হাড় কঙ্কাল (পর্ব দুই)

দালান জাহান ১০ মে ২০২৩, বুধবার, ০৪:৪৩:৫১অপরাহ্ন উপন্যাস ২ মন্তব্য

কিন্তু এই মোতালেব কিন্তু মোতালেব ছিলো না। মোতালেব ছিলেন বাসু কুমার দেব। এর ও একটা সামান্য ইতিহাস আছে। তার বাবা সুন্দর কুমার দেব।

বাসুদেব ছোট থেকেই একরোখা কোথাও হারমানে না সে যদি তা যৌক্তিক নাও হয়তবুও সে যৌক্তিক করে তুলতে চায়। সে যা চায় তাই করে করেই ছাড়ে। এজন্য পরিবারে তার গ্রহন যোগ্যতা নেই। একটা আচমকা টর্নেডোর মতো পরিবারে তার আতংক কাজ করে।  বাসু কুমার তখন এস এস সি পরীক্ষা দিয়েছেন। মার্চ মাসে রেজাল্ট হলো। বাসুদেব বাজার থেকে দুই কেজি মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে আসেন। সবাই খুশি বাসু কুমার এসএসসিতে জি পি এ ফাইভ পেয়েছেন। কিন্তু সুন্দর কুমার খুশি না। সে গুজবে বিশ্বাস করে কিন্তু বাসুদেবকে বিশ্বাস করে না।

কিন্তু কিছুদিন পর জানা গেল বাসু কুমার এস এস সি পাশ করেননি। বরং বাবা মায়ের সাথে প্রতারণা করেছেন। এতসব যন্ত্রণা ক্ষোভে এমন প্রতারক ছেলেকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন তার বাবা সুন্দর দেব। বাসুদেব ও অপমান যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে আসেন। পাশবর্তী গ্রামে ফুফুর বাড়িতে আশ্রয় নেন।

গ্রামটা জল আর বৃক্ষ দিয়ে আচ্ছাদিত। হাওর ও বিলের কালো পানিতে পুঁটি মাছ লাফায়। রাতে জেলেরা ছোট ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে জাল পাতে মাছ ধরে এবং সকালে তা ঘাটে নিয়ে আসে। বাসুদেব মাছের ঘাটে যায় তার মাথা কিলবিল করে  কিছু একটা করতে চায় হাত পা মোচড়ায়।  সে কিন্তু কী করবে! তার কাছে তো টাকা পয়সা নেই। কিন্তু সে ঠিক করে কিছু একটা অবশ্যই করে ছাড়বে।

 ঘাটের পাড়ে টং দোকানদার কৃষ্ণ । বয়স প্রায় ষাট। একসময় সেও মাছ ধরতেন কিন্তু এখন ধরে না। শরীরে বল কম তার ছেলেরা এখন মাছ ধরে। আর সে ঘাটে বসে পান বিড়ি বিক্রি করে।

বাসুদেব কৃষ্ণের দোকানে বসে এবং একটি ডার্বি সিগারেট ধরায়। কৃষ্ণ বলেন “তুমি সুন্দর বাবু’র ছেলে না”? বাসু হতচকিত হয়ে উত্তর দেয় জি কাকা।

বাসু কুমার চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনে মুহুর্তের একটা বৃত্তান্তে তার মাথায় কতোগুলো প্রশ্নের চারা গজায় সেগুলো বড়ো হয় ফল দেয় এবং সে তা হাতে তোলে নেয়। টাকা কৃষ্ণের কাছ থেকেই নিবে বলেই সে মনে মনে পণ করে।

কৃষ্ণের  সাথে সখ্যতা করে সকাল সন্ধ্যায় দোকানে এসে বসে থাকে এবং অবশেষে কৃষ্ণকে বুঝিয়ে পাঁচ হাজার টাকা সুদে নেয়।  তারপর মাছ পাইকারি কিনে বাজারে বিক্রি করে টাকা পায় ব্যবসা জমে উঠলে কৃষ্ণের টাকা ফেরত দেয় বাসুদেব । এর কিছুদিন পর পাশেই একটা জায়গা কিনে

ঘর করে এবং মাছ শুকিয়ে বিক্রি করা শুরু করে। এতে তার মুনাফা আরও বাড়ে। লোক নিয়োগ দিয়ে ব্যবসা বড়ো করে বাসুদেব। এবং জেলায় জেলায় শুটকি সাপ্লাই শুরু হয় তার। 

এর কিছুদিন পর পালসার মোটরসাইকেল কিনে মোতালেব। এখন মোটরসাইকেলেই ঘাটে যায় বাজারে যায় এবং আড়তে যাওয়া আসা করে।

 

২৯১জন ২৫৯জন
0 Shares

২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ