মোরগউদ্দিনের দুঃখ সুখ

0000381_-deshi-chicken_300
আমি মোরগউদ্দিন। দেখুন আমি মুরগিখাতুনদের চেয়ে কত সুন্দর। আমার একটি ঝুটি আছে। আমার পালক গুলো কত রঙিন আর আকর্ষনীয়। আমার পালক দিয়ে প্রাচীন সমাজে রাজা রানীরা মুকুট বানিয়ে মাথায় দিত। সে এক রাজকীয় ব্যাপার স্যাপার। পক্ষান্তরে দেখুন মুরগিখাতুনদের অবস্থা। কোন রং নেই এদের।কেমন একটু কুঁজো, শাদামাটা। আমাদের যে কোন প্রজাতির মধ্যেই এই অবস্থা দেখতে পাবেন। নারীর তুলনায় পুরুষ সুন্দর।

কিন্তু এই সমাজ আমাদের যথাযথ সন্মান দেয় না। দোকানে গিয়ে সবাই বলে, মুরগির ডিম দেন।মনে হয় ডিম পাড়ায় আমাদের কোন ভূমিকা নেই!! এখানে আমাদের পিতৃত্বের কোন মূল্যই দেয়া হয়না। অথচ মনুষ্য সমাজে কেউই তার মায়ের পরিচয়ে পরিচিত না। সব কিছুতে তার পিতার নাম। হে মানব জাতি, নিজেরা সবাই পিতৃ পরিচয়ে ব্যকুল হয়ে আমাদের বেলায় এই অবিচার কেন করো? তবে আমি আন্তরিক ভাবে বিশ্বাস করি, মানব সন্তানের পরিচয় মা কেন্দ্রিক হওয়া উচিৎ। বর্তমানে যেমন নামের পরেই পিতার নাম আসে, মাতার নাম থাকে পরে, এটি উল্টো হওয়া উচিৎ।

বাসায় আজ কি কি রান্না করলেন? কি দিয়ে ভাত খেলেন?
উত্তর আসে- মুরগির মাংস/গোস্ত
হোটেলে অর্ডার দিবেন- এই এক প্লেট মুরগির মাংস দাও।
আমাদের কথা কেউ বলেননা। আমাদের আত্মত্যাগ আমাদের বলিদানের কোন মূল্যই নেই। কেউ বলেনা মোরগের মাংস; (আমরা কি তাহলে খাবারের অযোগ্য কোন জীব? আমরা মোরগ হয়ে নিজেদের কুরবান করে মানুষদের বাঁচিয়ে রাখছি না? তবে কেন আমাদের স্বীকৃতি নেই? কেন কেন কেন? ;(
আমাদের যদি মাংস হিসেবে জবাই করা না হয়, তবে কি করা হয় আমাদের? বুড়ো হয়ে মরে যাই আমরা? উদাহরন আছে এমন?

আমাদের আনন্দ এবং আশার আলো আছে একটি মাত্র ক্ষেত্রে।
কি পোলাও খেলে? কি পোলাও রান্না করছেন?
উত্তরে এসে যায়- মোরগ পোলাও  🙂
এখানে মুরগি খাতুনদের কোন প্রবেশাধিকার নাই। এমনকি একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন মোরগ পোলাও রান্না করেন তখন তা সংবাদ হয়ে যায় দেশ বিদেশের সংবাদ মাধ্যমে  \|/
0,,16981795_303,00
বোনাস হিসেবে পড়ুন অসাধারণ একটি কবিতা ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের  একটি মোরগের কাহিনী

# কি সব লেখি আমি। কিছু কি আছে এই লেখার মাঝে? আছে কিছু একটা, খুজে নিন, প্রিয় ব্লগারগণ -{@

মোট পড়েছেনঃ ৯৯৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৫৭টি মন্তব্য

  1. শুধুমাত্র বলিদানেই পুরুষের স্বীকৃতি, তাইতো সজু ভাভুসোনা, নাকি এখন থেকে মোরগউদ্দিন? দিনে দিনে আপনার লেখার ধার দেখছি আর অবাক হচ্ছি। কি নিয়ে লিখছেন না তাই ভাবছি।
    মুরগীর ডিম বলাতে আসলেই তীব্র প্রতিবাদ। মোরগউদ্দিন এবার আপনি একটু ডিম পেড়ে দেখান তো।

    1. ‘ শুধুমাত্র বলিদানেই পুরুষের স্বীকৃতি’ আপনি মেধাবী এটি আর নতুন করে বলতে চাইনা আপু -{@ লেখায় মুল ফোকাসটা সঠিক স্থানেই করেন।এর আশেপাশেও কিছু আছে অবশ্য 🙂
      মুরগীর ডিম পাড়ায় মোরগের কি কোন ভূমিকা নেই? আচ্ছা মানুষের বেলায় বলা হয়না কেনো এই ছেলেটি শূন্যের ছেলে? 🙂 আমাদের প্রতি কেনু এই অবিচার?

      1. মানুষের বেলায় বলেনা কে বললো আপনারে? পোলায় কোন অকাম করলেই পোলার বাপে বলে, তোমার পোলা এইটা করছে, অইটা করছে 🙁
        ভূমিকার কথা জানতে চেয়ে লজ্জা দেবেন না, আপনি বরং আপনার ঝুটির রহস্য বলুন, কি শ্যাম্পু ব্যাবহার করেন?

        1. নারীদের সাথে তর্কে জিততে পারবোনা আপু,তাই স্যারেন্ডার।আমার ওস্তাদেও আমার মান ইজ্জত ডুবিয়ে দিল 🙁 শ্যম্পুর কথা বলি আর তা মুরগিখাতুনদের বলে দেন আপনি 🙂 উহু এটি বলবো না।

  2. এই লেখার মাঝে আমি একটা জিনিস খুঁজে পাইছি, ইউরেকা ইউরেকা। আমার খুব মোরগ পোলাউ খাইতে মন চাইতেছে।
    কবিতাটা আমার ভীষন প্রিয় সজু ভাই।

  3. আপনার লেখায় একটি বিষয় উঠে এসেছে তা হলো মোরগদের খুব দূর্বিষহ দুর্দিন চলছে।
    মোরগদের ত্যাগ তীতিক্ষায় কোন দাম ই কেউ দিতে চাচ্ছে না।

        1. ওস্তাদ এই লাইনটি দেখলেন না? 🙁 ” তবে আমি আন্তরিক ভাবে বিশ্বাস করি, মানব সন্তানের পরিচয় মা কেন্দ্রিক হওয়া উচিৎ। বর্তমানে যেমন নামের পরেই পিতার নাম আসে, মাতার নাম থাকে পরে, এটি উল্টো হওয়া উচিৎ। ”

  4. এমনিতেই মোরগউদ্দিন আর সজীবউদ্দিন দের তেমন কোন কাজ থাকেনা। খায় দায় ঘুমায় আর প্রেম করে। তার উপর যদি সন্তানের পিতৃ পরিচয় দিতেও নারাজ হও তবে তোমরা বাতিলের খাতায়,,,,, :p

  5. “তারপর সত্যিই সে একদিন প্রাসাদে ঢুকতে পেল,
    একেবারে সোজা চলে এল
    ধব্‌ধবে সাদা দামী কাপড়ে ঢাকা খাবার টেবিলে ;
    অবশ্য খাবার খেতে নয়
    খাবার হিসেবে।”
    দারুন খেতে এই লাইনগুলো। 🙂

  6. আমার মনে হয় আপনার লেখার আসল বক্তব্য হচ্ছে
    ** হে মানব জাতি, নিজেরা সবাই পিতৃ পরিচয়ে ব্যকুল হয়ে আমাদের বেলায় এই অবিচার কেন করো? তবে আমি আন্তরিক ভাবে বিশ্বাস করি, মানব সন্তানের পরিচয় মা কেন্দ্রিক হওয়া উচিৎ। বর্তমানে যেমন নামের পরেই পিতার নাম আসে, মাতার নাম থাকে পরে, এটি উল্টো হওয়া উচিৎ।**

    অনেক দিন ভাবছি কথাটা বলি আপনাকে,কেন জানি আপনাকে নারী মনে হয় আমার।
    কেন এটি মনে হয়,তার ব্যাখ্যা আমি দিতে পারবো না।
    ভালোই রম্য লিখতে পারেন আপনি
    শুভ কামনা রাশি রাশি।

    1. লেখার মুল ফোকাসের মাঝে এটিও একটি। জিসান ভাইয়া এটি কি বললেন? আমি মেয়ে?দুঃখে আমার মাথার চুল ছিরে ফেলতে ইচ্ছে করছে এখন ^:^ ^:^ 🙁

  7. অসাধারন একটা লিখা। সজীব ভাই দেখি রম্যকার হয়ে যাচ্ছেন দিনদিন, বাহ, সঙ্গী পেয়ে ভাললাগছে।

    লিখাটা চমৎকার, বিশেষ করে মায়ের পরিচয়ের ব্যাপারটা। এই ক্ষেত্রে আমাদের দেশ বেশ এগিয়েছে, এখন কিন্তু সবখানে মায়ের নাম বাধ্যতামূলক, যদি কেউ ভুল করেও না দেয়, তবে তাঁর আবেদন সাথে সাথে বাতিল তা যত গুরুত্বপূর্ণই হোক না কেন।
    শুভকামনা নিরন্তর জানবেন সজীব ভাই।

  8. মোর্গাউদ্দীনের দুঃখ থেকে শুরু করে সুখে এসে থেমেছে।

    ‘শেষ ভাল যার সব ভাল তার’- অতএব মোর্গাউদ্দীনের কোন দুঃখ নেই :D)

  9. সুকান্তর কবিতা আমার খুব ভালো লাগে। বেঁচে থাকলে আজ কতো কিছুই যে পেতাম আমরা।

    যাক সুকান্ত নয়, ব্লগার সজীবের মোরগের সুখ-দুঃখের কথা নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি। হে সহ-ব্লগার-ব্লগারীনিগণ আমি এইবার যাহা কহিতে আসিয়াছি, উহা মন দিয়া শুনিবেন। কে কে মোরগের ঠ্যাং খান? যাহারা ঠ্যাং খান তাহাদের মন দিয়া শুনিবার কিছু নাই। আর যাহারা খাননা, তাহাদের কিছু কহিবার মতো ভাষা খুঁজিয়া পাইতেছি না। কারণ হাসিতে হাসিতে কাশিতে হইতেছে। পেটে বেদনা লহিয়া কি করিয়া কহিব?

    এইবার তাহা হইলে আসি। পরবর্তীতে আবারও হাসাইবার চেষ্টা করিবো। নিজের হাসি থামাইয়া। চলি \|/

    ভাভু বাইয়া 😀 :D)

  10. কাউকে তো বলিদান হতেই হবে?
    এতদিন মা হয়েছে
    এখন বাবাকে করতে চান !

    ভালই কারাপের কি?
    পরিচয় হোক না জেকন নামেই কর্মে আসুক আপনার মত দুরদান্ত ফর্মে।

  11. ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি অনেক দেরীতে মন্তব্য বা পড়ার জন্য।মোরগউদ্দিনের আকাল পরেছে,যে ভাবে মোরগীর ঐক্যতার সংখ্যা বাড়ছে তাতে এই সোনেলায় মোরগের দশা শেষ।
    সব মিলিয়ে ভাল পোষ্ট সাথে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর রান্নার ছবি সহ বর্ননা জবাব নেই -{@ -{@

  12. ফান এর মাধ্যমে কিছু বলা,এটি খুব ভালো লাগে আমার। সন্তান পরিচিত হোক মায়ের পরিচয়ে।’বলিদানেই পুরুষের স্বীকৃতি’ কথাটি শিখলাম ভাইয়া।

  13. সোনেলাতে যারা নতুন, তারা কি মোরগের ঠ্যাং পাবে?
    লেখকের জন্য সামান্য খবর – পশ্চিমা অনেক দেশের জন্ম নিবন্দনে মায়ের নামটা প্রথম থাকে। অনেক সময় বাবার নামই থাকেনা।
    অনেক ভাল একটা লেখা।

    1. ঠ্যাং,বুক সবই পাবেন নতুনেরা।’ পশ্চিমা অনেক দেশের জন্ম নিবন্দনে মায়ের নামটা প্রথম থাকে। অনেক সময় বাবার নামই থাকেনা ‘ …… এটি জেনে ভালো লাগলো ভাইয়া।এমনই হওয়া উচিত।ধন্যবাদ আপনাকে।আমার এই ক্ষুদ্র ব্লগে স্বাগতম আপনাকে -{@ -{@ -{@

মন্তব্য করুন