ভালোবাসার শ্রাদ্ধ

আগুণ
আগুণ
খুঁড়ে খুঁড়ে তলানীর নরকে
কিছু রোদ-বৃষ্টির সরঞ্জাম খুঁজে পেয়েছি
যমদূতের তীব্র আপত্তি
মন্ত্র-দক্ষিণা-যজ্ঞ কিছুতেই ছোঁয়া যাবেনা
মামাবাড়ির আব্দার নাকি!
অনন্তকাল ছেঁড়া কাঁথার বুকের ভাঁজে সমাধী-ব্রত
আর সবশেষে যমের বুকে গিয়ে আত্মসমর্পণ;
মগের মুল্লুক!
মেঘে-মেঘে ধাক্কার ফসল বৃষ্টি নিয়ে উপুড় হয়ে দুপুর ভেঁজাবার মন্ত্র জানি
চোখের পাতার ভেতর লুকিয়ে থাকা নীলে, সূর্যের বুকের আলোয় যজ্ঞবেদি পেতেছি।
অতো সহজ, না দেয়া?
না-পাওয়ার হিংস্রতায় আঁচড়ে খামচে বিদীর্ণ চিৎকারে
সুনামীর মতো ভাঙচুর করে ফেলবো নগর-শহর-জনপদ, চাও?
অথৈজল চোখের সমুদ্রে তরঙ্গ তোলে
তীব্র বিদ্যুৎ ঝলসে নিতে জানে শরতের এমন আকাশ
হাতের মুঠোয় এনে আবেগকে  নিষ্ঠুরতার সাথে চিবিয়ে
টুকরো টুকরো করে ছাইয়ের মতো ছিটিয়ে দেবো।
ভালোবাসার শ্রাদ্ধ করবো কড়ায়-গন্ডায় মেপে।
হয় তুমি দেবে তোমায়, নয়তো ছিনিয়ে নেবো।
হিসেব ছাড়া তোমাকে চাই।
হ্যামিল্টন, কানাডা
২৩ আগষ্ট, ২০১৫ ইং।

**ছবিটি ২০১০ সালের আগষ্ট মাসে দুবাই-এ তুলেছিলাম। জায়গাটার নাম আল-আইন, এখানে এই পাথরের পাহাড় থেকে নীচে আলোকিত দুবাই শহর। যেনো বিদ্যুতে ঝলসে যাওয়া একটি শহর।

মোট পড়েছেনঃ ৮২১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৪৯টি মন্তব্য

  1. উরে বাব্বা, জোর জবরদস্তির দিন এসে গেছে!!
    ভেজাবার মন্ত্র নিয়ে এসেছে, যা করার জোড় করেই আদায় করবে।
    ভাইয়া, এবারের মত সেই তাকে মাফ করে জীবন ফিরিয়া দিন প্লিজ।

    লেখেন কী করে??
    ভয় পেয়েছি।

      1. পুরাই ঠিক শ্রাদ্ধের আয়োজন।
        তা ঘি কত মন পোড়ালেন সেটিও জানিয়েন।
        আর ব্রাহ্মণ ভোজন কেমন হল?
        কচি পাঠা!! কেমন খেলেন!

  2. ভালবাসা জোর করে আদায় করে নিব। দিতেই হবে। কোন বারণ মানব না। ভাল লেগেছে নীল পরী। না পাওয়ার কষ্টের অপূর্ব একটি ঝড় প্রকাশ,,,,,,

    1. অরুনি আপু ভালোবাসা না দিয়ে যাবে কোথায়? যতোই থাকুক আড়ালে-অন্তরালে, আলোয় নিয়ে আসবোই।
      নো ছাড়াছাড়ি। দা-বঁটি-ছুরি-চাকু রেডি রেখো। 😀

      1. জোর না করলে এখন আর কেও কিছু দিতে চায়না। লাজুক লতা হলে সারা জীবন কেঁদেই যেতে হবে। আপু আমি আছি আপনার দলে।
        হেলাল ভাইয়ের হিংসে হচ্ছে। তার রাই নাই তো তাই,,,,,, :p

  3. ভালোবাসার শ্রাদ্ধ, কেউ বা কিছু হারিয়ে গেলে শ্রাদ্ধ হয় জানি। তুমি কি কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চাও নাকি নীলাপু? তোমাকে বাচ্চা একটা মেয়ের মত হাত-পা ছুড়তে দেখছি 🙂 হিসেব ছাড়া তোমাকে চাই। এইবার কোন ছাড় নেই। পেয়েই ছাড়বো। দারুন হয়েছে। ছবিটা অপলক ভাবে দেখছি। কেন যেন মনে হচ্ছে, এই ছবিটা দেখেই তুমি কবিতাটা লিখেছ।

    1. শুন্য আপু বেশ বোঝো আমায়। হুম ছবিটা দেখেই লিখেছি।
      “ভালোবাসা কারে কয়!”
      আপু গো এই শব্দের কাছে লেখা-লেখির প্রাণ যায় যায় অবস্থা ^:^

      1. ভালোবাসা নাকি লেখালেখির সেন্ট্রাল মন্ত্র নিয়ে বসে আছে, আর তুমি বলছ তার জন্য এই অবস্থা? জানো ভালোবাসা কি? আমিতো জানিনা, নীলা কবি জানলে যেন একটু বলে। 🙂

        1. ভালোবাসা কি জানোনা?
          বলো কি!!! 😮
          তুমি যদি ভালোবাসা কি না জানো, তাহলে কিভাবে কি হবে?

          তাহলে ভালোবাসার সংজ্ঞা এখুনি দিতে হয়।
          https://www.youtube.com/watch?v=emvIYPWbqDk

          শুন্য আপু,
          “আমার মতন সুখী কে আছে
          আয় সখী, আয় আমার কাছে
          সুখী হৃদয়ের সুখের গান
          শুনিয়া তোদের জুড়াবে প্রাণ।” ভালোবাসা মানে আমি, বুঝেছো? -{@ (3

  4. “হয় তুমি দেবে তোমায়, নয়তো ছিনিয়ে নেবো।
    হিসেব ছাড়া তোমাকে চাই।”

    অসাধারণ লাগলো নীলা আপু। (y) (y) (y)
    তিনটা থাম্বস আপ বোধহয় প্রথম ব্যবহার করলাম। 🙂

    কোন কোন সময় কথা বলতে হয় না; আসলে বলাও যায় না। ও কেবলই অনুভব আর মুগ্ধতার ব্যাপার। 🙂 (y)

    1. এতো সুন্দর মন্তব্য করেন আপনি। আপনার লেখার ভক্ত আমি, কিন্তু প্রতিদিন একটু একটু করে আপনার মন্তব্যেরও ভক্ত হয়ে যাচ্ছি। চুপিচুপি বলে রাখি, আমি আপনার প্রায় সব মন্তব্য পড়ি সে যার লেখাতেই করুন না কেন! আমার নানা জানে এ কথা :p
      মুগ্ধ আমি হচ্ছি। -{@

  5. -{@ না-পাওয়ার হিংস্রতায় আঁচড়ে খামচে বিদীর্ণ চিৎকারে
    সুনামীর মতো ভাঙচুর করে ফেলবো নগর-শহর-জনপদ, চাও? -{@
    চমৎকার দুটি লাইন।

  6. কবিতা টা আগুন গরম ছিল। খুব ভাল লেগেছে আপি।

    ”না-পাওয়ার হিংস্রতায় আঁচড়ে খামচে বিদীর্ণ চিৎকারে
    সুনামীর মতো ভাঙচুর করে ফেলবো নগর-শহর-জনপদ, চাও?”

    এই লাইন টা প্রেমিকের কাঙ্খিত, চেয়েছিলাম, পাই নি কখনও। চাইলেই পাওয়া যায় না।

    আপি ,আজকের আপনার এই কবিতা টা খুব সুখ পাঠ্য ছিল।

    1. ভাইয়া হুম লাইনটা সাধারণত ছেলেরা প্রকাশ করে। কিন্তু আমার মনে হলো মেয়েদের মুখ থেকে এমন এলে ক্ষতি তো নয়।

      অফুরান ভালোবাসা। -{@

  7. টুকরো টুকরো করে ছাইয়ের মতো ছিটিয়ে দেবো–হোয়াট অ্যা হুমকি :c

    হয় তুমি দেবে তোমায়, নয়তো ছিনিয়ে নেবো।
    হিসেব ছাড়া তোমাকে চাই।—————-অসাধারন (y)

  8. আমাকে যদি কেউ এমন করে বলতো, তাইলে আপু আমি বলতাম, যোগ, বিয়গ, গুন, ভাগে আমি তোমারি, ইনফিনিটিতেও আমি তোমারে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ কইলো না আমারে। :p

    আপনার লিখার কথা আর নতুন করে কি বলবো। চমৎকার, অস্থীর, অসহনীয়, বেসম্ভব রকমের ভাল লাগে আপনার লিখা কবিতা। অনেক অনেক শুভকামনা জানিবেন আপু।। -{@

    1. ইস ভাইয়া আজ পর্যন্ত কেউ বলেনি? 🙁
      খুব তাড়াতাড়ি বলবে।

      “আমি বর দিনু” ভাইয়া
      তুমি তারে পাবে,
      সে আসিয়া এভাবেই
      তোমারে কহিবে। :p -{@

  9. লেখার সময়ে হাতে কি ছেনি নিয়ে লিখেছো?
    মাস্তান নীলার প্রমান এবার সবাই পাবে
    জোড় করেই আদায় করতে হয় সব
    অধিকার যখন আছে।

    অদ্ভুত সুন্দর এক কবিতা পড়লাম।

    1. ছেনি না। ছুরি-চাকু ছিলো হাতে।
      মাস্তানি কি করেছি তোমার সাথে নানা? :@

      তোমার সাহস দিন কে দিন বাড়ছে। ড্যাস ড্যাস ড্যাস মডু ভাইরে কিন্তু জানাবো,
      তুমি যে আমায় মাস্তান বলেছো। :@

    1. পিচ্চি আপু খুব ভালো আছি। শুধু একটাই সমস্যা খুব ব্যস্ত।
      আর আগেই সারেন্ডার।
      যতো ভালুবাসা আছে সব তোমার (3 -{@

      আমায় মেরো নাআআআআআআআআ ;(

  10. ব্যাস্ত থাকা ভালো।
    আপনাকে মারবো কেনো????। যে আপনাকে ভালোবাসা দিবে না তারে মারবো।

    একটু ওয়েট করেন আমি একটা কাঠের ১০ বাই ১০ ফিট “বাস্ক” বানাইতে দিছি। তার লক লাগানো বাকি। ওটা আসলেই আপনাদের সব ভালোবাসা ওখানে জমা করে লক মেরে দেবো। 🙂

    1. আপনি ঠিক বুঝেছেন। ভেবেছি আরোও কিছু হুমকি-ধামকি দেবো। 😀
      তা স্বপ্ন যদি স্বপ্ন না ছড়ায় সোনেলায়, কেমন করে চলবে? ;?

মন্তব্য করুন