কালো বউ

লাল টুকটুকে জরির শাড়িতে বউ সেজেছি
তবে টুকুর টুকুর শব্দ করে ঘোড়ায় চেপে স্বপ্নের রাজপুত্তুর আসেনি।
বিকশিত হওয়ার আগেই স্বপ্নগুলো উপড়ে গেলো
বিয়ের সানাই বাজতে গিয়ে থেমে গেলো।

পুতুল ঘরের জিনিসগুলো আজও আছে
পুতুল বৌ আর পুতুল জামাই বিয়ের সাজে
আমার লাল শাড়িটাও পড়ে আছে আলনাটাতে
“বর আসবে ” শোরগোল টা থেমে গেছে।

বিভীষিকা সত্যি টা আজ আমার সামনে
আদরের মেয়ে ছিলাম আমি সবার কাছে।
কিন্তু সব প্রশ্নের তীরগুলো আজ আমার দিকে।
হয়নি বিয়ে, আসেনি বর আমায় নিতে
আমি অপয়া,আমি অভাগী বিলাপ চলছে।
বলবে মা,কি দোষটা ঠিক আমার আছে?

বাবার ঘরে আলো করে জন্মেছিলাম
বাড়ির সবার চোখের মণিতে জ্বলেছিলাম।
আমার ভিতর পায়নি আলো ওরা খুঁজে
তাইতো আমি অপয়া হয়ে থাকলাম ঘরের কোণে।
বলতে পারো দোষটা আমার কোথায়?
ঐ কাকটাও যে আজ মুখ ফিরিয়ে নেই আমি কালো বলে।।

 

মোট পড়েছেনঃ ১,৩৬১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২১টি মন্তব্য

  1. যারা আলো খুঁজে পায় না কালোর মাঝে সমস্যাটা তাদের…এজন্য কোন আদরের মেয়ে যেন নিজেকে অপয়া না ভাবে। কারন আলো থাকে ভিতরে যারা তার সন্ধান পায় না, তারাই এই সমাজের জন্য সব থেকে বড় অপয়া…।
    🙂

     

  2. সাগরের ঢেউ যেমন ফুঁসে, গর্জে, আছ্‌ড়ে পড়ে বেলায়
    তেমনি কান্নার ঢেউ কেঁপে কেঁপে উঠে মেয়েটির শরীরে
    তপ্ত নোনা জল দু’চোখের কোন বেয়ে বাইরে গড়ায়।

    চাকচিক্যময় এই শহরের ছোট্ট চিলেকোঠার বাইরে
    আহত পাখির ন্যায় কার্নিশের কিনারে এসে দাঁড়ায়,
    একদা সদা খিলখিলিয়ে হেসে উঠা উচ্ছল মেয়েটি
    শাড়ি’র আঁচল উড়িয়ে নেওয়া বিলাসী হাওয়ায়।

    ছেঁড়াছেঁড়া সেই পড়ন্ত বিকেলে আকাশ পানে তাকায়
    সীমাহীন নীল আর দলাদলা মেঘের আনাচে-কানাচে,
    তন্ন তন্ন করে সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে বেড়ায়
    রাশি রাশি প্রশ্নের মাঝে একটি-ই সুধায়
    কালো বলে কেন লোকে হেলায় ফেলায়
    গরীবের ঘরে কালোমেয়ে যেন না জন্মায়।

  3. আমি নচিকেতার বেপক ভক্ত উনি মেয়েদের গায়ের রং নিয়ে লিখেছিলেন তোর সাদা নাকি কালো রং সব্টাই হল সং আ সল অন্তরায় বাবার পকেট ফুতু। ।
    আপনি যে বাস্তবতার কথা লিখেছেন তার চেয়েঅ ঘৃন্য বাস্তবতা এটা। ওনেক অনেক শুভকামনা আপ্নার জন্য

মন্তব্য করুন