হারিয়ে যাচ্ছে যে সব প্রাচীন ঐতিহ্য—২


হারিয়ে যাচ্ছে যে সব প্রাচীন ঐতিহ্য—২

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী উরুন-গাইন/ডাইল-চিয়া বিলুপ্তির পথে

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীন বধূদের পছন্দের উরুন-গাইন/ডাইল-চিয়া ও ঢেঁকির ঢুং-ঢাং শব্দ আর শোনা যায় না। কালের বিবর্তনে এখন বিলুপ্তি প্রায় এ দুটি সরল যন্ত্র। আজ থেকে ২০-২৫ বছর পূর্বেকার কথা গ্রামীণ জনপদে গৃহবধূরা উরুন-গাইন /ডাইল-চিয়া ও ঢেঁকির মাধ্যমে ধান ভাংতো, চালের আঠা বানিয়ে নানান ধরনের পিঠা-পুলি বানাতো। এখন ওইসব গ্রামীণ জনপদে আর দেখা মিলছে না উরুন-গাইন /ডাইল-চিয়া ও ঢেঁকির । ঢেঁকি ও উরুন-গাইন দুটিই সরল যন্ত্র। এ দুই এর কাজও এক। বর্তমানে ঢেঁকি দেখা গেলেও দেখা মিলছে না উরুন-গাইনের।
>>এখনকার প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা আর কিছুদিন পর উরুন-গাইন/ডাইল-চিয়া কি জিনিস এবং এ দিয়ে কি কাজ হতো তা জানবে না ।

>>আগে গ্রামের মানুষেরা বড় বড় গাছ-পালা কাটার পর চিন্তা করতো ওই গাছের মুড়াটা তুলে একটা ভালো মানের উরুন /ডাইল বানাতো এবং ভালো শক্ত সোজা ডাল থেকে একটা গাইন/চিয়া তৈরী করতো।

>>আজ আর এসব চোখে পড়ে না। আগের দিনে বিয়ে-সাদী হলে মেয়ের বাপের বাড়ী থেকে স্বামীর বাড়িতে উরুন-গাইন /ডাইল-চিয়া দেয়া হতো এবং ওইগুলো দিয়ে গৃহবধূরা ধান ভাঙ্গিয়ে চাউল এবং চাউলের আঠা বানিয়ে পিঠা-পুলি তৈয়ার করতো।

আর এখনকার গ্রামীণ বউ-ঝিঁরা ধান ভাংগাতো দূরের কথা চাউলের আঠা তৈয়ার করার জন্য বিদ্যুৎ এর মেশিনে নিয়ে যায়। এখন সবকিছু বিদ্যুতের সাহায্যে চালিত মেশিনে করা হয়। তাই উরুন-গাইনের প্রয়োজন নেই। শীত মওসুম এবং পার্বনগুলোতে দিন-রাতে গ্রামীণ বধূদের উরুন-গাইন/ডাইল-চিয়া -এর ঢুং-ঢাং শব্দ এখন আর নেই বললেই চলে। সবমিলিয়ে গ্রাম বাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী উরুন-গাইন/ডাইল-চিয়া এখন বিলুপ্তির পথে।
তেমনি ঢেঁকি চাঁটা চাল ও আর করে না গৃহ বধূরা। সব যে বিদ্যুৎ মেশিনেই করা হয় অল্প সময়ে অল্প শ্রমে।

মোট পড়েছেনঃ ১,৫৮৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১০টি মন্তব্য

  1. ভাইয়া লেখাটা পড়তে অনেক কষ্ট হয়েছে, শব্দগুলোর মাঝে স্পেস না থাকাতে… উরুন গাইন নামটা জানা ছিলো না …দেখতে খুব ভালো লাগতো উরুন গাইন দিয়ে কাজ করা, তবে করতে অনেক কস্টকর 🙂

      1. একদম সহজ । লেখার বিষয় বস্তুর উপরেই শিকলের মত একটি ছোট বক্স আছে , ওখানে ক্লিক করুন , লিংক দেয়ার একটি বক্স আসবে, তাতে http লেখাটি মুছে , যে লিংকটা দিবেন কপি পেস্ট করে দিন । হয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন