আমার হোস্টেল বেলা-৩: আবোল তাবোল-৫

পূর্বের পর্ব- আমার হোস্টেল বেলা-২: আবোল তাবোল-৪ 

ফান লেখার একটা বড় ঝামেলা আছে আর সেটা হলো সব ফান সবার কাছে ফান নাও হতে পারে। আমি চেষ্টা করবো যাতে আমার ফান গুলো সবার জন্য “ফান”হয়। হোস্টেলে থাকা অবস্থায় যে সব ঘটনা ঘটছে সে গুলোই আমি লেখার চেষ্টা করছি।

ঘটনা  ৩ঃ
আমি নিচতলা থেকে একদম উপরের তলায় সিট চেঞ্জ করেছি অনেক দিন হলো। আমার তলায় এক বড় আপু আসছে। আমার মতে উনি একটু হুশে খাটো।
একবারের ঘটনা বলি। আমরা একটা জানালা দিয়ে ময়লা পানি বাহিরে ফেলি। উনি এসে বেশ জোরে ময়লা পানি থ্রো করলেন যার ফল স্বরুপ শুধু মগের হাতল টা উনার হাতে রয়ে গেছে, আর মগ সহ পানি বাহিরে চলে গেছে।একবার হাতলের দিকে তাকান তো একবার জানালার দিকে। আমাদের স্বাভাবিক মস্তিষ্ক বলবে মগ টা ফেটে গেছে। কিন্তু উনার মাথায় সেটা কাজ করেনি। মগ ভালো আছে বলে নিচে গেলেন মগ আনতে গিয়ে দেখেন সেটা ফেটে গেছে।

ঘটনা  ৪ঃ
হোস্টেলে বড় আপুরা হলো সবার গার্জিয়ান। কারর কিছু হলে তারা খোজ নেবেনই।
একবার এক ছোট মেয়ের এমন ডাইরিয়া হলো যে সে নিজের বেডের চেয়ে টয়লেটেই বেশি থাকে। বেড আর টয়লেটের মাঝে যে সময় পায় সেই সময় টা বেসিনের উপরে রাখা আয়না দেখে আর মন খারাপ করে। একবার সে আয়নায় নিজের নষ্ট
হয়ে যাওয়া চেহারা দেখছে এমন সময় সেই হুশে খাটো বড় আপু গিয়ে পিচ্চি মেয়ে কে জিজ্ঞেস করলো-
-তোমার কি হয়েছে
=এই তো আপু পেটের সমস্যা।
-আরে বোকা আমার কাছে ঔষুধ আছে নিয়ে যাও।
=আচ্ছা।
সেই ঔষুধ খাওয়ার পরের ঘটনা। পিচ্চির অবস্থা আরো খারপ হয়ে গেলো।

এখানে মোরাল অফ দ্যা স্টোরি হচ্ছে আপু পায়খানা না হওয়ার জায়গায় পায়খানা হওয়ার ঔষুধ দিয়ে দিছেন।

মোট পড়েছেনঃ ৬৬৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৭টি মন্তব্য

    1. শিষ্য আমি কি এমনি তারে “হুশে খাটো” বলি?
      এই ঘটনা গুলো আমার দেখা সবচেয়ে স্বাভাবিক। উনি যে আর কত ক্ষেত্রে তার হুশে খাটোর প্রমানন রেখেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না।

  1. হুঁশে খাটো আপুর কাহিনী আগে তো এক এক করে বলতে শুরু করতে হবে! শুনে গড়াগড়ি খেয়ে হহাসার জন্য আমরা আছিনা? কাহিনী কোন দিক দিয়ে শেষ হবে টেরই পাবেনা! :c

  2. কি এক বিশেষণ আনলে ‘ হুশে খাটো ‘।
    কোথা দিয়ে যে এইসব শব্দ আমদানী করো্‌ বুঝিনা।

    তিনি আছেন বলেই আমরা এমন ফান এর দেখা পাচ্ছি
    দারুন হচ্ছে আবোল তাবোল— চলুক ।

  3. আরে আসলেই ফানের লেখা বড়োই ভয়ানক। আমার এক দাদা একবার গ্রামের বাড়ীতে সাংস্কৃতিক একটা অনুষ্ঠানে কৌতুক বললো আর সেটা এতো বেশী ভয়ঙ্কর ছিলো যে কেউই বুঝে উঠতে পারিনি, গ্রামের অশিক্ষিত মানুষ কি আর বুঝবে? কিন্তু আমরা সব ভাই-বোনেরা ওই দাদার জন্যে হেসেছিলাম যদিও সেটা স্বান্তনা ছিলো। অথচ দাদার মতো বিতর্ক/উপস্থিত বক্তৃতা খুব কম জনই পারতো। জয় ছাড়া কিছু পায়নি।

    তবে এখানে এই ফান লেখায় প্রচুর হেসেছি। পেটে ব্যথা হয়ে গেছে, এখন ঔষধ কই পাই পেটে ব্যথার?

  4. হা হা হা, হুশে খাটো আপুকে তো একটা আস্ত ডিসপেনসারি মনে হচ্ছে।
    হাতলবিহীন মগ দিয়ে হুশে খাটো আপু কি করতেন জানতে ইচ্ছে করছে 😀

  5. একসাথে দুটো করে দিলে তো শেষ হয়ে যাবে। অবশ্য যদি কথা দেন, শেষ হলেও হবেনা শেষ
    তাহলে দুটো না চার পাঁচটা করেও পড়তে দিলে কোনই আপত্তি নেই।
    আপনি সুস্থ থাকলেই হল।

  6. আমার হুশে খাটো আপুকে নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে?এক্ষুনি ফোন করে জানাচ্ছি 🙂
    তাজ তুমি তো ফান মাষ্টার হয়ে যাবে।হুশে খাটো আপুর আরো কর্ম জাতি জানতে চায় :D)

    1. আপু ফোন নম্বর দেবো? কারন ফোন দিয়ে কোন লাভ হবে না। উনি মনে হয় না আপনার কথা বিশ্বাস করবেন। :p

      আপু আমি মাস্টার কেমনে হবো? বড়জোর মাস্টারনী হতে পারি। :p
      লিখবো আপু কিন্তু আপনি আবার হারায়ে যাইয়েন না!

মন্তব্য করুন