দেশের জন্য আজ লজ্জিত!!!


দেশের জন্য আজ লজ্জিত
————-সীমা সারমিন

চারিদিকে শুধু ভয় আর ভয়, এই বুঝি ককটেল এসে পড়লো নিজের উপর , এই বুঝি বিস্ফোরিত হল হাতবোমা, এই বুঝি পরে গেলাম দাঙ্গা হাঙ্গামা বা ভয়ংকর কোন গণ্ডগোলের মাঝে।

চলছে হরতাল ও অবরোধ ডাকার পাল্টা-পাল্টি কার্যক্রম। ছেলে ফিরতে পারছে না মায়ের কাছে, মানুষ ফিরতে পারছে না প্রিয়জনদের কাছে, বাবা-মা তার সন্তানদের কাছে। মারাত্মক রোগে আক্রান্ত গুরুতর রোগী রোগ নিরাময়ের জন্য যেতে পারছে না দূরবর্তী কোন ভালো হাসপাতালে যেখানে গেলে সে কিছুটা হলেও রোগ মুক্ত হয়ে বাঁচতে পারবে আরও কিছুদিন, দেখতে পারবে পৃথিবীর আলো।

প্রিয় মানুষ গুলো অনেক ঝামেলায় পরে আছে তাদের সাহায্যের দরকার, যেতে পারছে না- করতে পারছেনা সাহায্য। মা, বাবা, নানু, দাদু অথবা এমন কারো মৃত্যুতে হৃদয় ফেটে যাচ্ছে কিন্তু দেখা হল না শেষ মুখ খানি, যেতে পারছেনা কবরে একমুঠো মাটি দেওয়ার জন্য।

সহস্র মানুষের অজস্র রক্তের বিনিময়ে যারা অর্জন করেছে আমাদের দেশের স্বাধীনতা, তারা কি জানতো যে এক সময় এমন হবে- নিরীহ মানুষ গুলো তাদের দোষ না জেনেই জীবন হারাবে শুধু স্বার্থান্বেষী কিছু মানুষের স্বার্থের লড়াইয়ের জন্য, ক্ষতিগ্রস্থ হবে মারাত্মক কোন বিষয়ে।

আজ আমি অনেক লজ্জিত, নিজ দেশের জন্য নয়, নিজ দেশের কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের জন্য যাদের জন্য প্রতিনিয়ত ভয় নিয়ে বাঁচতে হয়, হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয় ঘরের মাঝে, যেতে পারা যায় না আত্মার সাধ মেটানোর জন্য নিজের মানুষ গুলোর কাছে।

মোট পড়েছেনঃ ৭৮২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২০টি মন্তব্য

  1. সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে আপনার এমন চিন্তা দেখে ভালো লাগলো
    চারপাশের এমন ঘটে যাওয়া বিষয় আমরা উপেক্ষা করতে পারিনা কোন ভাবেই
    উপেক্ষা করা উচিৎও নয় আমাদের ।

    শুভ কামনা ।

  2. প্রতিদিন বাসায় ফোন দিই ঠিকমতো বাড়ি ফিরলো তো সবাই ..
    ঘরেও নিরাপদ নেই..
    এই লজ্জার দায়ভার আমাদের ই..
    ভালো লেগেছে আপনার লেখা আপু.

    1. কেউ তো শুনবে না , আর আমাদের ও কিছু করার থাকবে না।
      কিন্তু আমরা চেষ্টা করতে পারি প্রত্তাক্ষ ভাবে না হলেও পরক্ষ ভাবে অন্তত আত্মার শুদ্ধি বা শান্তির জন্য।

  3. আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড়ো হয়ে কাজে বড়ো হবে

    এমন একজন ছেলের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া মনে হয় আমাদের কিছু করার নাই 🙁

মন্তব্য করুন