আজ সবচেয়ে শ্রেয় মৃত্যু

খাদিজাতুল কুবরা ৯ মে ২০২৩, মঙ্গলবার, ০১:০৫:০০অপরাহ্ন চিঠি ৩ মন্তব্য

প্রিয় অনিমেষ!

তুমি কি জানো? এই মাত্র পেলাম আমার মৃত্যুর খবর। অবাক হচ্ছ না পাগল ভাবছ?

আজ তুমি যা খুশি ভাবতে পারো। আমার সাবেক মৃতদেহ যখন প্রিজার্ভড হওয়ার আগে জেগে উঠেছিল ফরেনসিক রুমে। তুমি তা নিজ চোখে দেখেছ। দেখেছ মৃত্যুর ওপার থেকে জেগে উঠার আনন্দ কত তীব্র! আমি স্বপ্ন দেখেছি কেউ একজন কপালে একটা চুমু খেল। তাতেই ঢেউ খেলে গেলো মৃত সমুদ্রের জলে। অগণন ঢেউয়ের ঝাপটায় তুমি জানতে চেয়েছিলে, “আমি কোথায়? এই ফরেনসিক ল্যাব স্বর্গের নহর হল কি করে?” আমার কাছে এই প্রশ্নের জবাব না থাকলেও ছিল অবিমিশ্র অনুভব! নিঃশব্দে প্রকৃতি দুটো নিঃসঙ্গ আত্মাকে ভৌত জড় জীবন থেকে মুক্তি দিয়েছিল। তুমি জানো আজ আমি সত্যি সত্যি মরে গেছি। কয়েকশো বোল্টের শক আমাকে বাঁচতে দেয়নি। যদি প্রমাণ চাও তাহলে বলব আমার কবিতার খাতা ঘেঁটে দেখো সেখানে কোনো নতুন কবিতার লাইন নেই। তুমিই বলো এই প্রহসন হতে চলল আমার নাকের ডগার উপর দিয়ে। অথচ আমি নির্বিকার। মরে না গেলে আমিতো গলা ফাটিয়ে কাঁদতাম। তোমার ক্লিষ্ট মুখের দিকে তাকিয়ে লিখে ফেলতাম শ’খানেক বেদনার কাব্য। অথচ দেখো আমি বাচালের মতো বকে চলেছি। এসব কি আমায় মানায়? কোনো একদিন তুমি বলেছিলে, আমি নাকি ‘কবি ‘। আমার মৃতদেহ কেউ খাটিয়ায় তোলেনি কেউ তাকবীরে তাহরীমা পাঠ করে কবরস্থ করেনি। তবে কি আমায় শকুনে খাবে ঠুকরে ঠুকরে? বেওয়ারিশ লাশের সাথে এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে? ভালো থেকো অনিমেষ!  আমার অনিমেষ! জানোত শকুন জঞ্জাল খেয়ে প্রকৃতিকে দূষণ মুক্ত করে। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে ওদের অধিকারের বিষয়টি উত্থাপন করো। যেন আর কোনো লাশ সৎকারের অভাবে ওদের খাবারে পরিণত না হয়। শত হোক মানুষকে মানুষের মত শেষ সম্মান জানাতে হয়। মৃত্যুকে ছাপিয়ে গেছে সকল যতিচিহ্ন তাই এ চিঠি অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে বহমান কালধরে। না আমি তোমার জন্য ইতি টানতে পারব না তুমি তা গ্রহণ করতে পারবে…….। ডট ডট ডট টেনে একদিন কাছে টেনেছ আজ পাঠিয়েছ দ্বীপান্তরে। এটাই সই থাকুক তা কেমন করে মেনে নিই বলো তাই মৃত্যুই আজ সবচেয়ে শ্রেয়!

৪০৫জন ৩৫১জন
0 Shares

৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ