সোনালী স্বপ্নের আস্বাদ

হার্দিক আন্তরিকতার পতন
হার্দিক আন্তরিকতার পতন
গভীর আহ্লাদ ভেসে ওঠে সময়ে সময়।
তখন প্রতিচ্ছবি বদলে যায় কতো সহজে!
আমি দেখেছি কিভাবে বন্ধুত্ত্ব, স্বার্থপর চাহিদার কাছে
পরাজিত হয়।
হার্দিক আন্তরিকতা আকাশ থেকে উল্কার মতো ছিটকে এসে মাটিতে গলে গলে পড়ে যায়!
আঙুলের ফাঁক থেকে টুপটাপ করে যেমন জল ঝরে গিয়ে শূণ্যতায় ভরে থাকে হাতের পাতা
হৃদয়ের ফাঁক-ফোঁকড় বন্ধ হয়ে বহমান রক্ত আটকে গিয়ে
ঝরে যেতে দেখেছি সুগভীর প্রেম, জীবন্ত নিঃশ্বাস।
শীতের উচ্ছৃঙ্খল কাঁপুনি যে নম্র উষ্ণতার কাছে নীরবে আত্মসমর্পণ করে,
নীল জ্যোছনায় ব্যালকনির বারান্দায় চাঁদের আলো আলোকে ছোঁয়—
চাওয়া-পাওয়ার সমীকরণে দাঁড়িপাল্লা না-পাওয়ার দিকে একটু ঝুঁকলেই
তখন স্বপ্ন জোড়া লাগেনা, কেবলই ছিঁড়ে যায়
হেমন্তের কুয়াশায় ছলকে ওঠা কচি-নরম আলোয় মাকড়শার জালের মতো।
ভালোবেসে যারা এক পা পিছিয়ে যায়,
তখুনি খুন হয় নীল জ্যোছনা, নম্র উষ্ণতা আর যা কিছু জমিয়ে রাখা ছিলো।
আবেগী ঈর্ষা থেকে প্রতিহিংসা,
প্রেম থেকে বিতৃষ্ণা;
কতো সহজে রূপান্তরিত হয় সম্পর্কের সম্পর্ক।
স্মৃতি কিংবা অতীতের ডায়েরীতে অলিখিত অক্ষরগুলো ভুল বানানের জন্যে
মুখ থুবড়ে পড়ে
একদিন নিস্তব্ধতার মধ্যে ম্লান হয়ে যায়, অথবা বিলীন।
বয়ে যায় নদী
বয়ে যায় নদী
একটুকরো নদী বয়ে যেতে থাকে,
বয়ে যেতেই থাকে—
সবশেষে ক্ষেতের আলের ভেতর গিয়ে ধাক্কা খায়।
চৈত্রের বন্ধ্যা মাটি কালবোশেখীর আদরে স্বপ্ন সাজায়;
বৈশাখ থেকে শ্রাবণ ছুটে এসে আগলে নেয় শরতের নীল আকাশ।
ধানি জমিতে আবার চাষ, লাঙলের ফলা চষে বেড়ায় মাটির বুকে
ফসলের জন্ম হয়।
হেমন্তের হলুদ আলোয় সোনালী ধান চিকচিক করে।
কিশোরীর পায়ের নিক্কণে ঝঙ্কার ওঠে নতূন সুরে—
নারীর কাঁখে গাগরী চুমু খায়,
কুয়াশা মুঁছে গিয়ে নদীর জল ভোর জড়িয়ে নেয়।
ঋতুর হাওয়ায় ওড়ে আঁচল, সলজ্জ্ব মুখ জলের আয়নায় চোখে রাখে।
হঠাৎ বৃষ্টি নামে, জলে ভেঁজে জল, নারীর মুখের ছায়া নদীর জলে স্নান করে।
অবশেষে বৃষ্টি নামে
অবশেষে বৃষ্টি নামে
হ্যামিল্টন, কানাডা
২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং।কবিতা মাত্র শেষ হলো। প্রথম ছবিটি ১৯ আগষ্ট, শেষের ছবিটি ২০ আগষ্ট, ২০১৫ ইং-এর দ্বিতীয় ছবিটি বে-ফন্ট লেক-এ ৮ আগষ্ট, ২০১৪ ইং-এ এই হ্যামিল্টনে তোলা।
মোট পড়েছেনঃ ১,৫৪৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৪৭টি মন্তব্য

  1. জীবন জয়ী হয় জীবনের জয় গানের মধ্য থেকেই।
    চির উর্বরতাই জীবনের ধর্ম।
    প্রথম ছবিটি খুব সুন্দর, লেখার সাথে মিলে যাচ্ছে।
    সব সবুজ শুকানোর নয়।

    1. লেখাটি প্রেরণার কারণে পাওয়া হলো আমার।
      আর ছবিগুলো আমার মনের ভেতরে মনের যে সৌন্দর্যকে রেখেছি নিজের প্রেরণা হিসেবে,
      সেই প্রেরণার চোখে তোলা।

      ধন্যবাদ আপনাকে। -{@

    1. সজীব ভাইয়া আমি বোধ হয় এতো সময় নিয়ে লিখিনি জীবনে। গতকাল যখন লিখি অনেক যত্ন করে সাজানোর চেষ্টা করেছি। এখানে একেকটি শব্দ, ভাবনা সবকিছুতে নিজের জীবনের খাতাটার উপলব্ধি।
      মিথ্যে-কল্পনার সাথে আপোষ করিনি। তাই হয়তো আপনার অনুভূতিকে ধাক্কা দিচ্ছে।

      তাছাড়া এখানে আপনার অন্ধ ভালোবাসাও যে এই লেখাটার প্রতি। ভালোবাসা রইলো। -{@

  2. আমি দেখেছি কিভাবে বন্ধুত্ত্ব, স্বার্থপর চাহিদার কাছে
    পরাজিত হয়। (y)
    হৃদয়ের ফাঁক-ফোঁকড় বন্ধ হয়ে বহমান রক্ত আটকে গিয়ে
    ঝরে যেতে দেখেছি সুগভীর প্রেম, জীবন্ত নিঃশ্বাস। (y)

    আপু এটা কি কবিতা? ?
    আপনি এতো সুন্দর সুন্দর শব্দ পান কই?? আমার কিন্তু এবার হিংসা হচ্ছে আপনার কবিতা পড়ে, আবার আফসোস ও হচ্ছে আমি কেনো কবিতা লিখতে পারিনা!!!? ^:^
    আবার তো আমি কবিতা প্রেমী হয়ে যাচ্ছি। -{@

    1. পিচ্চি আপু এসব শব্দ আসে তোমাদের ভালোবাসায়। হুম ঘাড়ে ব্যথা শেষ।
      আগামীকাল ভোরে কাজ। ঘুমুবো এখন।

      আদর নিও আপু। -{@ (3

    1. প্রকৃতি এসব লিখিয়ে নেয়। আমার জানালা, জানালার কাঁচে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি, আমায় জড়িয়ে রাখে যে!

      অনেক অনেক ধন্যবাদ ইমন। -{@

    1. লীলাবতীদি একটাই কবিতা। ছবির নীচে ওটা ছবির ক্যাপশন।
      কবিতাটা যে সত্যি। তাইতো দেখতে পাচ্ছেন।
      দিদি আস্ত কবিতাই আপনাকে দিয়ে দিলাম, সাজিয়ে নিন জীবন আনন্দে। -{@ (3

  3. মনে হল যেন শহরের চার দেয়ালের গোণ্ডি পেরিয়ে হঠাত ই কোন সবুজ গাঁয়ের মেঠা পথে নিজেকে হারিয়ে ফেললাম। অনেক গুলো বাস্তবতা কে সুন্দর কথা মালায় সাজিয়ে ফেললেন।
    নীল আপু অনেক ভালবাসা আপনার জন্য,,,,,, 🙂 (3

    1. জীবন থেকে নেয়া কিনা। তবে আমি কিছুতেই নিজেকে কোনো ভাঙ্গনের কাছে পরাজিত হতে দিইনা।
      হাসি ছাড়া আমি নেই। কোথাও নেই।

      অফুরান ভালোবাসা আপনার জন্যে। -{@ (3

  4. সাধারনত একটি গদ্য কবিতায় একটা প্যারা বা কয়েকটা লাইন অসাধারন লাগে আমার, কিন্তু আপু আপনার কবিতার প্রত্যেকটি শব্দ চয়ন আমার অসম্ভব ভাললাগে।

    কবিতা চলুক ছবির প্রতিমূর্তিতে। অনেক অনেক শুভকামনা থাকলো।

  5. এভাবেই দূরত্ব তৈরী হয়
    মুখ থুবরে পরে সময়ে অসময়ে
    আবার প্রকৃতির নিয়মেই স্বপ্ন গুলো জোরা লাগে।

    ছবির ক্যাপশনের কারনে একজনে ধারনা কয়েছে এখানে কবিতা দুইটা 🙂

  6. এক টুকরো নদী বয়ে যেতে থাকে
    বয়ে যেতেই থাকে – ওই বয়ে যাওয়াই কি জীবন নয় নীলাদি? ক্ষেতের আলে ধাক্কা খাবার আগ পর্যন্ত জীবন সাবলীল হবার চাওয়াতেই না আমরা বুঁদ হয়ে থাকি।

    কী লিখতে কী লিখছি জানিনা। ভুল কিছু বলে ফেললে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

    1. সে কি কথা! কিচ্ছু ভুল বলেননি গো নন্দিনী দিদি।
      জীবন থেমে থাকে না। ঘাত-প্রতিঘাত আসেই, কিন্তু এই বৃষ্টি-ই কখনো ঝড়,
      আর কখনো চঞ্চলা নুপূরের রিনিঝিনি।

      মন ভালো হয়ে উঠুক। ভালোবাসা অফুরান -{@

  7. -{@ হেমন্তের হলুদ আলোয় সোনালী ধান চিকচিক করে।
    কিশোরীর পায়ের নিক্কণে ঝঙ্কার ওঠে নতূন সুরে— -{@
    অসাধারণ দুটি লাইন।

  8. অলিখিত অক্ষরগুলো ভুল বানানের জন্য মুখ থুবড়ে পড়ে? তাইতো বলি অনেক চেষ্টা করেও পরে আর তা লিখতে পারিনি কেন? বানানে বড্ড ভুল যে হয়ে যায়। লেখাটি অনেক অনেক ভালো হয়েছে আপু, কারন এটি যে লেখার জন্য লেখোনি। শেষ লাইনটার কথা না বললেই নয়। ছায়াও জলে স্নান করে, বাহ বাহ। আমাদের কারনে তোমার এত মিষ্টি কবিতা লেখার বদভ্যাস টা আর যাবেনা!! 😀
    এই আপু জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিও রে। আমার সবসময়ই দেরি হয়ে যায়। কি দিই তোমায়, আমার হয়ে আঙ্গুলে একটা নীলা পড়ে নিও। এমনি আলো হয়ে থেকো সবসময়। (3 -{@

    1. শুন্য আপু গো এই প্রথম কোনো কবিতায় নিজের জীবনটাকে তুলে এনেছি।

      নীলা কিন্তু সবার সয়না, আমার নিজেরও না।
      তোমাকে একটা জাপটা(আমার ছেলের ছোটবেলার শব্দ জড়িয়ে নেয়াকে বলতো) -{@ (3

      1. বাপটাকে একটা জাপটা দিয়ে দিও আমার হয়ে। লাজুক টা নাকি গার্লফ্রেন্ডকে প্রপোজ করতে পারছেনা!! 🙂 তোমার ছেলেকে নিয়েতো টানাটানি পরে যাবে মনে হচ্ছে। শুধু ছেলেরা নয়, মেয়েরাও লাজুক লতা লাইক করে।
        তোমার তো সইবেই না, সর্বাঙ্গে নীলা নিয়ে আছো, আঙ্গুল ভার বইবেনা। যাও একটা গিফট পাওনা রয়েই গেলো তোমার, দেব কখনো।

        1. আপু আর বলো না। আমায় এসে বলে, ভাবি আর হাসি ঠিক ওভাবে আমি বাপিকে বলতাম।
          ওইটুকুন আজ বড়ো হয়ে গেছে। জাপটা বললে এখন কেমন লজ্জ্বা পায়।

          ইস কি মজা! গিফট তাহলে পাবো 😀
          লাভ ইয়্যু -{@ (3

    1. এতো সুন্দর মন্তব্যে কি লিখি?
      সম্পূর্ণ একটি কবিতায় আমি আমাকেই নিয়ে এলাম।
      পুরো একটি বিকেল থেকে সন্ধ্যা কেটে গেলো এই আমায় নিয়ে ভাবতেই। স্বার্থপরের মতো
      নিজেকে ভেবে লেখা আর না। অনেক ঝামেলা।

      ভালো রাখবেন। -{@

    1. ইস! তা বললে তো চলবে না!!!
      লিখতে হবে। শব্দেরা তো আমার কাছেই আসতে চায়না। কিভাবে যে দৌঁড়াই ওদের পেছন পেছন
      সে তো আমি জানি।
      নতূন লেখা তাড়াতাড়ি চাই কিন্তু মিথুন। -{@

মন্তব্য করুন