মূল লেখায় যান

যাবার বেলা

ইয়াগনিন সুলতানাকবিতা২৪টি মন্তব্য

দিনবদলের হাওয়ায় একদিন আমি বুড়িয়ে যাবো
টানটান থাকা চামড়ায় ভাজ পড়বে
চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ থেকে ক্ষীণ হবে
আসবে আমার যাওয়ার ডাক একটু একটু করে।

শরীরের ভারে আমার মাথা হবে নত
কুঁজো তাকে বরণ করে খুঁজবো যখন সম্বল
তুমি বাড়িয়ে দিবে হয়তো এই লাঠি খানা এটা বলে
অনেক হয়েছে, এবার একটু বিশ্রাম তো নিতে পারো।

চোখে যখন সব ঘোলাটে দেখবো
বার্ধক্যের দোহায় দিয়ে ডাঃ চেম্বারে যাওয়া থেকে বিরত থাকবো
সময় ও হয়তো মানবে ,চোখে ছানি পড়েছে
চশমার পাওয়ার টা আরেকটু বাড়ানোর সময় হয়েছে।

সকাল,রাতে ব্রাশ করার আবশ্যকতা ফুরিয়ে যাবে
ফোকলা দাতের হাসিতেই মন মাতবে
পান চিবানোর স্বভাব টা কি ধরেই ফেলবো?
নয়তো কিইবা করবো বলো অবসরে?

চিঠির যুগ বিলীন হয়েছে অনেক আগেই
ফোনটা হাতে নিয়েই থাকবো বসে
ছেলেটা আমার অনেক ব্যস্ত
কত্তো কাজ জমে আছে অফিসের টেবিল টাতে।

একাকিত্ব যখন পুরোপুরি ধরে বসবে এই আমাকে
হয়তো তাকিয়ে থেকে খুঁজবো কাউকে ঐ আকাশে
পুরোনো অ্যালবাম সঙ্গী হবে নিত্যদিনের
আমি প্রহর গুনবো আসবে কখন আমায় নিতে,
কখন আসবে আমার ডাক ঐ পারে যেতে।।

 

মোট পড়েছেনঃ ১১২৩জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৪টি মন্তব্য

  1. “”চিঠির যুগ বিলীন হয়েছে অনেক আগেই
    ফোনটা হাতে নিয়েই থাকবো বসে
    ছেলেটা আমার অনেক ব্যস্ত
    কত্তো কাজ জমে আছে অফিসের টেবিল টাতে।””
    খাঁটি কথা।

  2. একাকিত্ব যখন পুরোপুরি ধরে বসবে এই আমাকে
    হয়তো তাকিয়ে থেকে খুঁজবো কাউকে ঐ আকাশে
    পুরোনো অ্যালবাম সঙ্গী হবে নিত্যদিনের
    আমি প্রহর গুনবো আসবে কখন আমায় নিতে,
    কখন আসবে আমার ডাক ঐ পারে যেতে।। – অনেক ভাবালেন ভাই।

  3. বার্ধক্যের এক নিদারুন চিত্রপট ফুটিয়ে তুলেছেন কবিতার চরণে, জন্মের এই দাবি অস্বীকার করা যায় না তবে এই সময়ের আগেই যেন মুক্তি পেতে পারি এই ইচ্ছাই পুষে রাখি মনে, খুব চমত্কার লেখা পড়ে ভালো লাগলো।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।