প্রথম দেখার স্মৃতি

পরিচয়ের ঠিক এক বছর পরে তোমার সাথে দেখা । কত রাত কত দিন আমরা কথা বলেছি ইয়াহুতে স্কাইপিতে । দেখা হওয়াটা অনিবার্য ছিলো । আমার নিরানন্দ জীবনে আনন্দ হয়েই এসেছিলে তুমি এক বছর পুর্বে ।

ষ্টেশনে দেখা হবার পর থেকেই উজ্জ্বল দুজনার মুখ । আনন্দ খুশী চকচক করছে তোমার মুখমন্ডলে । এত খুশী আনন্দ কোথায় রাখি আমি ? দীর্গ ভ্রমণে না খাওয়া তুমি , আর তুমি আমি একসাথে লাঞ্চ করবো এ আশায় না খাওয়া আমি । দুজনার ক্ষুধা যেন কোথায় চলে গিয়েছে । তারপরেও আমার কথা ভেবে তোমার খাবার অর্ডারের তাগিদ । বড়সড় বার্গার এর পুরোটা কিন্তু আমিই খেলাম , তুমি রেখে দিলে প্রায় অর্ধেক ।

হাত ধরা ধরি হেটে যাওয়া দুজনের । তোমার ব্যাগটা আমাকে দিলেই না । টেনে নিয়ে হাটলে আমার পাশে ।
কত কিছু আনলে আমার জন্য । কবে বলেছিলাম আমি চা একটু বেশী খাই । মনে করে চা , চিনি , বিস্কিট , নিজের হাতে বানানো পুডিং । পুডিং কিন্তু খুব মজাদার হয়েছে । আর গরম কালে আনলে একটি সোয়েটার । আর আমি যে কিছুই আনিনি তোমার জন্য । বারন ছিলো তোমার 🙁
মিথুন , তোমার দেয়া সোয়েটার মাঝে মাঝে এখন যখন একা থাকি , বের করে গায়ে দেই । মনে হয় তুমি জরিয়ে ধরেছো আমাকে । তোমার উত্তাপ নেই ।

ইচ্ছে করছিলো তোমাকে বলি যে চলো আমার ক্ষণস্থায়ী বাসস্থানে । কিন্তু বলা যায়নি এটা । বলা উচিত নয় বলেই বলা হয়নি । ইচ্ছে করছিল আমার ক্ষণস্থায়ী বাসস্থানে এসে তুমি চা বানাবে দুজনার জন্য । পাশাপাশি বসে আমরা চা খাবো আর গল্প করবো । তবে ইচ্ছের বাস্তবায়ন কিন্তু আমি করেছি । এই যে দেখো দুকাপ চা । এককাপ আমার , এককাপ তোমার । তোমার আনা চা পাতি আর চিনি দিয়ে বানিয়েছিলাম আমি । মনে মনে ভেবেছি দুজনে এক রুমে বসে একই সাথে খাচ্ছি আর স্বপ্নের জাল বুনছি ।

মোট পড়েছেনঃ ১,৯৯২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৮টি মন্তব্য

  1. কত সুন্দর অনুভূতি না না অনুভূতি না স্মৃতি দুজনের। আমি পড়েই যেন খুশি হয়ে গেলাম, এমন ঘটনা আমার সাথে ঘটলে না জানি কেমন লাগত সেটাই বুঝতে পারছি না। চা ভাল বানান তা কিন্তু জেনে গেলাম। আপনার কথা শুনলাম এবার মিথুনের স্মৃতিচারণ শুনার অপেক্ষায়। কি মিল দুজনের ইচ্ছে করে দেয়ালে টাঙানো ছবিটিকে দেখাই আপনাদের সুন্দর জুটি। শুভকামনা রইল দুজনের জন্যই।

    1. এমন মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ । ভালো লাগছে আপনাদের এমন ভালোবাসা পেয়ে । আমি মিথুন দুজনেই অত্যন্ত খুশী আপনাদের এমন ভালোবাসায় ।

        1. ইশ চা আমি বানাবো কেনো? আপনি তো সুন্দর চা বানিয়েছেন দেখছি, আপনিই বানাবেন চা, আর মিথুন বানাবে টা। সময় স্থান জলদি বলে দিন।

  2. এমন স্বপ্ন স্বপ্ন সুখ সুখ স্মৃতিতেই থেকে যাবে তা কিন্তু হয় না ।
    চা খাই না , এখন মনে হচ্ছে খাওয়ার অভ্যেস থাকলে মন্দ হত না ।

  3. আপনাদের দুজনের ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ হচ্ছি
    এত আবেগ দিয়ে লিখছেন , প্রকাশ করছেন ভালোবাসাকে
    সুন্দর , কোমল একেই বলা যায় ।

    দোয়া করছি আপনাদের জন্য
    আপনাদের ভালোবাসা দীর্ঘজিবি হোক ।

  4. এহেম!!! একা একা চা,পুডিং আর বার্গার খেয়েছেন আবার কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা ছবিও দিয়েছেন 🙁
    যেভাবে লেখায় আবেগ ছড়াচ্ছেন, আপনাদের দুজনকে যেনো আমরাও দেখতে পাচ্ছি. কাজলের টিপ দিলাম। জোড়ি সহি সালামত রাহে। শুভ কামনা অনেক।

  5. এদেখি আধুনিক যুগের লাইলি মজনু । আপনার লেখা সব পড়তে হবে তো । আবেগকে কত সহজ ভাবে লিখে দিলেন । (y)
    আপনাদের দুজনের জন্য -{@ -{@ দুটো ফুল ।

  6. কত সহজে লিখে ফেললেন এমন আবেগি লেখা । এমনি ভাবে ভালোবাসায় ডুবে থাকুন আজীবন ।
    ইয়াহু , স্কাইপিতে আমিও আছি , কিন্তু কেউ এলোনা আমার জীবনে , যাকে নিয়ে এমন লেখা লিখতে পারি ;(

  7. তা আমার চা টাও তুমি খেয়ে ফেললে? 🙂
    পুডিং মজাদার হয়েছে না বললে তোমার রক্ষা আছে? বানাতে কস্ট হয়নি বুঝি?
    লেখা ভালো হয়েছে (3

মন্তব্য করুন