক্তারের পরে।

  2. “আমরা একাত্ম নই কোন কিছুর সাথে, ছিলাম ও না। পাখি শিকারের চোখ নিয়ে যতই খুঁজি না কেন।”
    খুব বড় একটা সত্যি। মাথায় ঢুকে গেল কথাটা।
    ভাল লাগলো অনেক…।

  3. আপনি ভালো পাখি শিকারি নন বুঝতে পেরেছি।আপনার নিশানা ব্যার্থ হবে এটি ভাবতে পারিনা। অসাধ্য বলে কিছুই নেই।
    গুড লাক 🙂
    কিভাবে এত আবেগ দিয়ে লেখেন ভাইয়া?

  4. আমারো একটা জলের আয়না দরকার
    আজ সেভ করতে গিয়ে গাল কেটে ফেলেছি অস্বচ্ছ কৃত্রিম আয়নায়।
    ভালো লেখেন আপনি সব সময়।

  5. “একাত্ম হইনি হবও না, এই এর ওর সাথে।” একেবারে আমার মনের কথা। সবার সাথে কি একাত্ম হওয়া যায়? পারে কেউ? তবে দুপুরের ওই কথাটি ভালো লাগেনি, আকাশকে দেখার কি নেই? আমার ঝুল-বারান্দায় দাঁড়িয়ে সন্ধ্যের আকাশ দেখি, ভোরও দেখি। কতো রঙ! আমায় সমুদ্র কোনোদিন টানেনা, ডাকে দূরের ওই সবুজ অরণ্য “দূরে কোথায় দূরে দূরে…” আর খোলা ওই নীল আকাশ—-
    “আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ,
    তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান
    বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।”

    আপনার জলের আয়নায় মুখ দেখবো না। নিস্তরঙ্গ জল নয় মোটেই। -:-

    তা আজ হলোটা কি? এমন লেখা…কেমন যেনো! ;?

    1. আমিও তাই বলি, সবার সাথে একাত্ম হওয়া যায় না, ঠিক ও না।
      দরকারটি কী এত একাত্মতার!!
      জলে তরঙ্গ না থাকলে জলকে মানাবেই না। আপনি জলের আয়নায় মুখ না দেখলেও আয়না ঠকি দেখে নেবে।
      সব লেখা তো এক রকম হয় না, সম্ভব ও না, তা জেনেই লিখি।

      1. জলের বুকে জল, নিঃস্তব্ধ কোলাহল
        চোখের ভেতর জল, নাকি সমুদ্র!
        মেলেনা, মেশেনা অন্ধকারের ভীড়ে
        কাঁচপোকাদের ভালোবাসার ঘরে
        ওই আয়নায় কার মুখ দেখি হে রুদ্র!
        নীরবে পান করছে হলাহল।।

        আজকাল লিখতে পারিনা। তাই যা মনে আসে লিখে ফেলি। আর লেখা তো আপনার অনেক ভালো হয়, এটাও ভালো লেগেছে। আর শুনুন কবি ভাই একই মায়ের সব সন্তান কি একই চরিত্রের হয়! -{@

        1. নীরবের পান তা হলাহল না অমৃত তা কেউ খোঁজ রাখে না।
          আয়নামুখি মুখ সে আর হয় না দেখা।
          আপনি ই লিখতে পারেন না!! আমরা তো তাহলে নাই ই।
          ভেদ অভেদ নিয়েই লেখা।

        2. তাও ঠিক। আমরা নীরবে যে কে কি পান করি, কেউ জানেনা।
          এমনকি আমরা নিজেরও বুঝিনা।

          অনেক বছর আগে লিখেছিলাম ডায়েরীটা নেই আর। কিন্তু কথাটা ঠিকই মনে আছে।আয়নায় মুখ সে-ই দেখে যাকে দেখার জন্যে কোনো চোখ থাকেনা।

          লিখতে যদি পারতাম, তাহলে তো দেখতেই পারতেন, লিখে তো এখানেই দেই। নয় কি?

        3. আমরা জেনে না জেনেই পান করি, বুঝে বা না বুঝেই।
          এটাই হয়, সবার জন্য হয়ত নয়।
          আপনি যখন বলছেন লিখলে সব এখানে দেন, ঠিক আছে।
          তবে সব কিনা আমাদের তা জানার উপায় নেই।
          লেখা দিতে শুরু করুণ।

        4. সব কি জানা যায় কারো? আমি কি জানি আপনাকে?
          কিনা অজানা থাকা ভালো, আপনাকে পুরোপুরি জানলে যেমন সমস্যা, তেমনি আমাকেও। তাই না?

          নিন শুনুন।
          https://www.youtube.com/watch?v=GAP1oMX02xk

  6. ভাউ ভাব ধরে যতই বলি না কেন, আপনি কেমন অচেনা হয়ে যাচ্ছেন, লেখা বুঝেও যেন কেন আবার তাল হারিয়ে ফেলি 🙁 নাহ ধুর, কষ্টের লেখা ভাল্লাগেনা। কষ্ট আবার কি? ও কিছুনা।

    1. আসলে চেনারাই কিন্তু অচেনা হয়, এটাই হয়ত লিখিত নিয়ম, আবার অচেনা আসবে চেনা হতে।
      আর এটি কোন কষ্টের লেখা না। এখানে মেয়েটি তার উপলব্ধি বর্ণনা করছে। অন্য কিছু না।
      আমিই হয়ত বুঝিয়ে লিখতে পারিনি। এ এমন কিছু না। এটা হয়।

      1. জলের আয়নায় মুখ ফেলে রাখি বন্ধ চোখে তাকিয়ে থেকে। এই লাইনটা চমৎকার হয়েছে।
        একটা জিনিস মনে পড়ে গেলো, রোদে শুয়ে থাকলে চোখ বন্ধ করার পর পিউপিল টা কালো স্পট হয়ে কেমন ঘুরতে থাকে। বন্ধ চোখেও দেখা যায়। আপনার লেখা বুঝবো না ভাউ, তা হয়? কম কম ভালো লিখুন।

মন্তব্য করুন